Posts

Showing posts from 2026

মহাবলী

মহাবলি অসুরকুলের ইতি, করে সাধ্যকার। নরসিংহ হস্তে মৃত হিরণ্যকশিপু তাঁর পুত্র প্রহ্লাদই নিলে রাজ্যভার  কপট কৌশল মনে  হিরণ্যকশিপু। ভক্তির যে বীজ ছিল প্রহ্লাদ হৃদয়ে  ছিল, তারই উত্তরাধিকার বহন করেছিলেন তাঁর পুত্র বিরোচন এবং বিরোচনের পুত্র মহাবলী। বিরোচনের দানের খ্যাতিও কম ছিল না—এক পুরাণকথায় আছে, ইন্দ্র বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশে তাঁর কাছে এসে তাঁর মস্তকই দান হিসেবে চেয়েছিলেন, আর বিরোচন বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের মাথা দান করেছিলেন। সেই বংশেই জন্ম নিলেন মহাবলী। শুক্রাচার্যের নির্দেশে মহাবলী বিরাট যজ্ঞ সম্পন্ন করলে যজ্ঞাগ্নি থেকে তাঁর জন্য আবির্ভূত হয় দিব্য রথ, অশ্ব, ধনু ও অস্ত্র; প্রহ্লাদ তাঁকে দেন অবিনশ্বর মালা, আর শুক্রাচার্য দেন শঙ্খ। সেই শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মহাবলী দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল—তিন ভুবনের অধিপতি হয়ে উঠলেন। ইন্দ্র সিংহাসনচ্যুত হলেন, আর দেবতারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে পালিয়ে, লুকিয়ে লুকিয়ে দিন কাটাতে লাগলেন। দেবতাদের এই দুর্দশা দেখে দেবমাতা অদিতির হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। তিনি স্বামী কশ্যপের শরণ নিলে কশ্যপ তাঁকে নারায়ণের আরাধনা এবং পয়োব্রত ...

স্বর্গ সভা

স্থান— স্বর্গসভা। কালভৈরব, যমরাজ ও যুধিষ্ঠির বসিয়া আছেন। নারদ— নারায়ণ! নারায়ণ! প্রভু, মর্ত্য হইতে এমন খবর আনিয়াছি—শুনিলে আপনারও ভ্রূদ্বয় নাচিয়া উঠিবে! কালভৈরব— উপহাস না করিয়া বলিয়া ফেল। নারদ— এক মহা সনাতনী নেত্রী রবীন্দ্র সরোবর হইতে কুকুর তাড়াইবার হুমকি দিয়াছেন! যমরাজ— কেন? কি হইল? নারদ—  কুকুর কেন পটি করিবে—ইহাতেই উনি চটিয়াছেন! কালভৈরব—  তোমার কথা আমি ঠিক বুঝিতে পারিলাম না। মহা সনাতনী নেত্রী কি পটি না করিয়াই বাঁচিয়া রহিয়াছেন? নারদ—  সে খবর যমরাজই জানেন! আপাতত সরোবরের চারিধার পটিমুক্ত করিবার চিন্তা। ভবিষ্যতে রাস্তাঘাটও তালিকায় আসিতে পারে! কালভৈরব—  আমার বাহন লইয়া এইরূপ অবজ্ঞা? আমার বাহনের অপরাধ—পটি? নারদ—  হাঁ প্রভু। মনুষ্যকুল প্লাস্টিক, বোতল, আবর্জনা ফেলিলে উহা পরিষ্কার করিয়া লইতে পারিবেন। কিন্তু, কুকুর পটি করিলেই উনি বেজায় রাগ করেন! যুধিষ্ঠির— আমি তো স্বর্গের দরজায়ও কুকুরটিকে ত্যাগ করি নাই। আর মর্ত্যে কুকুরের পটি দেখিয়াই ধর্মের ধ্বজাধারীদের এত রাগ! কালভৈরব—  ইহারা আমার বাহনকে তাড়াইয়া সনাতন ধর্ম রক্ষা করিবে? নারদ—  শাস্ত্রে হয়তো...

খান্ডব বন

🔥🌳 মহাভারতে এমন এক বন ছিল, যেটি স্বয়ং অগ্নিদেব দহন করতে চেয়েছিলেন… কিন্তু ইন্দ্র বারবার সেই বনকে রক্ষা করছিলেন কেন? 🌳🔥 সেই বনের নাম ছিল—খাণ্ডব বন। কাহিনিটি সেই সময়ের, যখন অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণ যমুনার তীরে খাণ্ডব বনের কাছে অবস্থান করছিলেন। তখন তাঁদের সামনে এক তেজস্বী ব্রাহ্মণের বেশে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, তাঁর প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে এবং এমন খাদ্য তিনি চান, যা তাঁর ক্ষুধা সম্পূর্ণরূপে নিবৃত্ত করতে পারে। শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন—তিনি আসলে কী ধরনের খাদ্য চান? তখন সেই ব্রাহ্মণ তাঁর প্রকৃত রূপ প্রকাশ করলেন। তিনি কোনো সাধারণ ব্রাহ্মণ ছিলেন না—তিনি ছিলেন স্বয়ং অগ্নিদেব। 🔥 অগ্নিদেব জানালেন, রাজা শ্বেতকি দীর্ঘকাল ধরে এমন এক যজ্ঞ করেছিলেন, যেখানে অবিরাম বিপুল পরিমাণ ঘি আহুতি দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত ঘি গ্রহণের ফলে অগ্নিদেবের শক্তি প্রভাবিত হয়েছিল এবং নিজের স্বাভাবিক শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর খাণ্ডব বন দহন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্যত্র। যখনই অগ্নিদেব খাণ্ডব বন দহন করার চেষ্টা করতেন, তখনই ইন্দ্র প্রবল বর্ষণ করে তাঁর আগুন নিভিয়ে দিতে...

দ্বারকা

সমুদ্রের বুকে স্বপ্ননগরী দ্বারকা মথুরার আকাশে তখন যুদ্ধের কালো মেঘ। মগধরাজ জরাসন্ধ একের পর এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে চলেছেন যদুবংশের রাজধানী মথুরা। প্রতিবারই শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের নেতৃত্বে যদুবংশীয়রা শত্রুর মোকাবিলা করছেন। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। নগরীর ঘরে ঘরে আতঙ্ক, রাজপথে উদ্বেগ, আর প্রতিটি ভোরে মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—আজ কি আবার যুদ্ধের দামামা বাজবে? শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারছিলেন, শুধু শত্রুকে পরাজিত করলেই হবে না। যদুবংশের মানুষকে এমন এক নিরাপদ আশ্রয় দিতে হবে, যেখানে তারা যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে দূরে থেকে নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে পারবে। এমন একটি নগরী, যা হবে দুর্ভেদ্য, সমৃদ্ধ এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। একদিন রাজসভায় তিনি বলরাম ও যদুবংশের প্রবীণদের সামনে নিজের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করলেন। “মথুরা আমাদের জন্মভূমি, আমাদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নগরীর প্রতিটি পথ, প্রতিটি প্রান্তর। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হলে এমন একটি আশ্রয় খুঁজতে হবে, যেখানে শত্রুর আক্রমণ সহজে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের সন্তানরা যেন যুদ্ধের শব্দে নয়, পাখ...

বিশ্বকর্মা

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পরম রূপবতী কন্যার নাম ছিল সংজ্ঞা। কোনো কোনো পুরাণে তাঁকে ‘সমজ্ঞা’ বা ‘সন্ধ্যা’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকর্মা তাঁর কন্যার বিবাহ দেন নবগ্রহের অধিপতি সূর্যদেবের সঙ্গে। কিন্তু তখন সূর্যদেব ছিলেন তাঁর পূর্ণ তেজে ভাস্বর। তাঁর শরীর থেকে নির্গত উত্তাপ ও আলোকরশ্মি ছিল এতটাই প্রবল যে, তাঁর দিকে সরাসরি তাকানোও প্রায় অসম্ভব ছিল। বিয়ের পর স্বামীর গৃহে এসে সংজ্ঞা সেই অসহনীয় তেজের মুখোমুখি হলেন। স্বামীকে ভালোবাসলেও তাঁর উত্তাপ ক্রমশ সংজ্ঞার শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে তুলতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমন দিন এল, যখন সূর্যদেবের দিকে সরাসরি তাকানোও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু স্বামীকে ছেড়ে চলে যেতেও তাঁর মন সায় দিচ্ছিল না। তাই সংজ্ঞা এক আশ্চর্য উপায় অবলম্বন করলেন। নিজের শরীর থেকেই তিনি সৃষ্টি করলেন নিজের অবিকল এক ছায়া-রূপ। তার নাম দিলেন—ছায়া। সংজ্ঞা ছায়াকে নির্দেশ দিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন সে সূর্যদেবের সেবা করে, তাঁর গৃহ সামলায় এবং সবচেয়ে বড় কথা—নিজের আসল পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না করে। এরপর সংজ্ঞা চলে গেলেন দূর উত্তর কুরু দেশে। কিন্তু সেখানেও নিজের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয় ছি...

biswakorma

আদি ইঞ্জিনিয়ার কথন- বড়ো লেখা। ♥️ আজ ভাদ্র মাসের শেষ দিন, বিশ্বকর্মা পুজো। কিন্তু কে এই বিশ্বকর্মা? আজকের দিনে আমাদের চোখে বিশ্বকর্মা মানেই কারখানা, লোহার যন্ত্রপাতি, মেশিন, গ্যারেজ কিংবা দোকানের সরঞ্জাম। অথচ এই পরিচয় তাঁর প্রকৃত সত্তার একেবারেই সামান্য অংশ। বিশ্বকর্মা আসলে নির্মাণের মহাশক্তি—সৃষ্টি, পরিকল্পনা, পরিমাপ, স্থাপত্য, প্রযুক্তি ও রূপদানের যে চেতনা, তারই দেবতাত্মক প্রতীক। সেই অর্থে তিনি আমাদের আদি ইঞ্জিনিয়ার, আদি স্থপতি, আদি নির্মাতা। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, অষ্টম বসু প্রভাসের ঔরসে এবং বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধার গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম। তাঁকে সহস্র শিল্পের উদ্ভাবক, দেবতাদের স্থপতি, অলংকারনির্মাতা, শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং দেবতাদের রথের নির্মাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলার লোকবিশ্বাসে আবার তাঁর প্রাচীন নাম ত্বষ্টা ছিল—পরবর্তীকালে পিতামহ ব্রহ্মার দ্বারা ‘বিশ্বকর্মা’ উপাধিতে ভূষিত হন বলে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। প্রাচীন বৈদিক পরম্পরায় ত্বষ্টা ও বিশ্বকর্মাকে অনেক সময় একই দেবশিল্পী-তত্ত্বের দুই নাম বা রূপ হিসেবে বোঝা হয়েছে; পরবর্তী পুরাণপরম্পরায় সেই ত্বষ্টাই আবার পৃথক সত্তা হ...

memento

অঙ্কুরীশা শারদীয় সংখ্যা ১৪৩৩  তুলসী জানা স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ প্রাপক-   কবি ও সাহিত্যিক সুনীল মাজি  স্থান - কন্টাই টাউন রাখাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠ ( উ:মা:) তারিখ- ২ রা অক্টোবর ২০২৬

zen-g

মায়াবী চোখ বাবরি চুল আলো ছড়ায় নীল রঙের  সব জানে জ্ঞান ভরপুর। স্বপ্ন অনেক ঘুমহীন রাতে সকাল বেলায় ঘুম আসে দশ এগার যাবে কতদূর। কথা বলার সময় নেই মোবাইল হাতে   পথে পথিক আমি তাই।  তুমি কি জানো  কতটা গভীর এই আলো।  মায়াবী চোখ  আমাকে টানে প্রতিদিন  হারাই আমি তার গহীনে  তোমার চোখে স্বপ্নের ছোঁয়া। চাঁদের আলো ছুঁয়ে যায় হৃদয় তোমার চোখে বাঁধা এক পৃথিবী হয়  তারার মেলা নেমে আসে নিচে  তোমার চোখে ভাসে এক সুখী মিছে।  তুমি কি শুনো  হৃদয়ের কথা এক নিমিষে।

স্মৃতি পুরস্কার ১৪৩৩

অঙ্কুরীশা শারদ সম্মান ১৪৩৩ দীপক বেরা  তাহিমুর রহমান কবি ও শিক্ষক গৌতম রায় রেনুকাবালা মণ্ডল স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ সৌমিত বসু বিকাশ চন্দ মাননীয়জয়শ্রী সরকার তুলসী জানা স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩   মান্যবর  সুনীল মাঝি   মান্যবর   হরপ্রসাদ সাহু মান্যবর কবি দুর্গাদাস মিদ্যা  করুণারাণী ধল দাস স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ কথা সাহিত্যিক শ্রী তপন বন্দ্যোপাধ্যায় শরৎচন্দ্র মণ্ডল স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ পরম শ্রদ্ধেয় ড. পবিত্র সরকার মান্যবর কবি অদীপ ঘোষ গন্তব্যে পোঁছানোর নির্দেশিকা : হাওড় ও দীঘাগামী বাস / মেদিনীপুর ও কাঁথিগামী বাসে খড়গপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে পূর্ব দিকে ২ মিনিট হাঁটা পথ। অথবা  দীঘা ট্রেনে কাঁথি স্টেশনে নেমে অটোতে ৫ মিনিট  কণ্টাই টাউন রাখাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠ।

সৃষ্টি

যেথায় পৃথিবী ছিল মনোহর বেশে। নেই স্থল নেই বন, অনন্ত নিবাসে। পরিপূর্ণ জল আর অন্ধকারে ঢাকা। ওম ওম শব্দ ওঠে ঘোরে মহাচাকা। অগ্নিচক্র হতে তার ঝরে পড়ে ওম। চক্রে অবস্থান করে মহাপূণ্য ক্রম। দিব্য এক মহাতেজ জ্যোতির্ময়ী দেবী। সেই দিব্য ওম এক ছিন্ন করে দেবী। সৃষ্টি হয় কালদর্শী পুরুষ মহান। দেবী তাঁরে দিলে শক্তি সরসী সমান। মুগ্ধ হই রূপ রসে দেখি পঞ্চশির। দেবীরে দেখিল দেব হইয়া অধীর। চার হস্ত দিব্য জ্যোতি অমল অধরে। মহা অন্ধকার কাটে যেন তারে ঘিরে। কহে ধীরে দিব্য জ্যোতি কহ মহাশক্তি কে আমি কেন এ মহা আরক্ত আসক্তি। কিবা কর্ম আছে হেথা আঁধার অকূলে। দেখি যে বিচিত্র শোভা শৈল আর জলে। হেথায় পৃথিবী কেন অকূল সলিলে। ভীষণ সমুদ্র ত্রাস শব্দের কল্লোলে। শুনি কহে মহাশক্তি স্বয়ম্ভুত আমি। সেই শক্তি কেন্দ্রীভূতে জন্ম নিলে তুমি। অপার জলের মাঝে নিদ্রা গেছে জ্ঞানী। অগাধ সলিল মাঝে ওম ওম ধ্বনি। অপার জলের মাঝে সৃষ্টি হবে জেনো। নিদ্রায় রয়েছে দেব অনন্ত সমুদ্রে। নাভি হতে পদ্ম ফুটে, ব্রহ্মা মহাভদ্রে। চিন্তায় মদিত হয়ে, রসের সাগর। কেমনে রচিবে সৃষ্টি, পৃথিবীর পর। নারায়ণ নিদ্রা যায়, অতি অপরূপ। উথলে ভাবুক দেব কেন রয় চুপ। মে...

উত্তম কুমার

১৯৪৮-১৯৫৫ দৃষ্টিদান (১৯৪৮) কামনা (১৯৪৯) মর্যাদা (১৯৫০) সহযাত্রী (১৯৫১) ওরে যাত্রী (১৯৫১) নষ্টনী ড় (১৯৫১) সঞ্জী বনী (১৯৫২) বসু পরি বা র (১৯৫২) কা র পা পে (১৯৫২) সা ড়ে চুয়া ত্তর (১৯৫৩) নবী ন যা ত্রা (১৯৫৩) লা খ টা কা (১৯৫৩) বউ ঠা কুরা ণী র হা ট (১৯৫৩) সদা নন্দে র মে লা (১৯৫৪) ওরা থা কে ওধা রে (১৯৫৪) মনে র ময়ূর (১৯৫৪) মরণে র পরে (১৯৫৪) মন্ত্র শক্তি (১৯৫৪) কল্যা ণী (চলচ্চি ত্র) (১৯৫৪) গৃহপ্রবে শ (১৯৫৪) চাঁ পা ডা ঙ্গা র বৌ (১৯৫৪) ব্রতচা রি ণী (১৯৫৪) বকুল (চলচ্চি ত্র) (১৯৫৪) বি ধি লি পি (১৯৫৪) অনুপমা (১৯৫৪) অন্নপূর্ণা র মন্দি র (১৯৫৪) অগ্নি পরী ক্ষা (১৯৫৪) সাঁ ঝে র প্রদী প (১৯৫৫) উপহা র (১৯৫৫) শা প মো চন (১৯৫৫) হ্রদ (চলচ্চি ত্র) (১৯৫৫) সবা র উপরে (১৯৫৫) কঙ্কা বতী র ঘা ট (১৯৫৫) রা ইকমল (১৯৫৫) দে বত্র (১৯৫৫) ১৯৫৬-১৯৬০ ত্রি যা মা (১৯৫৬) শ্যা মলী (১৯৫৬) শি ল্পী (১৯৫৬) [৩] শঙ্কর না রা য়ণ ব্যা ঙ্ক (১৯৫৬) সা হে ব বি বি গো লা ম (১৯৫৬) সা গরি কা (১৯৫৬) রা ত-ভো র(১৯৫৬) পুত্রবধূ (চলচ্চি ত্র) (১৯৫৬) নবজন্ম (১৯৫৬) লক্ষহী রা (১৯৫৬) একটি রা ত (১৯৫৬) চি রকুমা র সভা (১৯৫৬) জী বন তৃষ্ণা (১৯৫৭) [৩] অভয়ে ...

বস্তির ছেলেটা

বস্তির ছেলেটা  দেবপ্রসাদ জানা বস্তির ছেলেটা এখন রাতের গভীরে কাঁদে। গভীর অন্ধকারে এক চিলতে আলোর খোঁজে  হৃদয়ের গভীরে লুকানো ব্যথারা,  কথাতে কথা খুঁজছে; পাষাণ চাপা বুক, উন্মুক্ত হতেই চাইছে  অব্যক্ত যন্ত্রণা ! হাজারো গল্পের কালো ছায়া বস্তির ছেলেটার। মানকোচুর ভেতরে মুখ চুলকানোর রস। তার মুখ বেয়ে পড়ে। অগ্নি সাক্ষী করা জীবন সাথীর বিধ্বস্ত অন্তর-- প্রতারণায় করেছে ধ্বংস। তবু ছেলেটা চলে, জীবনের সাথেই  মদ গাঁজা হেরোইন কিংবা চোলাই  ছুঁতে পারেনি কখনো তবু চরিত্রহীন কুৎসিত মন বাকি সব গুণ বা অ-গুণ সবই আছে। ছেলেটা  বিশ্বস্ততার - অনু অংশ। তবু অসভ্য, ভীষণ রাগ, অত্যাচারী  সে নির্দ্বিধায় বাবা মায়ের অপমান সহ্য করে। সে একান্তে কাঁদে একান্তে একনিষ্ঠে কাজ করে ভালোবাসা চায়,  বিভেদে সে সংজ্ঞাও মেলে না; স্বপ্নের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে  বোধের তালা খোলে না ! কাউকে পরোয়া করেনি সে, রেল লাইনের ধার থেকে -  স্বপ্নের অট্টালিকায় অকল্পনীয় সংসার। মহাভারত বা রামায়ণ অস্ত্র দিয়ে হয়নি - হয়েছে বাক্যবাণে - দ্রৌপদীর সেই উক্তি "অন্ধের ছেলে অন্ধ" মন্থরার কুযুক্তি, ...

6 year

> সেবা, মমতা ও করুণার প্রতিমূর্তি - সেবিকা করুণারাণী ধল দাস > ৬ষষ্ঠ  মৃত্যুবার্ষিকীতে আমার ও পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জল স্থল নভস্থল সকলি অমল। ফুটেছে কমল কাশ গ্রহ তারাদল। তুমি নেই পাশে আজ জীবন অচল। অর্ধ জাগরিত অর্ধ জড়িত তন্দ্রায়। ছয়টি বছর কাটে যে বিনা নিদ্রায়। তুমি হীন ঘরে বাস কোন্ সুখ তায়। গোলাপি শাড়ির সাথে সেবার ব্যাগ। জেনেছি তোমার সে স্বার্থহীন ত্যাগ। ছুটে যেতে হাসপাতালে সকাল সকাল। করুণা নামের স্বার্থকতা রেখেছ বহাল। অপরের ব্যথায় কাঁদতে তুমি গোপনে। কত মায়ের  কোলে তুলে দিলে  সন্তানে। কত রোগীর হাসি এনে দিলে জীবনে। তুমি সেবিকা, ঘরের লক্ষ্মী জননী প্রভা। দু-হাতেই সামলাতে সংসার আর সেবা। তোমার ছবির দিকে চেয়ে কাটে দিবা। আজ সেই সংসার বড় শূন্য লাগে মোর। তোমার স্মৃতিতে প্রদীপ জ্বেলে আনি ভোর। ছয় বছরে স্মৃতির আবেশে দিয়েছ সাথ। ২০২০ সালের ৭ই জানুয়ারির কালো রাত। চলে গেলে বিধাতার কাছে সব মায়া কাটিয়ে। মমতায় ভুলিয়ে চলে গেলে স্নেহবাক্য কয়ে। তোমার জন্য  আজও প্রতি বছর এই দিনে, কেমনে বর্নিব আমি স্বর্গকথা স্মৃতির বিহনে। বালিচকের আকাশে, ঘননীল আভায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের ...

শকুন্তলা

শকুন্তলা নরোত্তম  নারায়ণ, দেবী সরস্বতী। নমস্কার করে করি জয় উচ্চারণ। মহর্ষি শৌনক নামে পৃথি  কুলপতি। নৈমিষারণ্যে বার্ষিক যজ্ঞ আয়োজন।  পুরাণকথক  সৌতি, এলেন সেথায় লোমহর্ষণের পুত্রে কহে  দ্বিজগণ। কোথা হতে আসিয়াছ যাইবে কোথায়? শান্ত চিত্তে বসো হেথা, তোমার আসন। মনোরম কণ্ঠে কহে পুরাণ কথক। রাজর্ষি জনমেজয় করে সর্পযজ্ঞ। কৃষ্ণদ্বৈপায়নরচিত কাহিনী রোচক। বৈশম্পায়নের  মুখে অতীব মনোজ্ঞ। পরীক্ষিৎ-সুত, কহে ওহে মুনিবর। দুষ্মন্ত -রাজার কথা শুনিব এখন। পুরাকালে মহারাজা, তার বংশধর। কেমন ছিলেন তিনি, করুন বর্ণন। চরাচরগুরু সেই হৃষীকেশ হরি। প্রনমিয়া তাঁরে আমি, ব্যক্ত করি হেথা। সর্বাগ্রে স্মরণ করি, হরি নাম করি। ব্যাসপ্রোক্ত সেই গীতি আর পুণ্যকথা,  দুষ্মন্ত নামেতে রাজা জগতে বিদিত। ধর্মতে পৃথিবী পালে, দুষ্টেরে সংহারে। তাঁহার মহিমা কথা ভারতে বন্দিত। বসুন্ধরা ভোগ করে  আসিয়া  সংসারে। মহা পরাক্রান্ত রাজা রূপগুণবন্ত। বীর পরাক্রমী রাজা  মহাধনুর্দ্ধর। পৃথিবীতে একচ্ছত্র করিল দুষ্মন্ত। মৃগরাতে সদা রত, শিকার বিস্তর। মৃগয়া করিতে গেলে, বনের ভিতর। শত হস্তী পদাতিক শত সৈন্য ...

নারী

দেখ হিন্দু-পরিবার, স্নেহ ঘরে ঘরে। কি কলহ অনিবার, কুণ্ঠিতা কমলা,  কাছে নাহি যান ডরে  বিবাহের পরে !! বনিতার ইচ্ছা যাহা, কেবল উতলা। মাতার অপ্রিয় তাহে, বিপদ-বিস্তর। ডোবে গিন্নি-অশ্রু-জলে, মাতৃরোষানলে,- হিত না বলেন পিতা, বিবাদে ভ্রাতায়! গৃহী পেয়ে পরিতাপ, "নারী কিবা বলে। রে মূঢ়! কাতর কেন থাকিতে উপায়?- খেদ ছাড়, যত্ন করো  ললনা-শিক্ষায়। কোথা শিক্ষা ললনার, হৃদয় গ্রহণ তার! কোথা দ্রুত ধেয়ে গিয়ে কেশ আকর্ষণ! সুমধুর শব্দ সহ, কোথা পাঠ নীতিবহ! কোথা চটচট চৰ্ম্ম-পাতৃকা পতন!

অপারেশন

অপারেশন দেবপ্রসাদ জানা সাতদিন অসম্ভব যন্ত্রণা  রাতের বাতাস যেন অক্সিজেন হীন  জানালার গ্রীল গুলো অদৃশ্য পাঁচির তুলে দিয়েছে। একটু বাতাস চাই, বিশুদ্ধ বাতাস। যে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি। ওষুধের গন্ধে ভরে আছে দশ বাই দশের ঘর। আমি হ্যাঁ করে আছি একটু বাতাসের জন্য। বুকের ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে যন্ত্রণা। হ্যাঁ অক্সিজেন, অম্লজান।  এ প্রাণ দায়ী বায়বীয়,  তত্ত্বগত ভাবে অসীম ক্ষমতার অধিকারী তা। ভেতর থেকে একটা কিছু বেরিয়ে আসতে চাইছে  পারছে না। বায়বীয় কিছু - এ এক সশস্ত্র লড়াই অমরত্ব লাভের। ঠিক মুখের ওপর একটা কৃত্রিম সূর্য ঠিক তার নিচে আমি রঙিন দুটো হাত এগিয়ে আসছে,  একটা প্রশ্ন করলো না দেখা মুখটা বলল বসুন সোজা হয়ে,  পিঠের ঠিক মাঝখানে শিরদাঁড়ায় পিন ফোটা বেদনা,  চোখ তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম না কিছু। তবু ওরা বলল চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ুন। পায়ের আঙুল গুলো নাড়তে পাচ্ছি না। বুকের পাঁজরের ঠিক নীচে, একটা চাপ অনুভব করছি। কিছু বুঝতে পারছি না কেন,  আর নড়তে ইচ্ছে করছে না। না নড়তে পারছি না। আমার অজান্তে বাইরের লাল বাতিটা জ্বলে গেলো নিশ্চয়।

ভবঘুরে আত্মা

ভবঘুরে আত্মা দেবপ্রসাদ জানা একটা ভবঘুরে আত্মা এসে জোর করে  ভেতরে ঢুকে গেলো। তখনো আমি শরীর থেকে পুরোপুরি বেরোয়নি। মৃত্যু দূত তখনও আমাকে খেলাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝে ভরা শরীরটা থেকে আত্মাটাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিলো মৃত্যুদূত। আর সেই মুহূর্তে ঢুকে গেলো ভবঘুরেটা। ঈশ্বর, ওই যার নাম কৃষ্ণ, কানাই,  গোপাল আরো কত-কি সে যাই হোক, তার নাভি থেকে যার জন্ম তার নাম  ব্রহ্মা। তার নাকি আজ কাল বড় আলস্য। কাজ পত্র ঠিক করে না। হাতে যে বেদ গুলো ছিল, তাও হারিয়ে গেছিল একবার। তাহলে বলুন আমাদের কি দোষ?  আমার শরীরটাকে যদি কেউ চুরি করে,  কি করার আছে,  সেতো নয় হলো, শরীরটা চুরি হলো, তবুও কিচ্ছু বললোনা যমদূত,  আত্মাটা একটা মুচকি হেসে, হাতের দুই আঙুলে  একটা ইসারা করলো,  আরে ঘুষ, ঘুষ দিয়ে শরীরটা নিয়ে নিলো, আমি একটা প্রতিবাদও করতে পারলাম না। কোটি কোটি বছর ধরে একটা লোক  হিসাব কষছে, বয়সের গাছ পাথর নেই,  এখনও আমি ঘুরছি আমার দেহের আশেপাশে। ঘরের ভেতরে ভীষণ কান্নাকাটি। চোখ মেলেছে ভবঘুরে আত্মাটা,  এবার হয়তো উঠে বসবে,  কে একজন দেখতে পেয়ে বলল...

যমুনা তীরে

"যমুনাতীরে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের মধুর বাল্যলীলা  দ্বাপর যুগের এক অপরূপ সকাল।  বৃন্দাবনের আকাশে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। যশোদা মাতা ও রোহিণী মাতা পরম স্নেহে দুই ভাই—শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। আজ দুই ভাই তাঁদের সখাদের সাথে গভীর বনে গো-চারণে (গরু চরাতে) যাবেন।যাওয়ার আগে মায়েরা তাঁদের সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। শ্যামবর্ণ কৃষ্ণের পরনে জড়ানো হলো উজ্জ্বল হলুদ ধুতি (পীতাম্বর), গলায় দুলিয়ে দেওয়া হলো সুগন্ধি বুনো ফুলের মালা, আর মাথায় গোঁজা হলো তাঁর প্রিয় ময়ূরের পালক। অন্যদিকে, গৌরবর্ণ বলরামকে সাজানো হলো নীল রঙের বসনে ও সুন্দর অলঙ্কারে। বনে যাওয়ার জন্য তাঁদের হাতে দেওয়া হলো রাখাল লাঠি, বাঁশি আর মহিষের শিং দিয়ে তৈরি শিঙা (শিং দিয়ে তৈরি এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র)। ♦মায়েরা পরম যত্নে দুই ভাইয়ের পোটলাতে সুস্বাদু মাখন ও মিষ্টি খাবার বেঁধে দিলেন। এরপর শ্রীদাম, সুদাম, সুবল ইত্যাদি গোপবালকদের সাথে নিয়ে কৃষ্ণ-বলরাম তাঁদের বিশাল গরুর পাল নিয়ে বনের দিকে রওনা হলেন।হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌঁছালেন যমুনার তীরের এক মনোরম উপত্যকায়। চারপাশে ঘন সবুজ ঘাস, পাহাড়ি ঝরনা থেকে ঝরে পড়া শীতল জল আ...

মৃত্যু

মৃত্যু ও  মৃত্যুর উৎপত্তি মৃত্যু কিন্তু মৃত্যু হতে চায়নি কখনো। তবু নিয়তি তাঁর নাম দিয়েছে মৃত্যু।  নিয়তি কে? স্বয়ং কমলযোনি ব্রহ্মা। যিনি আমাদের আগামীর বাহক। পুত্রশোকাকূল অকম্পন নৃপতির শোক দেখে,  দেবর্ষি নারদ তাঁকে  ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন------ পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রজাকূল সৃষ্টি করে বেশ প্রসন্নই ছিলেন #ব্রহ্মা।  সকলের নিয়তিতে সুখ লিখছেন আর মেতে আছেন শুধু সৃষ্টিতে।  বিনাশ, সংহার এই শব্দ গুলো তাঁর কাছে তখন অপরিচিত।  কিন্তু মাতা বসুধা ভারাক্রান্ত ক্লিষ্ট বদনে যেদিন সামনে এসে দাঁড়ালেন, সত্য দর্শন হল ব্রহ্মার।  অসহায় ব্রহ্মা নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।  তাঁর ভয়ঙ্কর তেজে আকাশ হতে অগ্নি নির্গত হয়ে ধরাকূলের সমস্ত প্রাণী, জড়কে বিনষ্ট করতে শুরু করল। পৃথিবী যখন প্রায় ভষ্মিভূত স্বয়ং মহাদেব প্রজাকূলের রক্ষা হেতু ব্রহ্মা কে ক্রোধ সম্বরণ করার অনুরোধ জানালেন। তখন সেই অগ্নিতেজ ব্রহ্মা নিজের মধ্যে সমাহিত করে সৃষ্টি করলেন এক নারীর।  কৃষ্ণ, লোহিত, পিঙ্গল ত্রিবিধ রং  মিশ্রিত সে নারী, রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু ও বিবিধ ভূষণে সজ্জিত হয়ে ব্রহ্মা ও মহেশ্বরের দক...

লক্ষ্মণা

দুর্যোধনের তনয়া সুমতি লক্ষ্মণা।  অতীব সুন্দরী কন্যা আর  গুণবতী।  সদা থাকে হাসিখুশি নাইকো তুলনা। ভগবান ‎শ্রীকৃষ্ণের পত্নী  জাম্ববতী। তার প্রিয় পুত্র সাম্ব  তিনি লক্ষ্মণাকে পছন্দ করতেন।  এদিকে ‎দুর্যোধন লক্ষ্মণার স্বয়ংবরের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সাম্ব বীরের মতো স্বয়ংবরের ‎মাঝখানে উপস্থিত হয়ে লক্ষ্মণাকে বলপূর্বক হরণ করে নিয়ে গেলেন। ‎ ‎এই ঘটনা দেখে কৌরবরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন।  দুর্যোধন, কর্ণ এবং আরও ছয়জন মহারথী ‎সাম্বকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়লেন।  সাম্ব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের পুত্র ছিলেন,  তাই বীরত্বে ‎তিনি কোনো অংশেই কম ছিলেন না।  তিনি একাই সেই ছয়জন মহারথীকে নাজেহাল করে দিয়েছিলেন। ‎ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে কোনোভাবে তাঁকে বন্দী করলেন এবং লক্ষ্মণাকে তাঁর থেকে ‎আলাদা করে দিলেন। ‎ ‎এই পুরো ঘটনার কথা দেবর্ষি নারদ দ্বারকায় গিয়ে যাদবদের জানালেন। শুনে তাঁরা প্রচণ্ড ‎রেগে গেলেন এবং কৌরবদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন। ঠিক সেই সময় বলরামজি ‎সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যাদবদের শান্ত করে বোঝালেন যে, এভাবে হুট করে যুদ্ধ শুরু ‎করা উচিত নয়। তিনি ন...

সীতার বিলাপ

সীতার বিলাপ মহাকাব্যে বনপর্বে ঋষি মার্কেন্ডয়। শ্রীরামের লীলাপ্রীতি অতি সুধাময়। ত্রেতাযুগে  যুধিষ্ঠিরে করিল বর্ণন। ধর্ম ভয়হীন এক, পাপিষ্ঠ রাবণ। দশানন জানকীরে করিল হরণ। মহাভারতের কথা কহিব এখন। তাহাতে বিশ্বাস যদি করো হে রাজন। সুস্থ শিষ্ঠ ভাবে কই, ওহে প্রাণধন। সাধুবেশে ভিক্ষা মেগে, হৃদয় রঞ্জন। সীতাকে হরণ ক'রে, দুষ্ট দশানন। লঙ্কার অশোক বনে রাখিল তাহাকে। রাক্ষসীরা খাবে তাই, কহিল সীতাকে। ভয়ঙ্কর রাক্ষসীর কড়া পাহারায়। শ্রীরামে বিচ্ছিন্ন হয়ে, আমি মৃতপ্রায়। মেরে ফেলো খেয়ে ফেলো কহিল জননী। নির্বাসিত পতি মোর, তবু ছিনু রানি। কি ছার আমার এই অসার জীবন। প্রাণত্যাগ করি যদি, কি হবে এখন। পিতৃ ঘরে ছিনু আমি পিতার দুলালী। স্বামী ঘরে রাজরানী, স্বামী মহাবলি। রাহুগ্রস্ত পরিবার, হলো দেশান্তরী। নির্বাসিত মোর স্বামী, হয় বনচারী। প্রজ্বলিত দুখানল দুই চক্ষে ঝরে। হাসি মুখে  স্বামী সঙ্গ, ধরি তার করে। শশধরে যথা রাহু, করেছেন গ্রাস। গ্রহণ লাগিল মোর, এমনি প্রকাশ। সাধু বেশে দুরাচারী, হরণ করিল। দৈত্য দানবের মাঝে আমারে ফেলিল। কি জানি কি ভেবে মোরে রাখিল এখানে। প্রৌঢ় অপরাধ করে, ক্ষমি কি কারণে। নানা ছদ্মবেশ ধরে,...

ধৃষ্টদ্যুম্ন

ধৃষ্টদ্যুম্ন ঋষিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে  দ্রোণ ও পাঞ্চালরাজ প্রষতের পুত্র। একসাথে বিদ্যাচর্চা, বন্ধুত্বের প্রেমে। আবেগে দ্রুপদ কহে আমি রাজপুত্র। প্রতিশ্রুতি দিনু আজ, তোমার আদরে। রাজা হয়ে, সম্পদ ও সুখের অর্ধেক  ভাগ করে দিবো যেন, রইলো বিচারে। দ্রোণকে একথা কহে, শুনিল প্রত্যেক। কতই সোহাগ করে বসি দুজনায়। সমুজ্জ্বল শান্তিময়, ঋষির আলয়ে। ম্রিয়মাণ রবি ছবি, ভুবন জাগায়। অস্ত্র, বিদ্যা ধর্মশিক্ষা, সকল বিষয়ে। মনের মধুর জ্যোতি, উছলে নয়নে। শিক্ষা শেষ হলে পরে, বিদায় চাহিয়া। বিলোচন ছল ছল করে সেইক্ষণে। অরণ্য পুরিল বুঝি, কাতরে কাঁদিয়া। দ্রুপদ হইলো রাজা, বসে সিংহাসনে। অন্যদিকে দ্রোণ হেথা, চরম দারিদ্র্যে। তাঁর পুত্র অশ্বত্থামা, চায় মুখ পানে। দুধের বদলে তারে, ফেন দেয় ভদ্রে। আননে বচন নাই, নয়নে পলক। দুঃখের সাগর যেন, উছলে ক্ষুধায়। যতই সান্ত্বনা করে, মন্দ বলে লোক। কাতর হয়েছে প্রাণ, মনের ব্যথায়। অস্ত্র যার কথা শোনে, বিদ্যা শিক্ষা প্রাণ। তাঁর ঘরে চাল নাই, নাই কোনো ঘর। পথে পথে দোরে দোরে, ভিক্ষা মেগে খান। অশান্ত নীরব দ্রোণ, ভাবিল বিস্তর। বাধ্য হয়ে দ্রোণ যায়, পাঞ্চাল সভায়। বাল্যবন্ধ...

সুর্পনক্ষা

রাক্ষসী শূর্পনখা আহা রে পুরুষবর বহে স্নিগ্ধ সমীরণ। কে গো এই বনবাসি, জটাজুট কেশ রাশি ওহো, এই হৃদিরাজ্যে প্রেম করে আগমন। চন্দ্রপ্রভা চোখের পলকে, ঝরে পড়ে শশী। মজেছি তোমার ধ্যানে, আমি প্রেম অভিলাষী। তোমার চোখের দীপ্তি, অভিনব শান্তিরসে তব। নীরবে এই হরিণী কহে, তোরে ভালোবাসি। যতদিন প্রাণ রবে দেহে। তোমারই হয়ে রব। সবুজে তরুণ ঊষা, আনন্দে অধীর প্রাণ। রূপে মন ভরে রাখো, নিরখি কমলবনে। শূর্পনখার হৃদয় লাগে যে, রাম প্রেম বাণ। একাকী বনের মাঝে সুর্পনখা আনমনে। রাক্ষসী রূপের বাধা, দূর করে শূর্পনখা। অতীব সুন্দরী, শূর্পনখা, নারী রূপে জাগে।  অধরে প্রেমের হাসি, মিলনে মধুর সখা। প্রেমিকারহণে চলে যুবতী প্রেমপূর্ণরাগে।  ত্রিলোক বিজয়ী লঙ্কেশ্বর তাঁর আদরিণী। বলিহারি মদনের বাণ, অনল জ্বলিয়ে। বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে চলে যে বিনোদিনী  বনবাসী, কোথা হতে এলে ঘোর সমুদয়ে।  শান্ত স্নিগ্ধ তৃপ্তিময় প্রভা ভুলায় নয়ন। পদত্রাণহীন, এই ঘোর অরণ্য গভীরে। কি নাম তোমার বনবাসী, জ্বলন্ত তপন। তোমার তাপে মোর, প্রেম জাগে অন্তরে। এত রূপ ছিল কোন কুলে কার বংশধর। কথা হতে আসিয়াছ, কি নাম বলো উদাস। শ্রীরামের হাসি মুখ, যেন দ...