Posts

Showing posts from 2026

মহাভারতে রামায়ণ

মহাভারতের বনপর্বের এক অংশে ঋষি মার্কেন্ডয় যুধিষ্ঠিরকে ত্রেতাযুগে শ্রীরামের লীলা প্রসঙ্গে বহু কথা শোনান। এই কারণেই মহাভারতের বনপর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে রামায়ণের কিছু কাহিনীর উল্লেখ আছে। ঋষি মার্কেন্ডেয় যুধিষ্ঠিরকে বললেন, সীতাহরণের পর রাবণ মাতা সীতাকে লঙ্কার অশোক বটিকায় রেখেছিল। সেখানে বহু ভয়ঙ্কর রাক্ষসী দ্বারা মা সীতা পরিবেষ্টিত থাকতেন। এইসব রাক্ষসীরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করত যে তারা মা সীতাকে একদিন খেয়ে ফেলবে। তারা মা সীতাকে ভয়ও দেখাতো। কিন্তু মা সীতার এসবে কোনো ভয় উৎপন্ন হতো না মনের মধ্যে। একদিন মা সীতা কাঁদতে কাঁদতে সেই রাক্ষসীদের বললেন, তোমরা আমাকে খেয়েই ফেলো; শ্রীরামের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমি এমনই মৃতপ্রায়!  এইসব রাক্ষসীদের মধ্যে ত্রিজটা নামের এক রাক্ষসী ছিলো; সে ছিল ধর্ম প্রাণ এবং সত্যবাদী। রাক্ষসী হলেও সে ছিলো নারায়ণের পূজারী। তিনি মাতা সীতাকে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ বিরহে কাঁদতে দেখে খুবই কষ্ট পেলো এবং নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে সে মা সীতার কাছে এসে বলল, রাবণ কখনওই মা সীতাকে স্পর্শ করতে পারবে না; কারণ রাবণ অভিশপ্ত! রাবণ একবার নলকুবেরর স্ত্রী রম্ভাকে স্পর্শ করেছিলো, নলকুবের ক...

ধৃষ্টদ্যুম্ন

ধৃষ্টদ্যুম্ন ঋষিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে  দ্রোণ ও পাঞ্চালরাজ প্রষতের পুত্র। একসাথে বিদ্যাচর্চা, বন্ধুত্বের প্রেমে। আবেগে দ্রুপদ কহে আমি রাজপুত্র। প্রতিশ্রুতি দিনু আজ, তোমার আদরে। রাজা হয়ে, সম্পদ ও সুখের অর্ধেক  ভাগ করে দিবো যেন, রইলো বিচারে। দ্রোণকে একথা কহে, শুনিল প্রত্যেক। কতই সোহাগ করে বসি দুজনায়। সমুজ্জ্বল শান্তিময়, ঋষির আলয়ে। ম্রিয়মাণ রবি ছবি, ভুবন জাগায়। অস্ত্র, বিদ্যা ধর্মশিক্ষা, সকল বিষয়ে। মনের মধুর জ্যোতি, উছলে নয়নে। শিক্ষা শেষ হলে পরে, বিদায় চাহিয়া। বিলোচন ছল ছল করে সেইক্ষণে। অরণ্য পুরিল বুঝি, কাতরে কাঁদিয়া। দ্রুপদ হইলো রাজা, বসে সিংহাসনে। অন্যদিকে দ্রোণ হেথা, চরম দারিদ্র্যে। তাঁর পুত্র অশ্বত্থামা, চায় মুখ পানে। দুধের বদলে তারে, ফেন দেয় ভদ্রে। আননে বচন নাই, নয়নে পলক। দুঃখের সাগর যেন, উছলে ক্ষুধায়। যতই সান্ত্বনা করে, মন্দ বলে লোক। কাতর হয়েছে প্রাণ, মনের ব্যথায়। অস্ত্র যার কথা শোনে, বিদ্যা শিক্ষা প্রাণ। তাঁর ঘরে চাল নাই, নাই কোনো ঘর। পথে পথে দোরে দোরে, ভিক্ষা মেগে খান। অশান্ত নীরব দ্রোণ, ভাবিল বিস্তর। বাধ্য হয়ে দ্রোণ যায়, পাঞ্চাল সভায়। বাল্যবন্ধ...

সুর্পনক্ষা

রাক্ষ'সী শূর্পনখা আহা রে পুরুষবর বহে স্নিগ্ধ সমীরণ। কে গো এই বনবাসি, জটাজুট কেশ রাশি ওহো, এই হৃদিরাজ্যে প্রেম করে আগমন। চন্দ্রপ্রভা চোখের পলকে, ঝরে পড়ে শশী। মজেছি তোমার ধ্যানে, আমি প্রেম অভিলাষী। তোমার চোখের দীপ্তি, অভিনব শান্তিরসে তব। নীরবে এই হরিণী কহে, তোরে ভালোবাসি। যতদিন প্রাণ রবে দেহে। তোমারই হয়ে রব। সবুজে তরুণ ঊষা, আনন্দে অধীর প্রাণ। রূপে মন ভরে রাখো, নিরখি কমলবনে। শূর্পনখার হৃদয় লাগে, রাম প্রেম বাণ। একাকী বনের মাঝে সুর্পনখা আনমনে। রাক্ষসী রূপের বাধা, দূর করে শূর্পনখা। অতীব সুন্দরী মন্দাকিনী, নারী রূপে জাগে।  অধরে প্রেমের হাসি, মিলনে মধুর সখা। প্রেমিকারহণে চলে যুবতী প্রেমপূর্ণরাগে।  ত্রিলোক বিজয়ী লঙ্কেশ্বর তাঁর আদরিণী। বলিহারি মদনের বাণ, অনল জ্বলিয়ে। বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে চলে যে বিনোদিনী  বনবাসী, কোথা হতে এলে ঘোর সমুদয়ে।  শান্ত স্নিগ্ধ তৃপ্তিময় প্রভা ভুলায় নয়ন। পদত্রাণহীন, এই ঘোর অরণ্য গভীরে। কি নাম তোমার বনবাসী, জ্বলন্ত তপন। তোমার তাপে মোর, প্রেম জাগে অন্তরে। এত রূপ ছিল কোন কুলে কার বংশধর। কথা হতে আসিয়াছ, কি নাম বলো উদাস। শ্রীরামের হাসি মুখ, যেন দেখ...

এক দুরন্ত যাযাবর

এক দুরন্ত যাযাবর  জ্যোতির্ময় দাশ মধ্যযুগে ভেনিস দেশবাসীদের কাছে চীন বা জাপান যেমন রোমান্টিক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, আমাদের অনেকের কাছেই ভেনিস শহর তেমনই রোমান্টিক। আপনি যদি সেখানে পৌঁছেও যান, মনে হবে আপনি যেন এক স্বপ্নের দেশে উপস্থিত হয়েছেন। সূর্যালোকে উদ্ভাসিত প্রাসাদের বর্ণালী পাথরের গম্বুজ গুলো, পাতলা কাঠের মধ্যে ভঙ্গুর পাথরের খোদাই করা খিলানগুলো মনে হয় যেন কাপড়ের উপরে সৃষ্টি শিল্পের কাজ। আপনার নৌকা রিয়াদতো সেতুর নিচে দিয়ে যাবে যে সেতুর তলা দিয়ে শার্লক প্রায়ই যাতায়াত করতেন, ক্রমশ পথে পড়বে এক প্রাসাদ যেটি ডেসডিমোনা নামে খ্যাত। আর এক নিস্তব্ধ মাটির কাছে একটি সাইনবোর্ড চোখে পড়বে যাতে লেখা আছে মার্কোপোলোর বসতবাড়ি। ওহো মার্কোপোলো সচকিত হয়ে আপনি উপলব্ধি করবেন তিনি কোন রূপকথার চরিত্র নয় ভেনিসের এই প্রসিদ্ধ বণিক, এই জীবিত ব্যক্তি এক দুরন্ত যাযাবর, যার তুলনা পাওয়া যায় সারা বিশ্বে। তার অত্যন্ত রমনীয় ভ্রমন কাহিনীটি থেকে এশিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ পড়তে পাই। শতাব্দীর ভেনিস, জলপথে বাণিজ্যকরীদের কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে মার্কোপোলো যিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য...

সময়

সময় দেবপ্রসাদ জানা বড় অসহ্য লাগছে বিছানাটা  বিশেষ করে ভোর বেলার বিছানা যখন জানালা দিয়ে আলোরকনা গুলো - পরমাণু হয়ে, না না তারও প্রায় হাজার ভাগের একভাগ। ঘুমন্ত চোখের ওপর এসে পড়ে - মনে হয় এই বুঝি সময় চলে গেলো,  আরো একটাদিন, আরো কিছু সময় চলে গেলো। ভেতরে, শরীরের ভেতরে উৎকণ্ঠা। অসহ্য লাগে মখমলের নরম বিছানা। শরীরের লোম গুলোর সাথে শত্রুতা বাড়ছে, সাদা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ,  মাথার ওপরটা ফাঁকা হয়ে আসছে, একটা দুটো অতিরিক্ত বেগুনি রঙের কোষ, ফর্সা চামড়ার ওপর উঁকি দিচ্ছে, ভয় ভীষণ ভয় পাচ্ছি। চোখে পর্দায় সাদা প্রলেপ, অতিরিক্ত পলক পড়ছে,  যে দাঁত গুলো এতদিন মটর ভাজা - অনায়াসে চিবিয়ে দিত, কোনোটা কালো, কোনোটা অর্ধেক, আবার কোনোটা, জমি ধরে রাখতে পারেনি। ভেতরে পিত্ত থলিও ভীষণ কষ্ট দিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে। কোমরের শক্তি কমে গেছে ভীষণ কষ্ট দেয় বেশিক্ষণ বসতে পারে না। চোখের সামনে গঙ্গার ধারের আগুন দেখতে পাচ্ছে। সময় এসে গেলো বিদায় নেওয়ার।

রাম কেন

রাম কেন? দেব লোপ্রসাদ জানা বলো দেখি রাম কেন দশরথের মুখাগ্নি করেনি? বেশি দূরে নয় তো চিত্রকুট তবু কেন আসেনি? নগরে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল বটে। নদী ধারেধারে পথ ছিল অতি নিকটে। বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও, তারে কেন ডাকেনি? বহু বছর আগের কথা কহিব এক্ষণে রামায়ণ কাব্য নয়, মহা কাব্য মানে। কিবা দোষ ছিল তার কে করে তার বিচার কহিব সম্পূর্ণ কথা কহিব স্বজ্ঞানে। অন্তরীক্ষে যুদ্ধকালে দশরথ রাজা, বিপাকে পড়িলে  জটায়ু পক্ষী তবে পিষ্ঠে বহন করি,  তারে উদ্ধারিলে। মুগ্ধ রাজা দশরথ বলে কহ মনোরথ। কি পাইলে হবে খুশি, কহ পক্ষী,  কহ মন খুলে । হাসিল বিরাট পক্ষী, কহিল আনন্দ নয়নে। সব বর তুলে রাখো, নেবো পরের দর্শনে। তারপরে আরো কিছুদিন দিনে দিনে বেড়েছে ঋণ  চার পুত্রের জন্ম হলো, দশরথের অঙ্গণে। জটায়ুপক্ষী এলো দশরথের আমন্ত্রণে। পুত্র দেখে খুশি হয়ে করে আনমনে। প্রথম পুত্র দাও ওহে রাজন। প্রতিজ্ঞা আছে তো  স্মরণ। যুদ্ধ শেষে করেছিলে অধমের সনে। রাজা দশরথ ভাবে কথা দিয়েছিনু। কথা না রাখলে হই আমি শুদ্রাণু। লয়ে যাও পক্ষিবর ছেড়ে থাকা কষ্টকর বুকে প্রস্তর রাখি রাম তোমার দিনু। সেই ক্ষণে নারদ মুনি কহিলেন তবে অন্তর...

রথ টানে মা দুর্গা

রথ টানে মা দুর্গা  দেবপ্রসাদ জানা আষাঢ় মাসের শেষ নির্মল আলোক।  কৈলাস পর্বতে দেখি, অদ্ভুত ব্যস্ততা।  উৎসবের আয়োজনে, ব্যস্ত দেবলোক। মর্ত্য থেকে ভেসে আসে আনন্দ বারতা।  রথের চাকা যে আজ গড়াবে এবার।  জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রা ভগিনী। মর্ত্য অভিমুখে সবে হইবেন বার। রথে চড়ে সেজেগুজে, কঙ্কন কিঙ্কিনী। জানেন দেবতা সব, বুঝে বিচক্ষণ। ভাইবোন সুশোভন, অকলঙ্ক শশী। বাদ্য অলঙ্কার সহ, সুখ আস্বাদন। দিব্য ভাব ললনায়, তারা রাশি রাশি। অধরে অরুণ হাসি, নয়নে প্রভাতী। ভাবভরে মাতোয়ারা, কমল কানন। হিমাদ্রী শিখর পরে, অপরূপ জ্যোতি। কৈলাসের এক কোণে করে বিচরণ। মা দুর্গা আদর করে, পুত্রপুত্রি সনে। সুভদ্রা মায়ের বুকে, মাথা রেখে বলে। জগন্নাথ বলরাম না বসে আসনে। বড়ই দুষ্টুমি করে, মার আঁচল ধরে। যেন কেউ দেখতেই না পায় এখানে। দূর হতে সেই দৃশ্য, দেখেন শঙ্কর। মৃদু হেসে মহাদেব, আছে কি স্মরণে কাল যে রথযাত্রা, হওনি তৎপর। এগিয়ে এলেন "শিব, সহাস্যে বদনে। বললে, এখন কেন, তৈরি হতে বাকি। সময় চলে যে সদা, আপনার মনে। দিনক্ষণ গ্রহ তারা, ধীরস্থির নাকি। মা দুর্গা মুচকি হেসে, বললে এখন।  বলো দেখি কী করব, দু'জনের সা...

পরিবেশ

পরিবেশ চোর তাড়িয়ে ডাকাত এলো, ডাকাত তাড়িয়ে বন্ধু। পাড়ার মোড়ে আলোচনায় বিশ্ব জোড়া হিন্দু। হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, বলি কেমন করে। যে মুসলিম নিজের ঘরে বোনকে বিয়ে করে। ভাগ করলো দেশটাকে ধর্ম কাঁধে নিয়ে। একটা নিলো মুসলিমেরা  নোংরা ফেলা বন্ধ করো বলছে নগর মন্ত্রী। যা করে তাই বিরোধ করে সব ষড়যন্ত্রি । ফুটপাতে আর দোকান নেই, নেই নোংরা ঝুপড়ি। বুলডোজারের হালকা ঘায়ে গুড়িয়ে গেছে খুপড়ি। কাঠপাতার ঘর গুলো সব, উড়ছে হালকা হাওয়ায়। বুড়ো বুড়ি বাচ্চারা সব বসেছে গাছ তলায়। সাধারণের হাঁটার পথে আর হবে না বাধা। পুজোর পরের ফুল গুলো, নিজের কাটা সবজি গুলো। বাড়িতে আনা প্লাস্টিক। গুছিয়ে রাখো ঠিক ঠিক। নর্দমায় ফেলো নাকো

"এ আই"

"এ আই" দেবপ্রসাদ জানা ধরার এই মাঝে আমি, সামান্য এক মানুষ। উন্নয়নের পৃথিবীতে, এক উড়ন্ত ফানুস। কালানল সম আগুন। কেড়ে নিচ্ছে ফাগুন। এসেছে এ আই, বুঝি বুদ্ধি হারাচ্ছে মানুষ। ভয়ানক ভাবের প্রভাব উড়ছে আকাশে। প্রকট বিকট মূর্তি এক, দেখিছে বাতাসে। মোবাইল হাতে সব। নাই কোনো কলরব। ভীষণ কালাগ্নি পোড়াবে বিষাক্ত নিশ্বাসে। কলম গেছে, খাতা গেছে, চলে গেছে বই। বন্ধু বান্ধব গেছে সব, নেই কোনো সই। কৃত্রিম যদি সব হয় বুদ্ধিমান কেমনে কয়। তার মাঝে আন্তরিক ভালোবাসা কই? এসেছে ইলেক্সা আর সিরি নামক যন্ত্র হারিয়েছে ঠাকুমা দাদুর জীবনের মন্ত্র। সদ্যোজাত শিশুরা সব,  তোলে না যে কোনো রব। বিরক্ত করে না প্রশ্নে, কেমন ষড়যন্ত্র। বুদ্ধির বিকাশ দেখো হবে নাকো আর। মা বাবা জানেনা কিছু, এমনই বিচার। "এ আই" সবই জানে, বলে দেয় কানে কানে। ভেবে দেখো কোন পথে দেশের আধার। মোবাইলে মোবাইলে, "এ আই" আসর। "রোবট" সিনেমাটা দিলো আসল খবর। রোবট ই করেছে শেষ  সুন্দর সাজানো দেশ পৃথিবীতে পড়েছে শেষে কৃত্রিমতার নজর। "এ আই" এর বিরোধী নই আমিও কখনো  কৃত্রিমতা ফাঁদে পড়ে, সব হারিয়ো না যেন। "এ আই...

বাবা

বাবা দেবপ্রসাদ জানা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সামনে আমি দেখি। বৃদ্ধ বাবার, আরো একটু বয়স হয়েছে নাকি। আমিও একটু যুবক হলাম একদিন আরো বড় হলাম। বাবার হাতের গড়া আমি, আমি বড় সুখী। অনন্ত বসন্তে আমি অনন্ত যৌবনে। সূর্য ওঠার সঙ্গে বাড়ে সন্ধ্যার দর্শনে। যখন আমি শিশু ছিলাম  মায়ের হাতে ভাত খেতাম অফিস থেকে বাবা এলে, খুশি আলিঙ্গনে। জন্ম আমার তার তেজে, মুক্ত ধরাতলে। সিক্ত করি শিশুকালে, যৌবন জ্বালি অনলে মেরেছে কখনো ক্রোধ ব'সে। হেসেছে কখনো আদর রসে। প্রাণপাত করেছে সদাই বড় হবো বলে। চিনেছি পৃথিবী চিনেছি লোক তার কাঁধে চেপে। ছেঁড়া ধুতি রিপু করা, শীতে থর থর কেঁপে। আমি বেটা লক্ষ্মীছাড়া। আদর তার বড় বেয়াড়া। হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে ভাঙেনি কোনো চাপে। একটা লজেন্স খায়নি কিনে পেটের ক্ষিদে মেরে। কি হয়েছে বল না আমায়, আনমনা দেখে মোরে। দাবি সব মানতে পারে। হাসি মুখে লড়াই করে। নাকে মুখে খেয়ে দেয়ে, নিত্য অফিস করে। কানের শক্তি হারিয়ে গেছে টাইফয়েডের জ্বরে। চোখের ওপর সাদা ছানি চলে ধীরে ধীরে। আজকে বাবা অষ্ট আশি  চোখে ছিল স্বপ্ন রাশি। যা দিয়েছে অনায়াসে আমায় আপন করে।

আবর্জনা

১ আবর্জনা  দেবপ্রসাদ জানা নর্দমার ধারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে  অচল জীর্ণ নিঃসাড় সবুজ তৃণ তার ওপরে জোড়াফুল। আত্মনিহত মৃতদেহ পৃথিবীর বাতাসে আর স্থান নেই। গন্ধকের বাষ্পে ভরে গেছে নীল সাদা বাক্সটা  উদ্ধত অহংকারে  পনের বছর ধরে শত ছিদ্র বায়ুমণ্ডলের ফাঁক দিয়ে  হারিয়ে গেছে মা মাটি মানুষ। পোড়ামাটির এই দেশে একটা ঘাস অবধি জন্মায়নি। ক্ষুদে উদ্ভিদ তৃণ ঘাসের মূল যে এত গভীরে, সময় কিছুতেই কাউকেই বড্ড বেশি মাথায় তোলে না। চোর চোর বললেও কিছু এসে যায় না ক্ষমতার অহংকার স্বচক্ষে দেখা  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেখানে পচে গোলে গেছে  নাভিশ্বাস উঠেছে, অম্বল হারিয়ে গেছে নদীর উজান  তবু আক্রোশ, রুক্ষতা অন্যটি নারী, তার চোখেমুখে অটুট স্বর্ণলতা। ২ পরমলগ্ন এ শব্দ কিসের?  বলতে পারেন? তাহলে বলুন। না, না। না পারলে লজ্জার কিছু নেই।  শুধু একটু ভাবুন। চোখ বুজে ভাবুন।...  কি বুঝলেন?   ইতিহাস হাসছে, বিকৃত মুখ করে - বর্তমানের দিকে তাকিয়ে হাসছে। উত্তর পেয়ে কেমন লাগছে? পাগল মনে হচ্ছে তো? স্বীকার করতেই হয়-  আপনার আই কিউ, শ্রবণশক্তি দুটোই  মেধাতালিকার শীর্ষে...

ভ্রমণ

অত্যন্ত বিষন্ন মনে করিনু ভ্রমণ। নানা দেশ নানা বেশ করি পর্যটন ॥ অবশেষে উপনীত রাজপুতনায়। বসুধা বেষ্টিত যার কীর্তি-মেখলায় ॥ দেখিলাম অজামীল পুরী আজমীর। যশল্পীর যোধপুর আর বিকানীর ॥ কোটা বুঁদি শিকাবতী নীমচ সারয়ে। উদয় উদয়পুরে প্রফুল্ল-হৃদয়ে ॥ জয়সিংহ-পুরী জয়পুর চারু দেশ। যার শোভা মনোলোভ।, বৈকুন্ঠবিশেষ ॥ ভ্রমি বহু রাজপুরী সানন্দ অন্তরে। প্রবেশেন এক দিন চিতোর নগরে ॥ দেখেন অচল এক অতি উচ্চতর। তার নিয়ে শোভাকর সুন্দর নগর ॥ গিরি-পরে শোভে গড়, প্রাচীরে বেষ্টিত। রাজ-চক্রবর্ত্তী হিন্দুসূর্য্য প্রতিষ্ঠিত ॥ ধরাধর-অঙ্গে শোভে নানা তরুবর। নয়নের প্রীতিকর ওষধি বিস্তর ॥

বন্দেমাতরম

বন্ধ দুয়ারে  দেবপ্রসাদ জানা বন্দেমাতরম ধ্বনি,  সমাজ মাধ্যমে শুনি। কি করে হলো পদ্মমুখী যারা বলে নাহি মানি,  গাহে তারা প্রমাদ গুণি। কভু না করিল সুখী। করিতে মায়ের গান যেন যায় তার প্রাণ কাটাকাটি লেখনে তার। স্বাধীন ভারতে বসে বিভাগের অঙ্ক কষে। তারা আর পাবে না পার। লুকাইয়া ইতিহাস সদা করে ক্রীতদাস হিন্দু ভায়ের উপর। অত্যাচার করে যারা ইতিহাসের বই ভরা। তাদের করে সমাদর। ধর্মের পরাগ মেখে গণতন্ত্র মুখোশ ঢেকে ধর্ম নিরপেক্ষ কথা। যে ধর্মের তরে শেষ। টুকরো করিল দেশ। না জুড়ায় বুকের ব্যথা। আনন্দমঠ লিখে বন্দেমাতরম শিখে বিপ্লবে গড়িলো পুরাণ। গৃহপূর্ণ,আছে ধন  যাইবে তুর্ণ, যৌবন গাহে মহা রণের গান । আজ যেন মহা দুখ  যদি না ভুঞ্জিনু সুখ,  কি কাজ জীবনে? গলে মদ লও ঢেলে না ফুরায় রাত্রি কালে সুখে গাঢ় প্রমোদভবনে। খাদ্য লও বাছা বাছা, দাড়ি দেখে কও চাচা, বাঙালির অমূল্য রতন। সহস্র পাদুকা স্পর্শে,  পাদুকার মতাদর্শে  কত যে করিল যতন। পেটে খায় পিঠে সয়,  রামধনু রঙ কয়। রামে নেই মতি। অদ্ভুত যে চরিত্র সব অনুপ্রেরণার কলরব। না হইলো গতি। বন্দে মাতা সুরধুনি, কাগজে মহিমা শুনি মদ মাংসে...

হ্যাঁ বাধ্য হলাম

১ হ্যাঁ  মন, ভেঙে গেছে, কিছুতেই ভুলতে পারি না। একটা কবিতা, কুকুরের মতো করে সম্বোধন। স্রোতে বহু আবর্জনা, গঙ্গাকেও পাপী করে। অন্যায়ের মুখোমুখি প্রতিবাদ করিনি কোনোদিন। ভালোবেসেছি, অন্ধের মতো  হিংসা আর জ্বলন বন্ধু। মনের সীমান্তএ বিস্তীর্ণ প্রান্তর।  বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে,    ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে প্রতীক্ষিত দিন, -বিপর্যস্ত কণ্ঠ রুদ্ধ,  বুকে আর্তনাদ,  সযত্ন মুখোশধারীর আস্ফালন,  কাঁপে হৃৎযন্ত্র, চোখে মুখে চিহ্নিত মৃত্যু।  ব্যগ্র গাত্রোত্থানে,  অতর্কিতে বিস্ফোরণ অগ্ন্যুৎপাত হানে।  ২ সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।  আশ্চর্য উদ্দাম বেগে সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গ।  অন্ধকার বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ- বিস্তৃর্ণ চোরাবালি, পরস্পর অযথা সন্দেহ;  দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,  অদৃষ্ট ভৎসনা-ক্লান্ত বিমর্ষ রাত, স্বর্ণ শৃঙ্খলে বন্দি অসহায় সকাল। শ্বাস রুদ্ধ হয়ে ক্রমাগত ক্ষীণ- মৃত্যুর পথ পূর্ণ করে নিঃশব্দে। ৩

ঘাসফুল

আরে আরে ছুঁড়ছ কেন ডিমের প্রচুর দাম। মালদা থেকে নিয়ে এসো পঁচে যাওয়া আম। বেড়ে গেলো ডিমের দাম এই পঁচা গরমে। টমেটো ও বাজারে ছিল পঁচলো বুঝি শরমে। দাও না ছুঁড়ে মনের জোরে  অনেক খেলি হারামে। চুপি চুপি মুখ লুকিয়ে যাচ্ছে যারা যাক না। ডিম থেকে ফুটবে বাচ্চা ডিম এখন থাকে না। যার গায়ে যটা ডিম  মেরেছো যা লুকিয়ে। শরমে তো মুখ তুলে দেখেনি তা তাকিয়ে। কোটি কোটি টাকা দেখো  ফোলছে ডোবা জমিতে। সোনার ডিম পাড়ছে দেখো। সল্টলেকের ভূমিতে। দেখে নিত চার তারিখে ফুটতো যদি ঘাসফুল। দিল্লি থেকে পা বাড়িয়ে মাড়িয়ে গেলো ঘাসফুল।

স্বপ্নপুরী লন্ডন

স্বপ্নপুরী লন্ডন আহা স্বপ্নপুরী তো নয়  খোপে খোপে ক্যান্সার। এ-কোথায় ঘুম ভাঙল আমার? পচন ধরা কাঠের গুড়ির মত। তোমরা না ফুলের শয্যায় রেখেছিলে আমাকে? শতাব্দীর কারান্ধকার যুক্ত জীবনের বসন্তের ফুল?  আমি ঘুমিয়েছিলাম-তোমাদের স্বপ্নপুরী, স্মৃতি সৌধের মণিকোঠায়, কী প্রশান্ত, পরিতৃপ্ত সে ঘুম! উঃ। ফুলগুলো কি সব কাঁটা হয়ে গেল? পাপড়িগুলো কেন এমন বিষাক্ত তীর? আমার সর্বাঙ্গে মালায় মালায় যেন কালসাপের ছোবল! না, সে স্বপ্নপুরী তো নয় এ-এ কোথায় ঘুম ভাঙল আমার? এ কি অন্ধকার পাতালপুরীতে আমি নিঃসঙ্গ একা-আমার দেহ ঘেরা কাঁচের ঢাকনাগুলোর ওধারে কাদের ওই কালো কালো মুখ? আমি কি কালঘুমে ঘুমিয়েছিলাম! আমি তো ঘুমিয়েছিলাম আমার চিরসাথীর ইস্পাতের বর্ম ঢাকা বুকের কোমল উত্তাপে। আমার একান্ত কমরেড স্তালিন তার বিশ্বস্ত হাত দু'খানা পরম স্নেহে আর নিষ্ঠায় ঢেকে রেখেছিল আমার গুলি বেঁধা বুকের পাঁজরথানাকে-উঃ! বিশ্বাসঘাতকের সেই গুলি ৩৩

আবোল ডবল

কেন জানি লাগছে ভালো আজ কবিতা লিখতে। হঠাৎ করে খুলছে কলম তোমার ছোঁয়া লাগতে। কেমন দেখো গরম কড়াই  সাহস দেখো তার। চুপটি করে ভালোবেসে ছোঁয়া নিলো তার। যার চোখের হাসিতে আমি সরস কবি হই। একটু ছোঁয়া নিতে গিয়ে দগ্ধ আমি সই। কি জ্বলছে ঠোঁট না গাল আলতো ছোঁয়া মিষ্টি। ঠোঁটের ওপর শীতল বাতাস আর হালকা বৃষ্টি অনুপ্রেরণায় লিখতে বসি তোমার ঝালে বাঁধি। ডিম দিয়ে ভাত কচুর লতি  জনতা জ্বেলে রাঁধি। মাছের ঝোল ভাত না ডাল আলু ভাতে শুকনো লঙ্কার ঝাঁজ দিলে কালো জিরার সাথে

পরিস্থিতি

প্রথম সর্গ ১ অন্ধকার হতে আজ, আলোর আকাশে। রামধনু উঠিয়াছে, মেঘ ধরে ভাসে। কাননে ফুটেছে ফুল, নানা রঙে হাসে। পাখি সব করে রব, বসন্তের মাসে। পলাশের বনে আজ, ঢেউ খেলে যায়। আগুনে ফাগুন মাস, রঙ পরিখায়। দিন শেষে অন্ধকার, গভীর নিশায়। নির্মল কুয়াশা চিরে, শশী দেখে যায় ।  কাননের পাতা ছাদ, নাচে শশিকরে।  পবন দোলায় তায় সুমধুর স্বরে ॥  নীচে তার অন্ধকারে, আছে ক্ষুদ্র নদী।  অন্ধকার মহাস্তব্ধ, বহে নিরবধি ॥  ভীম তরুশাখা যথা পড়িয়াছে জলে,  কল কল করি বারি সুরবে উছলে ॥  আঁধারে অস্পষ্ট দেখি, যেন বা স্বপন!  কলিকাস্তবকময় ক্ষুদ্র তরুগণ ॥  শাখার বিচ্ছেদে কভু, শশধরকর,  স্থানে স্থানে পড়িয়াছে, নীল জলোপর ॥  ঘোর স্তব্ধ নদীতটে; শুধু ক্ষণে ক্ষণে,  কোন কীট যায় আসে নাড়া দিয়ে বনে ॥  শুধু অন্ধকার মাঝে, অলক্ষ্য শরীর!  কোন হিংস্র পশু ছাড়ে, নিশ্বাস গভীর ॥

জন্মদিন

কবিতা :  আবার এসেছে উৎসব  আবার এসেছে উৎসব জন্মদিনের সারাদিন পরে সময়ের অভিমান একটু খুনসুটি হলো সন্ধ্যায়। বাক্য জালে বাদ্য বাজে নতুন সাজে আবার এসেছে উৎসব ছাব্বিশে মে। ছোট্টটি থেকে বেশ বড় হুকুমের গোলাম আমি আদরে আদরে সামনে বামে, আগে পিছু রংবেরং বেলুন কিছু, ভালোবাসার খোঁজে কিছু অভিমান মেখে হাতে হাত আদরের আবেশে মিষ্টি বুলি,  ভালো লাগে শাসনে শাসনে রেগে যেতে। এক মিনিটের ভেঙে যায় রাগারাগি। দীর্ঘজীবী হও ভালো থেকো  আমার অবশিষ্ট আয়ু তোমার হোক,  এগিয়ে চলো সবার আগে  আবার আসুক উৎসব জন্মদিনের। অহংকার বিস্তীর্ণ একটা মাঠ  একটা ছায়া ক্রমশ লম্বা হচ্ছে অহংকারে রোদ আর ছায়া সঙ্গে সময়  এখন সময়ের হাতে প্রচুর সময় কেবল আমাদের পছন্দের সময় নেই ফিরবে সবাই কাজে লম্বা ছায়ারা  কে জানে কতজনের প্রাণ যাবে এর মাঝে। ছায়ার পরিবার অহংকারের পরিবার কেবল ক্ষমতার বলীয়ান।  . . . .

দুটি কবিতা

১ ভাঙন ভাঙছে দোকান ভাঙছে ঘর জবর দখল উঠল শেষে। বুলডোজারের বৈশাখী ঝড় উড়িয়ে দিলো শান্ত বেশে। সীমান্তে আজ পড়ল বেড়া  প্রতিবাদী গুপ্তচর। প্রতিবেশী দিশেহারা ভাঙলো বুঝি গুপ্তগড়। চারদিকে তার গেরুয়া ঘেরা ডিপ সবুজের চক্র শেষ। দলে দলে সীমান্তে ভিড় সুস্থ হবে এবার দেশ। অনুপ্রেরণায় অনুপ্রবেশ এবার বুঝি হলো শেষ। কাঁটা তারের দেওয়াল তুলে স্বচ্ছ হবে এবার দেশ। বাংলা ভাষার নামে যারা রব তুলেছে বাংলা জয়। মুঠোবন্দি করার আশায় শব্দ আজ পাচ্ছে ভয়। ২ খেলা শব্দের পিঠে শব্দ জুড়ে  দিন রাত্রি ঘুরে ঘুরে ঘোড়া ঘোড়া খেলা। লাগাম ছাড়া সখের ঘোড়া ছুটে ছুটে হলো সারা ফিরল সন্ধ্যাবেলা। গত জন্মের ভাব-আড়ি  খেলার শেষে ফিরল বাড়ি কাব্যের একহাত। ঘনিষ্ঠরা কাঁধ ছুঁয়ে স্পষ্ট ভাবে দিল কয়ে  জুটবে নাকো ভাত। আড়ালে-আবডালে সব চুপি চুপি করে রব কাব্যের প্লাবনে। ঝলমল ওই রাতের তারা আকাশে মেঘ লাগাম ছাড়া। শব্দের আগুনে। দু'চোখের গভীরে কাব্য তিলে তিলে বাড়ে দ্রব্য কলমের জঠরে। কল্পনায় আকাশ ছোঁয়া  নবজাতকের কান্না ধোয়া। কাজল কাব্য করে। কোন্ সুদূরে বেজে ওঠে  মঙ্গল ধ্বনি ছুটল মাঠে। ভীষণ তপস্যায়। বন্দি জাতক ...

বাবা

-হ্যাঁ গো ক দিন ধরে অফিসে যাচ্ছো না কেন? রান্নাঘর থেকে মনোরমা রাজুর  উদ্দেশ্যে বলল। - অফিসে ছুটি নিয়েছি। শরীরটা ভালো নেই। কাজ করতে ভালো লাগছে না। মনোরমা বড় মেয়ের টিফিন বক্সটা রেডি করে দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো। রাজু গভীর চিন্তায় ।

দগ্ধ

দগ্ধ  দেবপ্রসাদ জানা ভালো নেই জানি, তবুও ভালো আছি। ঠোঁটের ওপর ঠোঁট রেখে কাছাকাছি।। লুকিয়ে রাখা ঠোঁটের, আলগা হাসি। বলে দিল, ভালো আছি ভালো আছি।। কেউ ভালো নেই, তুমিও না আমিও না। মিথ্যের ধ্বংসস্তুপে শহরের আবর্জনা।। ভালোবাসার কথা, বলতে ভুলে গেছি কেন অনায়াসে বলে দিতে পারি না। নিজেকে পুড়িয়ে সোনা করে রাখি। ভালোবাসার মানুষ পাই কিনা দেখি। ঝলমলে আলোয় চকচকে শহরে  আঘাতে আঘাতে প্রতিদিন শিখি। বুকের বাঁ পকেটে হৃদয় লুকোনো। চোখের কথায়  ভুলে থাকি জেনো। বলতে চাই অনেক, হয়ে যায় অন্য  প্রেম নয়তো সম্পর্কে জট পাকানো। মিথ্যের নদীতে সাঁতরে না ভেজা শরীর। জট পাকানো সুতোয়, জড়ানো অস্থির। বৃথা চেষ্টায় কেটে যায়, দিনের বেলা! অনর্গল বলতে না চাওয়া কথার খেলা।

সাধ শতবর্ষে বন্দেমাতরম সংগীতের পরিপ্রেক্ষিত

সাধ শতবর্ষে বন্দেমাতরম সংগীতের পরিপ্রেক্ষিত জ্যোতির্ময় দাশ দেড়শ বছর আগেই ইংরেজ শাসিত পরাধীন ভারতে একটি গান রচিত হয়েছিল ভিন্ন এক পরিপেক্ষিতে সেই গান রচিত হওয়ার সঠিক তিনজ্ঞাত প্রকাশিত হয় প্রথম বঙ্গদর্শন সাহিত্য পত্রিকা ৭ই নভেম্বর ১৮৭৫ সালে ১৯৫০ সালে ভারতীয় লোকসভায় জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়, গানটি রচয়িতা ছিলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গানটি তিনি পরবর্তীকালে আনন্দমঠ প্রকাশ, ১৮৮২ উপন্যাসে সন্ন্যাসী আন্দোলনের উদ্দীপক সংগীত বা শ্লোগান হয়ে উঠুক। বন্দেমাতরম গানটির মূল রূপ।  বন্দেমাতরম  '''''' এই গানের সম্পূর্ণ উদ্ধৃতির কারণ জানাই এবার যে অতি সম্প্রতি ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতীয় লোকসভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতীয় সংগীতের ন্যাশনাল ম্যান আগে বন্দেমাতরম গানটি পুরোটি উঠাইতে সরকারি কোন অনুষ্ঠানে অথবা রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের উপস্থিতির সময় এবং সে সময় সকল শ্রোতা দর্শকদের উঠে দাঁড়িয়ে এই জাতীয় গান কে মর্যাদা প্রদান করতে হবে। অথবা এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে কোন চলচ্চিত্রের কাহিনীর মধ্যবর্তী অংশের এই গানের উল্লেখ বা গীত হলে দর্শকদের উঠে দাঁড়ানো...

শুনেছি

শুনেছি শুনেছি নাকি এই ভোটে, ভোট দিয়েছে অনেকে। নব্বই নাকি বিরানব্বই একশো জন লোকে। বিশ্বে নাকি এমন ভোট, পড়েনি আর কখনো। এস আই আরের পরে এমন, কেন হলো জানো? সবাই যখন ছাপ্পার ভয়ে ঘুমিয়ে থাকত ঘরে। নাম বুঝি বাদ যাবে তাই, ভোট দিয়েছে ডরে। এও যদি না মানো তো, বদলে দিতে আসন। স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিয়েছে এটাই আসল কারণ। প্রথম দফায় চার দলের, কে কত ভোট পেলো। জল্পনা আর কল্পনাতে সারা দিনটা গেলো। কেউ দিয়েছে বেকার ভাতা, আরো কত সাথি। কেউ বলছে ডবল করে দেবো রাতারাতি। আচ্ছে দিন আসবে বলে ঘুরিয়ে দাও দল। লোকে বলে ঘাট হয়েছে খুব করেছে ছল। শিক্ষা নেই চাকরি নেই, তবুও গণতন্ত্র। লাল সবুজ গেরুয়া মিলে দিচ্ছে নানান মন্ত্র। কেউ বলছে আবোল তাবোল নানা প্রতিশ্রুতি। দলে দলে লড়াই করে, করেছে অনেক ক্ষতি।

আগুন

তার নয়নে আগুন দেখেছি  আলোর ঝরনাধারা। দিনের শেষে বৈশাখী রোদ রাতের শুকতারা । মনের অতলে ডুবিয়ে রাখা বিশ্বাসের দরজায়। মনের অজান্তে হারিয়ে গেলো কিসের ঈশারায়। তার চোখে শুকতারায় আজ দিনের ইচ্ছে পূরণ -- হোঁচট খেয়েছি বারবার,,আজ তবুও ধরেছি চরণ। গলার স্বর কেঁপে উঠেছে, যেভাবেই কেঁপে ওঠে তিরতির হাওয়ায় দেবদারু ডালের সবুজ কচি পাতা। আজকাল চোখ বন্ধ করলে অনেক কিছুই দেখতে পাই;  পাহাড় গড়িয়ে ঝরনা নামছে তোমার চোখের তারায় সুদূর আলোক বর্ষ দূরের আলোর প্রভাব  ছড়িয়ে পড়েছে তোমার টুকটুকে লাল নরম দুটি গালে যেন কতকালের অন্ধকার দশা কাটিয়ে আলোর বিচ্ছুরণে ঢেকে গে'ল তোমার মুখাবয়ব।                    _________________  আগুন ছিল বীরাঙ্গনার    উদাস করা দৃষ্টিতে।    আগুন ছিল গানের সুরে    আগুন ছিল কাব্যে,    মরার চোখে আগুন ছিল    এ কথা কে ভাববে?    কুকুর-বেড়াল থাবা হাঁকায়    ফোঁসে সাপের ফণা    শিং কৈ মাছ রুখে দাঁড়ায় ...

কাদম্বরী

কাদম্বরী দেবীকে উৎসর্গীকৃত রবীন্দ্রনাথের প্রন্থ বিষয়ক একটি রচনা।ー শ্রীমতী হে: তোমাকে দিলাম ধনঞ্জয় ঘোষাল কারও কারও চোখের ওপর মেঘের রেলিং। কেউ কেউ স্বপ্নবিলাসী । ঠাকুর বাড়ির মহর্ষি পরিবারের জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সহধর্মিনী যেন তেমনই এক মাঠের ওপর আটকে থাকা দীঘি। মাগাত্রিয় কাদম্বরীকে রবীন্দ্রনার্স কোর্ট করতে এক চাস? করেছিলেন। ভরন রবির প্রথম প্রকাশিত এন্থ কবিাহিনী, একশটিতে হয়েছিল ১৮৭৮-১ রবি তখন আঠারো বছরের যুবক। দু-বছর পরে বেরোল 'বনফুল' আর তার পরের বছর ১৮৮১ তি ককি উৎসর্গ করেননি। উৎসর্গ নেই, কর অবিবাহিত রবি হয়তো এই খুব রাখার রাতে আ ওয়াশিত হল 'বাল্মিকী প্রতিভা'। এই তিনটি বই কাউকেই সেই প্রথম, যুবক রবি কাউকে বই উৎসর্গ করছেন। ভালবাসার মানুষ ক্রিম।  কবি তাঁর চতুর্থ, সন্থের উৎসাদিরে লিখলেন- প্রমৈত্রী চে-কে উৎসনীয়। বোকান কাদম্বরী দেবীকে। কিন্তু শ্রীমতী ছে' কেন লিখলেন টচার?" এক গ্রীক দেবী, এমন রহস্যময়ী দেবী হেকেটি যাঁর পাকি পৃথিবী, স্বর্গ, সমুদ্র (মেম্ভবঙ্গ মানুষেরা শদম্বরীকে হেকেটি বলে নাকি ডাকতেন। হোমটি এডি ক্লীক ছিল। বিহারীলাল, জ্যোতিরিন্দ্রনাম ও কীঘ্রলসই বি সেই ডিন ভুবন? ...

কংক্রিটের পথ

১ বড় কঠিন হয়ে যাচ্ছে চলার পথ আগের পথে মাটি ছিল,  নমনীয় ছিল,  পরে কঠিন হলেও মসৃণ ছিল সব পথ, পিচ্  এখন কংক্রিট। বালির খসখসে কঠিন। শত্রু এ এক মহা শত্রু। অসাবধান হলেই - রক্তারক্তি। অতীতে বন জঙ্গলে হিংস্র পশুর আক্রমণ ছিল পেটের দায়ে পথ চলতে হতো। বর্তমানে সেই পথেই হিংস্র হয়ে উঠেছে।

শিব

জটাটবীগলজ্জলপ্রবাহপাবিতস্থলে গলেবলংব্য় লংবিতাং ভুজংগতুংগমালিকাম্ । ডমড্ডমড্ডমড্ডমন্নিনাদবড্ডমর্বয়ং চকার চংডতাংডবং তনোতু নঃ শিবঃ শিবম্ ॥ 1 ॥ তরল অনল গগন পবন যার ব'লে জটাধারী চন্দ্রশেখর  জটাকটাহসংভ্রমভ্রমন্নিলিংপনির্ঝরী- -বিলোলবীচিবল্লরীবিরাজমানমূর্ধনি । ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বলল্ললাটপট্টপাবকে কিশোরচংদ্রশেখরে রতিঃ প্রতিক্ষণং মম ॥ 2 ॥ ধরাধরেংদ্রনংদিনীবিলাসবংধুবংধুর স্ফুরদ্দিগংতসংততিপ্রমোদমানমানসে । কৃপাকটাক্ষধোরণীনিরুদ্ধদুর্ধরাপদি ক্বচিদ্দিগংবরে মনো বিনোদমেতু বস্তুনি ॥ 3 ॥ জটাভুজংগপিংগলস্ফুরত্ফণামণিপ্রভা কদংবকুংকুমদ্রবপ্রলিপ্তদিগ্বধূমুখে । মদাংধসিংধুরস্ফুরত্ত্বগুত্তরীযমেদুরে মনো বিনোদমদ্ভুতং বিভর্তু ভূতভর্তরি ॥ 4 ॥ সহস্রলোচনপ্রভৃত্যশেষলেখশেখর প্রসূনধূলিধোরণী বিধূসরাংঘ্রিপীঠভূঃ । ভুজংগরাজমালয়া নিবদ্ধজাটজূটক শ্রিয়ৈ চিরায় জাযতাং চকোরবংধুশেখরঃ ॥ 5 ॥ ললাটচত্বরজ্বলদ্ধনংজযস্ফুলিংগভা- -নিপীতপংচসাযকং নমন্নিলিংপনাযকম্ । সুধাময়ূখলেখয়া বিরাজমানশেখরং মহাকপালিসংপদেশিরোজটালমস্তু নঃ ॥ 6 ॥ করালফালপট্টিকাধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বল- দ্ধনংজয়াধরীকৃতপ্রচংডপংচসাযকে । ধরাধরেংদ্রনংদিনীকুচাগ্রচিত্রপত্রক- -প্রকল্পনৈকশিল্...

অ আ

অ আ ই ঈ  পড়ব কই স্কুল নেই উ উ ঋ ৯ স্কুল আছে মাষ্টার কই? পড়ব আমি মা'র কাছে তার সেবাতেই প্রজন্মরা অন্ন পেয়ে খায়, বাঁচে। মায়ের থেকে নাই বড় কেউ বনস্পতি মাতৃকুল মায়ের ছায়া আস্ত মায়া মাতৃ-হৃদয় শুভ্র ফুল। সিক্ত মায়ের কণ্ঠ যেন শান্ত, মধুর কূজন-গীত– ঘাটতি কোথাও নাই যেন তার মাতৃ সেবায় জীবন-ভিত। মায়ের জীবন আদর্শময় শ্রেষ্ঠতম সংবিধান মায়ের স্মৃতি সুধার মতো মা'র ভূমিকায় শিক্ষা দান। আর্দ্র মায়ের বক্ষ যেন সাগর ভরা অতল নীর মায়ের প্রভাব ধন্য করে– মাতৃ-হৃদয় সংহতির।

অনুকবিতা

১ পরের বউ রসগোল্লা নিজের বউ উচ্ছে। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে  জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে। ২ আদালতে মক্ষীরানি আইন নিয়ে দরাদরি দেখো যেন বীণাপাণি বাজেটে তাই ছড়াছড়ি। ৩ কার হবে দেশ জয় লড়াই তার মন্দ নয়। কাণ্ড দেখে লাগে ভয় দেশের টাকা হচ্ছে ক্ষয়। ৪ আজ চাই ভারত মায়ের সুভাষ সমান সন্তান। লক্ষ জোয়ান লক্ষ শহীদ  সহস্রাবাদ্দে অম্লান। ৫ অহংকার তোর যার তরে আর কতদিন এ চরাচরে। ৬ মহামুনি মহাজন যে পথে করে গমন সে পথ ধরে চলি, সেই মত কথা বলি মহাজ্ঞানে পূর্ণ মন, থাকে যেন আমরণ। বিষয় আশয় ফেলি আজ, মহৎ হতে চলি। ৭ আজ গগনে চাঁদ এসেছে আজ বিহানে জোছনা। আজ আঙিনায় ফুল হেসেছে  আজ নয়নে বেদনা। ৮ বাংলায়-অমৃতরাশি শব্দের ভাণ্ডার। রক্ত ঢেলে, রক্ষা করো বাঙলা ভাষার। ৯ সকালবেলা হয়নি সকাল সকাল হলো দুপুর। ভোরেরবেলা হয় যে রাত ভালোবাসা ভরপুর। সকাল সকাল কুহু গানে ডেকে ডেকে বসন্ত আনে ১০ মন মেতেছে আজ তোর ঢঙে মাতিয়ে নে মন ফাগুন রঙে। ১১ ওরে পুরবাসি ছাড়ো বেড, আসছে ধেয়ে আলফ্রেড। ১২ বাহা-রে জননী যিনি কন্যা প্রসবে ডরে তিনি ভ্রূণ বধেন সদা এড়াইয়া দায়। ১৩ অন্ধকারে খোলা, দরজার খিল। ছাব্বিশ হাজারে, চাকরি বাতিল। ১৪ যারা দিলো ঘুষে টাকা তার...

মনন চিন্তন কল্পনায়

মনন চিন্তন কল্পনায় দেবপ্রসাদ জানা ভালোবাসা হোক চিরন্তন কিংবা চিরন্তনী  অনন্ত পথ পেরিয়ে সময়ের সঙ্গে লড়াই ক'রে মনন চিন্তন কল্পনায়। দায়হীন ভাঙন  দমনের দায় নেই,  আত্মকেন্দ্রিক বিলাসের বাসনা থাকেই। চৈতন্যের আকাশ অন্ধকারে  কবি সাহিত্যিক বোধনের আভাস দিয়ে  নির্বোধনের ভাবনায় শান্তসমাহিত  কিছু লোক, কিছু কবি, আর যাঁরা নিজেকে সাহিত্যিক বলে দাবি করে, যাঁরা শুধু  নিজের লেখা নিজেই পড়ে, শ্রোতাহীন মঞ্চে। শোনে না তারাও যাঁরা বসে থাকে নিজের লেখা পড়ে নিজেকে খুশি করার জন্য, হ্যাঁ আমি তাদের কথাই বলছি। আরো কিছু কবি বা লেখক মনে ভাবে তুমি যদি আমার লেখা শোনো, তবেই তোমার লেখা শুনবো, তুমি যেটা পড়বে। জ্ঞান গর্ভের শ্রদ্ধাচারে নৈতিক প্রয়াস টুকু নেই যে লেখায় পথের খোঁজ পাই না , কি মোহ মায়াজালে জর্জরিত লেখক সমাজ। অক্ষর গুলো শব্দ হয়ে বিনা ছন্দে জাহ্নবী যমুনার নীল জলে মিশে  রক্তাক্ত আগুন কবিতা শীতের রাতে  কম্বল চাপা দিয়ে কাঁপে। কবির আত্ম চিৎকার শুনে মন কাঁদে বৈদিক মন্ত্রের একাডেমি গৃহে কবিশ্রোতার এই আত্মবলিদান, প্রবুদ্ধ চৈতন্য স্তব  শুদ্ধতার স্পর্শ দীর্ঘ প...