Posts

পরিবেশ

পরিবেশ নদী যদি নদী বাঁচাতে না পারো তবে নোংরা ফেলা বন্ধ করো। পুজোর পরের ফুল গুলো, নিজের কাটা সবজি গুলো। বাড়িতে আনা প্লাস্টিক। গুছিয়ে রাখো ঠিক ঠিক। নর্দমায় ফেলো নাকো

"এ আই"

"এ আই" দেবপ্রসাদ জানা ধরার এই মাঝে আমি, সামান্য এক মানুষ। উন্নয়নের পৃথিবীতে, এক উড়ন্ত ফানুস। কালানল সম আগুন। কেড়ে নিচ্ছে ফাগুন। এসেছে এ আই, বুঝি বুদ্ধি হারাচ্ছে মানুষ। ভয়ানক ভাবের প্রভাব উড়ছে আকাশে। প্রকট বিকট মূর্তি এক, দেখিছে বাতাসে। মোবাইল হাতে সব। নাই কোনো কলরব। ভীষণ কালাগ্নি পোড়াবে বিষাক্ত নিশ্বাসে। কলম গেছে, খাতা গেছে, চলে গেছে বই। বন্ধু বান্ধব গেছে সব, নেই কোনো সই। কৃত্রিম যদি সব হয় বুদ্ধিমান কেমনে কয়। তার মাঝে আন্তরিক ভালোবাসা কই? এসেছে ইলেক্সা আর সিরি নামক যন্ত্র হারিয়েছে ঠাকুমা দাদুর জীবনের মন্ত্র। সদ্যোজাত শিশুরা সব,  তোলে না যে কোনো রব। বিরক্ত করে না প্রশ্নে, কেমন ষড়যন্ত্র। বুদ্ধির বিকাশ দেখো হবে নাকো আর। মা বাবা জানেনা কিছু, এমনই বিচার। "এ আই" সবই জানে, বলে দেয় কানে কানে। ভেবে দেখো কোন পথে দেশের আধার। মোবাইলে মোবাইলে, "এ আই" আসর। "রোবট" সিনেমাটা দিলো আসল খবর। রোবট ই করেছে শেষ  সুন্দর সাজানো দেশ পৃথিবীতে পড়েছে শেষে কৃত্রিমতার নজর। "এ আই" এর বিরোধী নই আমিও কখনো  কৃত্রিমতা ফাঁদে পড়ে, সব হারিয়ো না যেন। "এ আই...

বাবা

বাবা দেবপ্রসাদ জানা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সামনে আমি দেখি। বৃদ্ধ বাবার, আরো একটু বয়স হয়েছে নাকি। আমিও একটু যুবক হলাম একদিন আরো বড় হলাম। বাবার হাতের গড়া আমি, আমি বড় সুখী। অনন্ত বসন্তে আমি অনন্ত যৌবনে। সূর্য ওঠার সঙ্গে বাড়ে সন্ধ্যার দর্শনে। যখন আমি শিশু ছিলাম  মায়ের হাতে ভাত খেতাম অফিস থেকে বাবা এলে, খুশি আলিঙ্গনে। জন্ম আমার তার তেজে, মুক্ত ধরাতলে। সিক্ত করি শিশুকালে, যৌবন জ্বালি অনলে মেরেছে কখনো ক্রোধ ব'সে। হেসেছে কখনো আদর রসে। প্রাণপাত করেছে সদাই বড় হবো বলে। চিনেছি পৃথিবী চিনেছি লোক তার কাঁধে চেপে। ছেঁড়া ধুতি রিপু করা, শীতে থর থর কেঁপে। আমি বেটা লক্ষ্মীছাড়া। আদর তার বড় বেয়াড়া। হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে ভাঙেনি কোনো চাপে। একটা লজেন্স খায়নি কিনে পেটের ক্ষিদে মেরে। কি হয়েছে বল না আমায়, আনমনা দেখে মোরে। দাবি সব মানতে পারে। হাসি মুখে লড়াই করে। নাকে মুখে খেয়ে দেয়ে, নিত্য অফিস করে। কানের শক্তি হারিয়ে গেছে টাইফয়েডের জ্বরে। চোখের ওপর সাদা ছানি চলে ধীরে ধীরে। আজকে বাবা অষ্ট আশি  চোখে ছিল স্বপ্ন রাশি। যা দিয়েছে অনায়াসে আমায় আপন করে।

আবর্জনা

১ আবর্জনা  দেবপ্রসাদ জানা নর্দমার ধারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে  অচল জীর্ণ নিঃসাড় সবুজ তৃণ তার ওপরে জোড়াফুল। আত্মনিহত মৃতদেহ পৃথিবীর বাতাসে আর স্থান নেই। গন্ধকের বাষ্পে ভরে গেছে নীল সাদা বাক্সটা  উদ্ধত অহংকারে  পনের বছর ধরে শত ছিদ্র বায়ুমণ্ডলের ফাঁক দিয়ে  হারিয়ে গেছে মা মাটি মানুষ। পোড়ামাটির এই দেশে একটা ঘাস অবধি জন্মায়নি। ক্ষুদে উদ্ভিদ তৃণ ঘাসের মূল যে এত গভীরে, সময় কিছুতেই কাউকেই বড্ড বেশি মাথায় তোলে না। চোর চোর বললেও কিছু এসে যায় না ক্ষমতার অহংকার স্বচক্ষে দেখা  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেখানে পচে গোলে গেছে  নাভিশ্বাস উঠেছে, অম্বল হারিয়ে গেছে নদীর উজান  তবু আক্রোশ, রুক্ষতা অন্যটি নারী, তার চোখেমুখে অটুট স্বর্ণলতা। ২ পরমলগ্ন এ শব্দ কিসের?  বলতে পারেন? তাহলে বলুন। না, না। না পারলে লজ্জার কিছু নেই।  শুধু একটু ভাবুন। চোখ বুজে ভাবুন।...  কি বুঝলেন?   ইতিহাস হাসছে, বিকৃত মুখ করে - বর্তমানের দিকে তাকিয়ে হাসছে। উত্তর পেয়ে কেমন লাগছে? পাগল মনে হচ্ছে তো? স্বীকার করতেই হয়-  আপনার আই কিউ, শ্রবণশক্তি দুটোই  মেধাতালিকার শীর্ষে...

ভ্রমণ

অত্যন্ত বিষন্ন মনে করিনু ভ্রমণ। নানা দেশ নানা বেশ করি পর্যটন ॥ অবশেষে উপনীত রাজপুতনায়। বসুধা বেষ্টিত যার কীর্তি-মেখলায় ॥ দেখিলাম অজামীল পুরী আজমীর। যশল্পীর যোধপুর আর বিকানীর ॥ কোটা বুঁদি শিকাবতী নীমচ সারয়ে। উদয় উদয়পুরে প্রফুল্ল-হৃদয়ে ॥ জয়সিংহ-পুরী জয়পুর চারু দেশ। যার শোভা মনোলোভ।, বৈকুন্ঠবিশেষ ॥ ভ্রমি বহু রাজপুরী সানন্দ অন্তরে। প্রবেশেন এক দিন চিতোর নগরে ॥ দেখেন অচল এক অতি উচ্চতর। তার নিয়ে শোভাকর সুন্দর নগর ॥ গিরি-পরে শোভে গড়, প্রাচীরে বেষ্টিত। রাজ-চক্রবর্ত্তী হিন্দুসূর্য্য প্রতিষ্ঠিত ॥ ধরাধর-অঙ্গে শোভে নানা তরুবর। নয়নের প্রীতিকর ওষধি বিস্তর ॥

বন্দেমাতরম

বন্ধ দুয়ারে  দেবপ্রসাদ জানা বন্দেমাতরম ধ্বনি,  সমাজ মাধ্যমে শুনি। কি করে হলো পদ্মমুখী যারা বলে নাহি মানি,  গাহে তারা প্রমাদ গুণি। কভু না করিল সুখী। করিতে মায়ের গান যেন যায় তার প্রাণ কাটাকাটি লেখনে তার। স্বাধীন ভারতে বসে বিভাগের অঙ্ক কষে। তারা আর পাবে না পার। লুকাইয়া ইতিহাস সদা করে ক্রীতদাস হিন্দু ভায়ের উপর। অত্যাচার করে যারা ইতিহাসের বই ভরা। তাদের করে সমাদর। ধর্মের পরাগ মেখে গণতন্ত্র মুখোশ ঢেকে ধর্ম নিরপেক্ষ কথা। যে ধর্মের তরে শেষ। টুকরো করিল দেশ। না জুড়ায় বুকের ব্যথা। আনন্দমঠ লিখে বন্দেমাতরম শিখে বিপ্লবে গড়িলো পুরাণ। গৃহপূর্ণ,আছে ধন  যাইবে তুর্ণ, যৌবন গাহে মহা রণের গান । আজ যেন মহা দুখ  যদি না ভুঞ্জিনু সুখ,  কি কাজ জীবনে? গলে মদ লও ঢেলে না ফুরায় রাত্রি কালে সুখে গাঢ় প্রমোদভবনে। খাদ্য লও বাছা বাছা, দাড়ি দেখে কও চাচা, বাঙালির অমূল্য রতন। সহস্র পাদুকা স্পর্শে,  পাদুকার মতাদর্শে  কত যে করিল যতন। পেটে খায় পিঠে সয়,  রামধনু রঙ কয়। রামে নেই মতি। অদ্ভুত যে চরিত্র সব অনুপ্রেরণার কলরব। না হইলো গতি। বন্দে মাতা সুরধুনি, কাগজে মহিমা শুনি মদ মাংসে...

হ্যাঁ বাধ্য হলাম

১ হ্যাঁ  মন, ভেঙে গেছে, কিছুতেই ভুলতে পারি না। একটা কবিতা, কুকুরের মতো করে সম্বোধন। স্রোতে বহু আবর্জনা, গঙ্গাকেও পাপী করে। অন্যায়ের মুখোমুখি প্রতিবাদ করিনি কোনোদিন। ভালোবেসেছি, অন্ধের মতো  হিংসা আর জ্বলন বন্ধু। মনের সীমান্তএ বিস্তীর্ণ প্রান্তর।  বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে,    ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে প্রতীক্ষিত দিন, -বিপর্যস্ত কণ্ঠ রুদ্ধ,  বুকে আর্তনাদ,  সযত্ন মুখোশধারীর আস্ফালন,  কাঁপে হৃৎযন্ত্র, চোখে মুখে চিহ্নিত মৃত্যু।  ব্যগ্র গাত্রোত্থানে,  অতর্কিতে বিস্ফোরণ অগ্ন্যুৎপাত হানে।  ২ সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।  আশ্চর্য উদ্দাম বেগে সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গ।  অন্ধকার বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ- বিস্তৃর্ণ চোরাবালি, পরস্পর অযথা সন্দেহ;  দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,  অদৃষ্ট ভৎসনা-ক্লান্ত বিমর্ষ রাত, স্বর্ণ শৃঙ্খলে বন্দি অসহায় সকাল। শ্বাস রুদ্ধ হয়ে ক্রমাগত ক্ষীণ- মৃত্যুর পথ পূর্ণ করে নিঃশব্দে। ৩