Posts

দ্বারকা

সমুদ্রের বুকে স্বপ্ননগরী দ্বারকা মথুরার আকাশে তখন যুদ্ধের কালো মেঘ। মগধরাজ জরাসন্ধ একের পর এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে চলেছেন যদুবংশের রাজধানী মথুরা। প্রতিবারই শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের নেতৃত্বে যদুবংশীয়রা শত্রুর মোকাবিলা করছেন। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। নগরীর ঘরে ঘরে আতঙ্ক, রাজপথে উদ্বেগ, আর প্রতিটি ভোরে মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—আজ কি আবার যুদ্ধের দামামা বাজবে? শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারছিলেন, শুধু শত্রুকে পরাজিত করলেই হবে না। যদুবংশের মানুষকে এমন এক নিরাপদ আশ্রয় দিতে হবে, যেখানে তারা যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে দূরে থেকে নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে পারবে। এমন একটি নগরী, যা হবে দুর্ভেদ্য, সমৃদ্ধ এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। একদিন রাজসভায় তিনি বলরাম ও যদুবংশের প্রবীণদের সামনে নিজের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করলেন। “মথুরা আমাদের জন্মভূমি, আমাদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নগরীর প্রতিটি পথ, প্রতিটি প্রান্তর। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হলে এমন একটি আশ্রয় খুঁজতে হবে, যেখানে শত্রুর আক্রমণ সহজে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের সন্তানরা যেন যুদ্ধের শব্দে নয়, পাখ...

বিশ্বকর্মা

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পরম রূপবতী কন্যার নাম ছিল সংজ্ঞা। কোনো কোনো পুরাণে তাঁকে ‘সমজ্ঞা’ বা ‘সন্ধ্যা’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকর্মা তাঁর কন্যার বিবাহ দেন নবগ্রহের অধিপতি সূর্যদেবের সঙ্গে। কিন্তু তখন সূর্যদেব ছিলেন তাঁর পূর্ণ তেজে ভাস্বর। তাঁর শরীর থেকে নির্গত উত্তাপ ও আলোকরশ্মি ছিল এতটাই প্রবল যে, তাঁর দিকে সরাসরি তাকানোও প্রায় অসম্ভব ছিল। বিয়ের পর স্বামীর গৃহে এসে সংজ্ঞা সেই অসহনীয় তেজের মুখোমুখি হলেন। স্বামীকে ভালোবাসলেও তাঁর উত্তাপ ক্রমশ সংজ্ঞার শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে তুলতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমন দিন এল, যখন সূর্যদেবের দিকে সরাসরি তাকানোও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু স্বামীকে ছেড়ে চলে যেতেও তাঁর মন সায় দিচ্ছিল না। তাই সংজ্ঞা এক আশ্চর্য উপায় অবলম্বন করলেন। নিজের শরীর থেকেই তিনি সৃষ্টি করলেন নিজের অবিকল এক ছায়া-রূপ। তার নাম দিলেন—ছায়া। সংজ্ঞা ছায়াকে নির্দেশ দিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন সে সূর্যদেবের সেবা করে, তাঁর গৃহ সামলায় এবং সবচেয়ে বড় কথা—নিজের আসল পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না করে। এরপর সংজ্ঞা চলে গেলেন দূর উত্তর কুরু দেশে। কিন্তু সেখানেও নিজের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয় ছি...

biswakorma

আদি ইঞ্জিনিয়ার কথন- বড়ো লেখা। ♥️ আজ ভাদ্র মাসের শেষ দিন, বিশ্বকর্মা পুজো। কিন্তু কে এই বিশ্বকর্মা? আজকের দিনে আমাদের চোখে বিশ্বকর্মা মানেই কারখানা, লোহার যন্ত্রপাতি, মেশিন, গ্যারেজ কিংবা দোকানের সরঞ্জাম। অথচ এই পরিচয় তাঁর প্রকৃত সত্তার একেবারেই সামান্য অংশ। বিশ্বকর্মা আসলে নির্মাণের মহাশক্তি—সৃষ্টি, পরিকল্পনা, পরিমাপ, স্থাপত্য, প্রযুক্তি ও রূপদানের যে চেতনা, তারই দেবতাত্মক প্রতীক। সেই অর্থে তিনি আমাদের আদি ইঞ্জিনিয়ার, আদি স্থপতি, আদি নির্মাতা। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, অষ্টম বসু প্রভাসের ঔরসে এবং বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধার গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম। তাঁকে সহস্র শিল্পের উদ্ভাবক, দেবতাদের স্থপতি, অলংকারনির্মাতা, শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং দেবতাদের রথের নির্মাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলার লোকবিশ্বাসে আবার তাঁর প্রাচীন নাম ত্বষ্টা ছিল—পরবর্তীকালে পিতামহ ব্রহ্মার দ্বারা ‘বিশ্বকর্মা’ উপাধিতে ভূষিত হন বলে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। প্রাচীন বৈদিক পরম্পরায় ত্বষ্টা ও বিশ্বকর্মাকে অনেক সময় একই দেবশিল্পী-তত্ত্বের দুই নাম বা রূপ হিসেবে বোঝা হয়েছে; পরবর্তী পুরাণপরম্পরায় সেই ত্বষ্টাই আবার পৃথক সত্তা হ...

memento

অঙ্কুরীশা শারদীয় সংখ্যা ১৪৩৩  তুলসী জানা স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ প্রাপক-   কবি ও সাহিত্যিক সুনীল মাজি  স্থান - কন্টাই টাউন রাখাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠ ( উ:মা:) তারিখ- ২ রা অক্টোবর ২০২৬

zen-g

মায়াবী চোখ বাবরি চুল আলো ছড়ায় নীল রঙের  সব জানে জ্ঞান ভরপুর। স্বপ্ন অনেক ঘুমহীন রাতে সকাল বেলায় ঘুম আসে দশ এগার যাবে কতদূর। কথা বলার সময় নেই মোবাইল হাতে   পথে পথিক আমি তাই।  তুমি কি জানো  কতটা গভীর এই আলো।  মায়াবী চোখ  আমাকে টানে প্রতিদিন  হারাই আমি তার গহীনে  তোমার চোখে স্বপ্নের ছোঁয়া। চাঁদের আলো ছুঁয়ে যায় হৃদয় তোমার চোখে বাঁধা এক পৃথিবী হয়  তারার মেলা নেমে আসে নিচে  তোমার চোখে ভাসে এক সুখী মিছে।  তুমি কি শুনো  হৃদয়ের কথা এক নিমিষে।

স্মৃতি পুরস্কার ১৪৩৩

অঙ্কুরীশা শারদ সম্মান ১৪৩৩ দীপক বেরা  তাহিমুর রহমান কবি ও শিক্ষক গৌতম রায় রেনুকাবালা মণ্ডল স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ সৌমিত বসু বিকাশ চন্দ মাননীয়জয়শ্রী সরকার তুলসী জানা স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩   মান্যবর  সুনীল মাঝি   মান্যবর   হরপ্রসাদ সাহু মান্যবর কবি দুর্গাদাস মিদ্যা  করুণারাণী ধল দাস স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ কথা সাহিত্যিক শ্রী তপন বন্দ্যোপাধ্যায় শরৎচন্দ্র মণ্ডল স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ পরম শ্রদ্ধেয় ড. পবিত্র সরকার মান্যবর কবি অদীপ ঘোষ গন্তব্যে পোঁছানোর নির্দেশিকা : হাওড় ও দীঘাগামী বাস / মেদিনীপুর ও কাঁথিগামী বাসে খড়গপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে পূর্ব দিকে ২ মিনিট হাঁটা পথ। অথবা  দীঘা ট্রেনে কাঁথি স্টেশনে নেমে অটোতে ৫ মিনিট  কণ্টাই টাউন রাখাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠ।

সৃষ্টি

যেথায় পৃথিবী ছিল মনোহর বেশে। নেই স্থল নেই বন, অনন্ত নিবাসে। পরিপূর্ণ জল আর অন্ধকারে ঢাকা। ওম ওম শব্দ ওঠে ঘোরে মহাচাকা। অগ্নিচক্র হতে তার ঝরে পড়ে ওম। চক্রে অবস্থান করে মহাপূণ্য ক্রম। দিব্য এক মহাতেজ জ্যোতির্ময়ী দেবী। সেই দিব্য ওম এক ছিন্ন করে দেবী। সৃষ্টি হয় কালদর্শী পুরুষ মহান। দেবী তাঁরে দিলে শক্তি সরসী সমান। মুগ্ধ হই রূপ রসে দেখি পঞ্চশির। দেবীরে দেখিল দেব হইয়া অধীর। চার হস্ত দিব্য জ্যোতি অমল অধরে। মহা অন্ধকার কাটে যেন তারে ঘিরে। কহে ধীরে দিব্য জ্যোতি কহ মহাশক্তি কে আমি কেন এ মহা আরক্ত আসক্তি। কিবা কর্ম আছে হেথা আঁধার অকূলে। দেখি যে বিচিত্র শোভা শৈল আর জলে। হেথায় পৃথিবী কেন অকূল সলিলে। ভীষণ সমুদ্র ত্রাস শব্দের কল্লোলে। শুনি কহে মহাশক্তি স্বয়ম্ভুত আমি। সেই শক্তি কেন্দ্রীভূতে জন্ম নিলে তুমি। অপার জলের মাঝে নিদ্রা গেছে জ্ঞানী। অগাধ সলিল মাঝে ওম ওম ধ্বনি। অপার জলের মাঝে সৃষ্টি হবে জেনো। নিদ্রায় রয়েছে দেব অনন্ত সমুদ্রে। নাভি হতে পদ্ম ফুটে, ব্রহ্মা মহাভদ্রে। চিন্তায় মদিত হয়ে, রসের সাগর। কেমনে রচিবে সৃষ্টি, পৃথিবীর পর। নারায়ণ নিদ্রা যায়, অতি অপরূপ। উথলে ভাবুক দেব কেন রয় চুপ। মে...