Posts

এক দুরন্ত যাযাবর

এক দুরন্ত যাযাবর  জ্যোতির্ময় দাশ মধ্যযুগে ভেনিস দেশবাসীদের কাছে চীন বা জাপান যেমন রোমান্টিক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, আমাদের অনেকের কাছেই ভেনিস শহর তেমনই রোমান্টিক। আপনি যদি সেখানে পৌঁছেও যান, মনে হবে আপনি যেন এক স্বপ্নের দেশে উপস্থিত হয়েছেন। সূর্যালোকে উদ্ভাসিত প্রাসাদের বর্ণালী পাথরের গম্বুজ গুলো যেন পাতলা কাঠের মধ্যে ভঙ্গুর পাথরের খোদাই করা খিলানগুলো মনে হয় যেন কাপড়ের উপরে সৃষ্টি শিল্পের কাজ। আপনার নৌকা রিয়াদ তো সেতুর নিচে দিয়ে যাবে যে সেতুর তলা দিয়ে শার্লক প্রায়ই যাতায়াত করতেন, ক্রমশ পথে পড়বে এক প্রাসাদ যেটি ডেসডিমোনা নামে খ্যাত। আর এক নিস্তব্ধ মাটির কাছে একটু সাইনবোর্ড চোখে পড়বে যাতে লেখা আছে মার্কো পোলোর বসতবাড়ি। ওহো মার্কো পোলো সচকিত হয়ে আপনি উপলব্ধি করবেন তিনি কোন রূপকথার চরিত্র নয় ভেনিসের এই প্রসিদ্ধ বণিক এই জীবিত ব্যক্তি এক দুরন্ত যাযাবর যার তুলনা পাওয়া যায় সারা বিশ্বে। তার অত্যন্ত রমনীয় ভ্রমন কাহিনীটি থেকে এশিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ পড়তে পাই। শতাব্দীর ভেন িস জলপথে বাণিজ্যকরীদের কাছে প্রসিদ্ধ ছিল বিশেষ করে মার্কো পোলো যিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে ...

সময়

সময় দেবপ্রসাদ জানা বড় অসহ্য লাগছে বিছানাটা  বিশেষ করে ভোর বেলার বিছানা যখন জানালা দিয়ে আলোরকনা গুলো - পরমাণু হয়ে, না না তারও প্রায় হাজার ভাগের একভাগ। ঘুমন্ত চোখের ওপর এসে পড়ে - মনে হয় এই বুঝি সময় চলে গেলো,  আরো একটাদিন, আরো কিছু সময় চলে গেলো। ভেতরে, শরীরের ভেতরে উৎকণ্ঠা। অসহ্য লাগে মখমলের নরম বিছানা। শরীরের লোম গুলোর সাথে শত্রুতা বাড়ছে, সাদা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ,  মাথার ওপরটা ফাঁকা হয়ে আসছে, একটা দুটো অতিরিক্ত বেগুনি রঙের কোষ, ফর্সা চামড়ার ওপর উঁকি দিচ্ছে, ভয় ভীষণ ভয় পাচ্ছি। চোখে পর্দায় সাদা প্রলেপ, অতিরিক্ত পলক পড়ছে,  যে দাঁত গুলো এতদিন মটর ভাজা - অনায়াসে চিবিয়ে দিত, কোনোটা কালো, কোনোটা অর্ধেক, আবার কোনোটা, জমি ধরে রাখতে পারেনি। ভেতরে পিত্ত থলিও ভীষণ কষ্ট দিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে। কোমরের শক্তি কমে গেছে ভীষণ কষ্ট দেয় বেশিক্ষণ বসতে পারে না। চোখের সামনে গঙ্গার ধারের আগুন দেখতে পাচ্ছে। সময় এসে গেলো বিদায় নেওয়ার।

রাম কেন

রাম কেন? দেব লোপ্রসাদ জানা বলো দেখি রাম কেন দশরথের মুখাগ্নি করেনি? বেশি দূরে নয় তো চিত্রকুট তবু কেন আসেনি? নগরে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল বটে। নদী ধারেধারে পথ ছিল অতি নিকটে। বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও, তারে কেন ডাকেনি? বহু বছর আগের কথা কহিব এক্ষণে রামায়ণ কাব্য নয়, মহা কাব্য মানে। কিবা দোষ ছিল তার কে করে তার বিচার কহিব সম্পূর্ণ কথা কহিব স্বজ্ঞানে। অন্তরীক্ষে যুদ্ধকালে দশরথ রাজা, বিপাকে পড়িলে  জটায়ু পক্ষী তবে পিষ্ঠে বহন করি,  তারে উদ্ধারিলে। মুগ্ধ রাজা দশরথ বলে কহ মনোরথ। কি পাইলে হবে খুশি, কহ পক্ষী,  কহ মন খুলে । হাসিল বিরাট পক্ষী, কহিল আনন্দ নয়নে। সব বর তুলে রাখো, নেবো পরের দর্শনে। তারপরে আরো কিছুদিন দিনে দিনে বেড়েছে ঋণ  চার পুত্রের জন্ম হলো, দশরথের অঙ্গণে। জটায়ুপক্ষী এলো দশরথের আমন্ত্রণে। পুত্র দেখে খুশি হয়ে করে আনমনে। প্রথম পুত্র দাও ওহে রাজন। প্রতিজ্ঞা আছে তো  স্মরণ। যুদ্ধ শেষে করেছিলে অধমের সনে। রাজা দশরথ ভাবে কথা দিয়েছিনু। কথা না রাখলে হই আমি শুদ্রাণু। লয়ে যাও পক্ষিবর ছেড়ে থাকা কষ্টকর বুকে প্রস্তর রাখি রাম তোমার দিনু। সেই ক্ষণে নারদ মুনি কহিলেন তবে অন্তর...

রথ টানতে দুর্গা আসেন

—• রথ টানলে দুর্গা আসে •—   আষাঢ় মাসের শেষ নির্মল আলোক।  কৈলাস পর্বতে দেখি, অদ্ভুত ব্যস্ততা।  উৎসবের আয়োজনে, ব্যস্ত দেবলোক। মর্ত্য থেকে ভেসে আসে আনন্দ বারতা।  রথের চাকা যে আজ গড়াবে এবার।  জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রা ভগিনী। মর্ত্য অভিমুখে সবে হইবেন বার। রথে চড়ে সেজেগুজে, কঙ্কন কিঙ্কিনী। জানেন দেবতা সব, বুঝে বিচক্ষণ। ভাইবোন সুশোভন, অকলঙ্ক শশী। বাদ্য অলঙ্কার সহ, সুখ আস্বাদন। দিব্য ভাব ললনায়, তারা রাশি রাশি। অধরে অরুণ হাসি, নয়নে প্রভাতী। ভাবভরে মাতোয়ারা, কমল কানন। হিমাদ্রী শিখর পরে, অপরূপ জ্যোতি। কৈলাসের এক কোণে করে বিচরণ। মা দুর্গা আদর করে, পুত্রপুত্রি সনে। সুভদ্রা মায়ের বুকে, মাথা রেখে বলে। জগন্নাথ বলরাম না বসে আসনে। বড়ই দুষ্টুমি করে, মায়ের আঁচলে। যেন কেউ দেখতেই না পায় এখানে। দূর হতে সেই দৃশ্য, দেখে মহাদেব। মৃদু হেসে মহাদেব, আছে কি স্মরণে কাল যে রথযাত্রা এগিয়ে এলেন, সহাস্যে বদনে বললেন,    "উমা, এখনও ওদের তৈরি করতে পারোনি!" মা দুর্গা মুচকি হেসে বললেন,  "আমি তৈরি করব কী করে? দেখো না, দু'জন কেমন আঁচল ধরে লুকিয়ে আছে---মনে হচ্ছে আজ আর রথে উঠবেই ন...

পরিবেশ

পরিবেশ নদী যদি নদী বাঁচাতে না পারো তবে নোংরা ফেলা বন্ধ করো। পুজোর পরের ফুল গুলো, নিজের কাটা সবজি গুলো। বাড়িতে আনা প্লাস্টিক। গুছিয়ে রাখো ঠিক ঠিক। নর্দমায় ফেলো নাকো

"এ আই"

"এ আই" দেবপ্রসাদ জানা ধরার এই মাঝে আমি, সামান্য এক মানুষ। উন্নয়নের পৃথিবীতে, এক উড়ন্ত ফানুস। কালানল সম আগুন। কেড়ে নিচ্ছে ফাগুন। এসেছে এ আই, বুঝি বুদ্ধি হারাচ্ছে মানুষ। ভয়ানক ভাবের প্রভাব উড়ছে আকাশে। প্রকট বিকট মূর্তি এক, দেখিছে বাতাসে। মোবাইল হাতে সব। নাই কোনো কলরব। ভীষণ কালাগ্নি পোড়াবে বিষাক্ত নিশ্বাসে। কলম গেছে, খাতা গেছে, চলে গেছে বই। বন্ধু বান্ধব গেছে সব, নেই কোনো সই। কৃত্রিম যদি সব হয় বুদ্ধিমান কেমনে কয়। তার মাঝে আন্তরিক ভালোবাসা কই? এসেছে ইলেক্সা আর সিরি নামক যন্ত্র হারিয়েছে ঠাকুমা দাদুর জীবনের মন্ত্র। সদ্যোজাত শিশুরা সব,  তোলে না যে কোনো রব। বিরক্ত করে না প্রশ্নে, কেমন ষড়যন্ত্র। বুদ্ধির বিকাশ দেখো হবে নাকো আর। মা বাবা জানেনা কিছু, এমনই বিচার। "এ আই" সবই জানে, বলে দেয় কানে কানে। ভেবে দেখো কোন পথে দেশের আধার। মোবাইলে মোবাইলে, "এ আই" আসর। "রোবট" সিনেমাটা দিলো আসল খবর। রোবট ই করেছে শেষ  সুন্দর সাজানো দেশ পৃথিবীতে পড়েছে শেষে কৃত্রিমতার নজর। "এ আই" এর বিরোধী নই আমিও কখনো  কৃত্রিমতা ফাঁদে পড়ে, সব হারিয়ো না যেন। "এ আই...

বাবা

বাবা দেবপ্রসাদ জানা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সামনে আমি দেখি। বৃদ্ধ বাবার, আরো একটু বয়স হয়েছে নাকি। আমিও একটু যুবক হলাম একদিন আরো বড় হলাম। বাবার হাতের গড়া আমি, আমি বড় সুখী। অনন্ত বসন্তে আমি অনন্ত যৌবনে। সূর্য ওঠার সঙ্গে বাড়ে সন্ধ্যার দর্শনে। যখন আমি শিশু ছিলাম  মায়ের হাতে ভাত খেতাম অফিস থেকে বাবা এলে, খুশি আলিঙ্গনে। জন্ম আমার তার তেজে, মুক্ত ধরাতলে। সিক্ত করি শিশুকালে, যৌবন জ্বালি অনলে মেরেছে কখনো ক্রোধ ব'সে। হেসেছে কখনো আদর রসে। প্রাণপাত করেছে সদাই বড় হবো বলে। চিনেছি পৃথিবী চিনেছি লোক তার কাঁধে চেপে। ছেঁড়া ধুতি রিপু করা, শীতে থর থর কেঁপে। আমি বেটা লক্ষ্মীছাড়া। আদর তার বড় বেয়াড়া। হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে ভাঙেনি কোনো চাপে। একটা লজেন্স খায়নি কিনে পেটের ক্ষিদে মেরে। কি হয়েছে বল না আমায়, আনমনা দেখে মোরে। দাবি সব মানতে পারে। হাসি মুখে লড়াই করে। নাকে মুখে খেয়ে দেয়ে, নিত্য অফিস করে। কানের শক্তি হারিয়ে গেছে টাইফয়েডের জ্বরে। চোখের ওপর সাদা ছানি চলে ধীরে ধীরে। আজকে বাবা অষ্ট আশি  চোখে ছিল স্বপ্ন রাশি। যা দিয়েছে অনায়াসে আমায় আপন করে।