Posts

শকুন্তলা

শকুন্তলা নরোত্তম  নারায়ণ, দেবী সরস্বতী। নমস্কার করে করি জয় উচ্চারণ। মহর্ষি শৌনক নামে পৃথি  কুলপতি। নৈমিষারণ্যে বার্ষিক যজ্ঞ আয়োজন।  পুরাণকথক  সৌতি, এলেন সেথায় লোমহর্ষণের পুত্রে কহে  দ্বিজগণ। কোথা হতে আসিয়াছ যাইবে কোথায়? শান্ত চিত্তে বসো হেথা, তোমার আসন। মনোরম কণ্ঠে কহে পুরাণ কথক। রাজর্ষি জনমেজয় করে সর্পযজ্ঞ। কৃষ্ণদ্বৈপায়নরচিত কাহিনী রোচক। বৈশম্পায়নের  মুখে অতীব মনোজ্ঞ। পরীক্ষিৎ-সুত, কহে ওহে মুনিবর। দুষ্মন্ত -রাজার কথা শুনিব এখন। পুরাকালে মহারাজা, তার বংশধর। কেমন ছিলেন তিনি, করুন বর্ণন। চরাচরগুরু সেই হৃষীকেশ হরি। প্রনমিয়া তাঁরে আমি, ব্যক্ত করি হেথা। সর্বাগ্রে স্মরণ করি, হরি নাম করি। ব্যাসপ্রোক্ত সেই গীতি আর পুণ্যকথা,  দুষ্মন্ত নামেতে রাজা জগতে বিদিত। ধর্মতে পৃথিবী পালে, দুষ্টেরে সংহারে। তাঁহার মহিমা কথা ভারতে বন্দিত। বসুন্ধরা ভোগ করে  আসিয়া  সংসারে। মহা পরাক্রান্ত রাজা রূপগুণবন্ত। বীর পরাক্রমী রাজা  মহাধনুর্দ্ধর। পৃথিবীতে একচ্ছত্র করিল দুষ্মন্ত। মৃগরাতে সদা রত, শিকার বিস্তর। মৃগয়া করিতে গেলে, বনের ভিতর। শত হস্তী পদাতিক শত সৈন্য ...

নারী

দেখ হিন্দু-পরিবার, স্নেহ ঘরে ঘরে। কি কলহ অনিবার, কুণ্ঠিতা কমলা,  কাছে নাহি যান ডরে  বিবাহের পরে !! বনিতার ইচ্ছা যাহা, কেবল উতলা। মাতার অপ্রিয় তাহে, বিপদ-বিস্তর। ডোবে গিন্নি-অশ্রু-জলে, মাতৃরোষানলে,- হিত না বলেন পিতা, বিবাদে ভ্রাতায়! গৃহী পেয়ে পরিতাপ, "নারী কিবা বলে। রে মূঢ়! কাতর কেন থাকিতে উপায়?- খেদ ছাড়, যত্ন করো  ললনা-শিক্ষায়। কোথা শিক্ষা ললনার, হৃদয় গ্রহণ তার! কোথা দ্রুত ধেয়ে গিয়ে কেশ আকর্ষণ! সুমধুর শব্দ সহ, কোথা পাঠ নীতিবহ! কোথা চটচট চৰ্ম্ম-পাতৃকা পতন!

অপারেশন

অপারেশন দেবপ্রসাদ জানা সাতদিন অসম্ভব যন্ত্রণা  রাতের বাতাস যেন অক্সিজেন হীন  জানালার গ্রীল গুলো অদৃশ্য পাঁচির তুলে দিয়েছে। একটু বাতাস চাই, বিশুদ্ধ বাতাস। যে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি। ওষুধের গন্ধে ভরে আছে দশ বাই দশের ঘর। আমি হ্যাঁ করে আছি একটু বাতাসের জন্য। বুকের ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে যন্ত্রণা। হ্যাঁ অক্সিজেন, অম্লজান।  এ প্রাণ দায়ী বায়বীয়,  তত্ত্বগত ভাবে অসীম ক্ষমতার অধিকারী তা। ভেতর থেকে একটা কিছু বেরিয়ে আসতে চাইছে  পারছে না। বায়বীয় কিছু - এ এক সশস্ত্র লড়াই অমরত্ব লাভের। ঠিক মুখের ওপর একটা কৃত্রিম সূর্য ঠিক তার নিচে আমি রঙিন দুটো হাত এগিয়ে আসছে,  একটা প্রশ্ন করলো না দেখা মুখটা বলল বসুন সোজা হয়ে,  পিঠের ঠিক মাঝখানে শিরদাঁড়ায় পিন ফোটা বেদনা,  চোখ তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম না কিছু। তবু ওরা বলল চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ুন। পায়ের আঙুল গুলো নাড়তে পাচ্ছি না। বুকের পাঁজরের ঠিক নীচে, একটা চাপ অনুভব করছি। কিছু বুঝতে পারছি না কেন,  আর নড়তে ইচ্ছে করছে না। না নড়তে পারছি না। আমার অজান্তে বাইরের লাল বাতিটা জ্বলে গেলো নিশ্চয়।

ভবঘুরে আত্মা

ভবঘুরে আত্মা দেবপ্রসাদ জানা একটা ভবঘুরে আত্মা এসে জোর করে  ভেতরে ঢুকে গেলো। তখনো আমি শরীর থেকে পুরোপুরি বেরোয়নি। মৃত্যু দূত তখনও আমাকে খেলাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝে ভরা শরীরটা থেকে আত্মাটাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিলো মৃত্যুদূত। আর সেই মুহূর্তে ঢুকে গেলো ভবঘুরেটা। ঈশ্বর, ওই যার নাম কৃষ্ণ, কানাই,  গোপাল আরো কত-কি সে যাই হোক, তার নাভি থেকে যার জন্ম তার নাম  ব্রহ্মা। তার নাকি আজ কাল বড় আলস্য। কাজ পত্র ঠিক করে না। হাতে যে বেদ গুলো ছিল, তাও হারিয়ে গেছিল একবার। তাহলে বলুন আমাদের কি দোষ?  আমার শরীরটাকে যদি কেউ চুরি করে,  কি করার আছে,  সেতো নয় হলো, শরীরটা চুরি হলো, তবুও কিচ্ছু বললোনা যমদূত,  আত্মাটা একটা মুচকি হেসে, হাতের দুই আঙুলে  একটা ইসারা করলো,  আরে ঘুষ, ঘুষ দিয়ে শরীরটা নিয়ে নিলো, আমি একটা প্রতিবাদও করতে পারলাম না। কোটি কোটি বছর ধরে একটা লোক  হিসাব কষছে, বয়সের গাছ পাথর নেই,  এখনও আমি ঘুরছি আমার দেহের আশেপাশে। ঘরের ভেতরে ভীষণ কান্নাকাটি। চোখ মেলেছে ভবঘুরে আত্মাটা,  এবার হয়তো উঠে বসবে,  কে একজন দেখতে পেয়ে বলল...

যমুনা তীরে

💫🕊🍂"যমুনাতীরে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের মধুর বাল্যলীলা ♦:- দ্বাপর যুগের এক অপরূপ সকাল।  বৃন্দাবনের আকাশে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। যশোদা মাতা ও রোহিণী মাতা পরম স্নেহে দুই ভাই—শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। আজ দুই ভাই তাঁদের সখাদের সাথে গভীর বনে গো-চারণে (গরু চরাতে) যাবেন।যাওয়ার আগে মায়েরা তাঁদের সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। শ্যামবর্ণ কৃষ্ণের পরনে জড়ানো হলো উজ্জ্বল হলুদ ধুতি (পীতাম্বর), গলায় দুলিয়ে দেওয়া হলো সুগন্ধি বুনো ফুলের মালা, আর মাথায় গোঁজা হলো তাঁর প্রিয় ময়ূরের পালক। অন্যদিকে, গৌরবর্ণ বলরামকে সাজানো হলো নীল রঙের বসনে ও সুন্দর অলঙ্কারে। বনে যাওয়ার জন্য তাঁদের হাতে দেওয়া হলো রাখাল লাঠি, বাঁশি আর মহিষের শিং দিয়ে তৈরি শিঙা (শিং দিয়ে তৈরি এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র)। ♦মায়েরা পরম যত্নে দুই ভাইয়ের পোটলাতে সুস্বাদু মাখন ও মিষ্টি খাবার বেঁধে দিলেন। এরপর শ্রীদাম, সুদাম, সুবল ইত্যাদি গোপবালকদের সাথে নিয়ে কৃষ্ণ-বলরাম তাঁদের বিশাল গরুর পাল নিয়ে বনের দিকে রওনা হলেন।হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌঁছালেন যমুনার তীরের এক মনোরম উপত্যকায়। চারপাশে ঘন সবুজ ঘাস, পাহাড়ি ঝরনা থেকে ঝরে পড়া শীতল...

মৃত্যু

মৃত্যু ও  মৃত্যুর উৎপত্তি মৃত্যু কিন্তু মৃত্যু হতে চায়নি কখনো। তবু নিয়তি তাঁর নাম দিয়েছে মৃত্যু।  নিয়তি কে? স্বয়ং কমলযোনি ব্রহ্মা। যিনি আমাদের আগামীর বাহক। পুত্রশোকাকূল অকম্পন নৃপতির শোক দেখে,  দেবর্ষি নারদ তাঁকে  ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন------ পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রজাকূল সৃষ্টি করে বেশ প্রসন্নই ছিলেন #ব্রহ্মা।  সকলের নিয়তিতে সুখ লিখছেন আর মেতে আছেন শুধু সৃষ্টিতে।  বিনাশ, সংহার এই শব্দ গুলো তাঁর কাছে তখন অপরিচিত।  কিন্তু মাতা বসুধা ভারাক্রান্ত ক্লিষ্ট বদনে যেদিন সামনে এসে দাঁড়ালেন, সত্য দর্শন হল ব্রহ্মার।  অসহায় ব্রহ্মা নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।  তাঁর ভয়ঙ্কর তেজে আকাশ হতে অগ্নি নির্গত হয়ে ধরাকূলের সমস্ত প্রাণী, জড়কে বিনষ্ট করতে শুরু করল। পৃথিবী যখন প্রায় ভষ্মিভূত স্বয়ং মহাদেব প্রজাকূলের রক্ষা হেতু ব্রহ্মা কে ক্রোধ সম্বরণ করার অনুরোধ জানালেন। তখন সেই অগ্নিতেজ ব্রহ্মা নিজের মধ্যে সমাহিত করে সৃষ্টি করলেন এক নারীর।  কৃষ্ণ, লোহিত, পিঙ্গল ত্রিবিধ রং  মিশ্রিত সে নারী, রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু ও বিবিধ ভূষণে সজ্জিত হয়ে ব্রহ্মা ও মহেশ্বরের দক...

লক্ষ্মণা

দুর্যোধনের কন্যা ছিলেন লক্ষ্মণা।  তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী  এবং গুণবতী।  ভগবান ‎শ্রীকৃষ্ণ ও জাম্ববতীর পুত্র ছিলেন সাম্ব।  তিনি লক্ষ্মণাকে পছন্দ করতেন।  এদিকে ‎দুর্যোধন লক্ষ্মণার স্বয়ংবরের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সাম্ব বীরের মতো স্বয়ংবরের ‎মাঝখানে উপস্থিত হয়ে লক্ষ্মণাকে বলপূর্বক হরণ করে নিয়ে গেলেন। ‎ ‎এই ঘটনা দেখে কৌরবরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন।  দুর্যোধন, কর্ণ এবং আরও ছয়জন মহারথী ‎সাম্বকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়লেন।  সাম্ব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের পুত্র ছিলেন,  তাই বীরত্বে ‎তিনি কোনো অংশেই কম ছিলেন না।  তিনি একাই সেই ছয়জন মহারথীকে নাজেহাল করে দিয়েছিলেন। ‎ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে কোনোভাবে তাঁকে বন্দী করলেন এবং লক্ষ্মণাকে তাঁর থেকে ‎আলাদা করে দিলেন। ‎ ‎এই পুরো ঘটনার কথা দেবর্ষি নারদ দ্বারকায় গিয়ে যাদবদের জানালেন। শুনে তাঁরা প্রচণ্ড ‎রেগে গেলেন এবং কৌরবদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন। ঠিক সেই সময় বলরামজি ‎সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যাদবদের শান্ত করে বোঝালেন যে, এভাবে হুট করে যুদ্ধ শুরু ‎করা উচিত নয়। তিনি নিজেই হস্তিনাপুরে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা ...