সৃষ্টি
যেথায় পৃথিবী ছিল মনোহর বেশে। নেই স্থল নেই বন, অনন্ত নিবাসে। পরিপূর্ণ জল আর অন্ধকারে ঢাকা। ওম ওম শব্দ ওঠে ঘোরে মহা চাকা। অগ্নিচক্র হতে তার ঝরে পড়ে ওম। চক্রে অবস্থান করে মহাপূণ্য ওম। দিব্য এক মহাতেজ জ্যোতির্ময়ী দেবী। সেই দিব্য ওম এক ছিন্ন করে দেবী। সৃষ্টি হয় ত্রিকালদর্শী মহাপুরুষ। দেখি যে বিচিত্র শোভা শৈল আর জলে। ভীষণ সমুদ্র ত্রাস শব্দের কল্লোলে। নিদ্রায় রয়েছে দেব অনন্ত সমুদ্রে। নাভি হতে পদ্ম ফুটে, ব্রহ্মা মহাভদ্রে। চিন্তায় মদিত হয়ে, রসের সাগর। কেমনে রচিবে সৃষ্টি, পৃথিবীর পর। নারায়ণ নিদ্রা যায়, অতি অপরূপ। উথলে ভাবুক দেব কেন রয় চুপ। মেঘমালে শ্যাম অঙ্গ চমক উজ্জ্বল। দিনকর নিশাকর নক্ষত্র মণ্ডল। সরসী সরিৎ সিন্ধু শেখর সুন্দর। দেখা মাত্র রোমাঞ্চিত হয় কলেবর। ততক্ষণে নারায়ণ করিল প্রকাশ। মৃদু মৃদু হাসে দেব, কিসের প্রয়াস। তাঁর কর্ণ হতে জন্মে মধু ও কৈঠব। নানা বরে বলিয়ান করি অনুভব। যুগ যুগ আলোচনা চলে নিরন্তর। জলমগ্ন পৃথিবীর না কাটে প্রহর। সৃষ্টির অমূল্য কথা, বেদের অন্তরে। গড়িতে প্রকৃতি, বেদ ছিল তাঁর ঘরে। তাই দিয়ে সৃষ্টিকর্তা, কি রচিবে জানে। ব্রহ্মার অন্তরে উঠে