Posts

ঘাসফুল

আরে আরে ছুঁড়ছ কেন ডিমের প্রচুর দাম। মালদা থেকে নিয়ে এসো পঁচে যাওয়া আম। বেড়ে গেলো ডিমের দাম এই পঁচা গরমে। টমেটো ও বাজারে ছিল পঁচলো বুঝি শরমে। দাও না ছুঁড়ে মনের জোরে  অনেক খেলি হারামে। চুপি চুপি মুখ লুকিয়ে যাচ্ছে যারা যাক না। ডিম থেকে ফুটবে বাচ্চা ডিম এখন থাকে না। যার গায়ে যটা ডিম  মেরেছো যা লুকিয়ে। শরমে তো মুখ তুলে দেখেনি তা তাকিয়ে। কোটি কোটি টাকা দেখো  ফোলছে ডোবা জমিতে। সোনার ডিম পাড়ছে দেখো। সল্টলেকের ভূমিতে। দেখে নিত চার তারিখে ফুটতো যদি ঘাসফুল। দিল্লি থেকে পা বাড়িয়ে মাড়িয়ে গেলো ঘাসফুল।

স্বপ্নপুরী লন্ডন

স্বপ্নপুরী লন্ডন আহা স্বপ্নপুরী তো নয়  খোপে খোপে ক্যান্সার। এ-কোথায় ঘুম ভাঙল আমার? পচন ধরা কাঠের গুড়ির মত। তোমরা না ফুলের শয্যায় রেখেছিলে আমাকে? শতাব্দীর কারান্ধকার যুক্ত জীবনের বসন্তের ফুল?  আমি ঘুমিয়েছিলাম-তোমাদের স্বপ্নপুরী, স্মৃতি সৌধের মণিকোঠায়, কী প্রশান্ত, পরিতৃপ্ত সে ঘুম! উঃ। ফুলগুলো কি সব কাঁটা হয়ে গেল? পাপড়িগুলো কেন এমন বিষাক্ত তীর? আমার সর্বাঙ্গে মালায় মালায় যেন কালসাপের ছোবল! না, সে স্বপ্নপুরী তো নয় এ-এ কোথায় ঘুম ভাঙল আমার? এ কি অন্ধকার পাতালপুরীতে আমি নিঃসঙ্গ একা-আমার দেহ ঘেরা কাঁচের ঢাকনাগুলোর ওধারে কাদের ওই কালো কালো মুখ? আমি কি কালঘুমে ঘুমিয়েছিলাম! আমি তো ঘুমিয়েছিলাম আমার চিরসাথীর ইস্পাতের বর্ম ঢাকা বুকের কোমল উত্তাপে। আমার একান্ত কমরেড স্তালিন তার বিশ্বস্ত হাত দু'খানা পরম স্নেহে আর নিষ্ঠায় ঢেকে রেখেছিল আমার গুলি বেঁধা বুকের পাঁজরথানাকে-উঃ! বিশ্বাসঘাতকের সেই গুলি ৩৩

আবোল ডবল

কেন জানি লাগছে ভালো আজ কবিতা লিখতে। হঠাৎ করে খুলছে কলম তোমার ছোঁয়া লাগতে। কেমন দেখো গরম কড়াই  সাহস দেখো তার। চুপটি করে ভালোবেসে ছোঁয়া নিলো তার। যার চোখের হাসিতে আমি সরস কবি হই। একটু ছোঁয়া নিতে গিয়ে দগ্ধ আমি সই। কি জ্বলছে ঠোঁট না গাল আলতো ছোঁয়া মিষ্টি। ঠোঁটের ওপর শীতল বাতাস আর হালকা বৃষ্টি অনুপ্রেরণায় লিখতে বসি তোমার ঝালে বাঁধি। ডিম দিয়ে ভাত কচুর লতি  জনতা জ্বেলে রাঁধি। মাছের ঝোল ভাত না ডাল আলু ভাতে শুকনো লঙ্কার ঝাঁজ দিলে কালো জিরার সাথে

পরিস্থিতি

প্রথম সর্গ ১ অন্ধকার হতে আজ, আলোর আকাশে। রামধনু উঠিয়াছে, মেঘ ধরে ভাসে। কাননে ফুটেছে ফুল, নানা রঙে হাসে। পাখি সব করে রব, বসন্তের মাসে। পলাশের বনে আজ, ঢেউ খেলে যায়। আগুনে ফাগুন মাস, রঙ পরিখায়। ২ দিন শেষে অন্ধকার, গভীর নিশায়। নির্মূল আকাশ চিরে, শশী ভেসে যায় ।  কাননের পাতা ছাদ, নাচে শশিকরে।  পবন দোলায় তায় সুমধুর স্বরে ॥  নীচে তার অন্ধকারে, আছে ক্ষুদ্র নদী।  অন্ধকার মহাস্তব্ধ, বহে নিরবধি ॥  ভীম তরুশাখা যথা পড়িয়াছে জলে,  কল কল করি বারি সুরবে উছলে ॥  আঁধারে অস্পষ্ট দেখি, যেন বা স্বপন!  কলিকাস্তবকময় ক্ষুদ্র তরুগণ ॥  শাখার বিচ্ছেদে কভু, শশধরকর,  স্থানে স্থানে পড়িয়াছে, নীল জলোপর ॥  ঘোর স্তব্ধ নদীতটে; শুধু ক্ষণে ক্ষণে,  কোন কীট যায় আসে নাড়া দিয়ে বনে ॥  শুধু অন্ধকার মাঝে, অলক্ষ্য শরীর!  কোন হিংস্র পশু ছাড়ে, নিশ্বাস গভীর ॥

জন্মদিন

কবিতা :  আবার এসেছে উৎসব  আবার এসেছে উৎসব জন্মদিনের সারাদিন পরে সময়ের অভিমান একটু খুনসুটি হলো সন্ধ্যায়। বাক্য জালে বাদ্য বাজে নতুন সাজে আবার এসেছে উৎসব ছাব্বিশে মে। ছোট্টটি থেকে বেশ বড় হুকুমের গোলাম আমি আদরে আদরে সামনে বামে, আগে পিছু রংবেরং বেলুন কিছু, ভালোবাসার খোঁজে কিছু অভিমান মেখে হাতে হাত আদরের আবেশে মিষ্টি বুলি,  ভালো লাগে শাসনে শাসনে রেগে যেতে। এক মিনিটের ভেঙে যায় রাগারাগি। দীর্ঘজীবী হও ভালো থেকো  আমার অবশিষ্ট আয়ু তোমার হোক,  এগিয়ে চলো সবার আগে  আবার আসুক উৎসব জন্মদিনের। অহংকার বিস্তীর্ণ একটা মাঠ  একটা ছায়া ক্রমশ লম্বা হচ্ছে অহংকারে রোদ আর ছায়া সঙ্গে সময়  এখন সময়ের হাতে প্রচুর সময় কেবল আমাদের পছন্দের সময় নেই ফিরবে সবাই কাজে লম্বা ছায়ারা  কে জানে কতজনের প্রাণ যাবে এর মাঝে। ছায়ার পরিবার অহংকারের পরিবার কেবল ক্ষমতার বলীয়ান।  . . . .

এ হিন্দুত্বই

এই হিন্দুত্বতেই  ডাকাত রত্নাকর সাধু হয় মূর্খ কালিদাস জ্ঞানী হয় ভাঙন দেবপ্রসাদ জানা ভাঙছে দোকান ভাঙছে ঘর জবর দখল উঠল শেষে। বুলডোজারের বৈশাখী ঝড় উড়িয়ে দিলো শান্ত বেশে। সীমান্তে আজ পড়ল বেড়া  প্রতিবাদী গুপ্তচর। প্রতিবেশী দিশেহারা ভাঙলো বুঝি গুপ্তগড়। চারদিকে তার গেরুয়া ঘেরা ডিপ সবুজের চক্র শেষ। দলে দলে সীমান্তে ভিড় সুস্থ হবে এবার দেশ। অনুপ্রেরণায় অনুপ্রবেশ এবার বুঝি হলো শেষ। কাঁটা তারের দেওয়াল তুলে স্বচ্ছ হবে এবার দেশ। বাংলা ভাষার নামে যারা রব তুলেছে বাংলা জয়। মুঠোবন্দি করার আশায় শব্দ আজ পাচ্ছে ভয়। শব্দের পিঠে শব্দ জুড়ে  চড়ে রাতদিন ঘোড়া ঘোড়া খেলা -- লাগাম পরিয়ে এক ছুটে গোল্লাছুট -  রূপকথার দেশে । গত জন্মের ভাব-আড়ি খেলায় এখানেই ইতি , কাব্যের একহাত কাঁধ ছুঁয়ে আরও ঘনিষ্ঠ -- নব দম্পতির আড়াল-আবডাল নেশা ; কাব্যের প্লাবনে ঝলমল রাতের আকাশ বেসামাল ... দু'চোখের গভীরে জমানো ডিম্বাণু  তিল তিল করে বেড়ে ওঠে জঠরে , কল্পনায় আকাশ ছোঁয়া হাতে  নবজাতকের কান্না -- কোন্ সুদূরে বেজে ওঠে মাঙ্গলিক ধ্বনি । সাত জন্মের তপস্যার ফল বুকে বয়ে ঘরে ফেরা মন মুঠোবন্দি জাতক উল্লাসে।...

বাবা

-হ্যাঁ গো ক দিন ধরে অফিসে যাচ্ছো না কেন? রান্নাঘর থেকে মনোরমা রাজুর  উদ্দেশ্যে বলল। - অফিসে ছুটি নিয়েছি। শরীরটা ভালো নেই। কাজ করতে ভালো লাগছে না। মনোরমা বড় মেয়ের টিফিন বক্সটা রেডি করে দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো। রাজু গভীর চিন্তায় ।