Posts

মহাভারতে রামায়ণ

মহাভারতের বনপর্বের এক অংশে ঋষি মার্কেন্ডয় যুধিষ্ঠিরকে ত্রেতাযুগে শ্রীরামের লীলা প্রসঙ্গে বহু কথা শোনান। এই কারণেই মহাভারতের বনপর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে রামায়ণের কিছু কাহিনীর উল্লেখ আছে। ঋষি মার্কেন্ডেয় যুধিষ্ঠিরকে বললেন, সীতাহরণের পর রাবণ মাতা সীতাকে লঙ্কার অশোক বটিকায় রেখেছিল। সেখানে বহু ভয়ঙ্কর রাক্ষসী দ্বারা মা সীতা পরিবেষ্টিত থাকতেন। এইসব রাক্ষসীরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করত যে তারা মা সীতাকে একদিন খেয়ে ফেলবে। তারা মা সীতাকে ভয়ও দেখাতো। কিন্তু মা সীতার এসবে কোনো ভয় উৎপন্ন হতো না মনের মধ্যে। একদিন মা সীতা কাঁদতে কাঁদতে সেই রাক্ষসীদের বললেন, তোমরা আমাকে খেয়েই ফেলো; শ্রীরামের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমি এমনই মৃতপ্রায়!  এইসব রাক্ষসীদের মধ্যে ত্রিজটা নামের এক রাক্ষসী ছিলো; সে ছিল ধর্ম প্রাণ এবং সত্যবাদী। রাক্ষসী হলেও সে ছিলো নারায়ণের পূজারী। তিনি মাতা সীতাকে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ বিরহে কাঁদতে দেখে খুবই কষ্ট পেলো এবং নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে সে মা সীতার কাছে এসে বলল, রাবণ কখনওই মা সীতাকে স্পর্শ করতে পারবে না; কারণ রাবণ অভিশপ্ত! রাবণ একবার নলকুবেরর স্ত্রী রম্ভাকে স্পর্শ করেছিলো, নলকুবের ক...

ধৃষ্টদ্যুম্ন

🔴ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে দ্রোণ এবং পাঞ্চালরাজ প্রষতের পুত্র দ্রুপদ একসাথে বিদ্যাচর্চা করতেন। শৈশবে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আবেগের বশে রাজপুত্র দ্রুপদ দ্রোণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি যখন পাঞ্চালের রাজা হবেন, তখন তাঁর রাজ্য, সম্পদ ও সুখের অর্ধেক দ্রোণকে ভাগ করে দেবেন। পরবর্তীকালে দ্রুপদ পাঞ্চালরাজ হিসেবে সিংহাসনে বসেন, অন্যদিকে দ্রোণ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন। এমনকি তাঁর পুত্র অশ্বত্থামাকে দুধের বদলে চালের জল গুলে খাওয়াতে হতো। বাধ্য হয়ে দ্রোণ বাল্যবন্ধুর কাছে সাহায্য চাইতে পাঞ্চাল রাজসভায় যান। কিন্তু ঐশ্বর্যের অহংকারে মত্ত দ্রুপদ দ্রোণকে চরম অপমান করে বলেন: "রাজায় রাজায় বন্ধুত্ব হয়, রাজা আর ভিখারির মধ্যে কখনো বন্ধুত্ব হতে পারে না।" দ্রুপদ দ্রোণকে ভিক্ষুক হিসেবে কিছু দান করতে চাইলে, চরম অপমানিত হয়ে দ্রোণ রাজসভা ত্যাগ করেন এবং শপথ নেন যে তিনি এই অপমানের প্রতিশোধ নেবেন। পরবর্তীকালে দ্রোণ হস্তিনাপুরে কৌরব ও পাঞ্চবদের অবস্ত্রগুরু নিযুক্ত হন। শিক্ষা শেষে গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি শিষ্যদের কাছে পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে বন্দী করে আনার নির্দেশ দেন। পাণ্ডবদ...

সুর্পনক্ষা

অনেকে মনে করেন, রাক্ষ'সী শূর্পনখার সাথে এ ভারী অন্যায় হয়েছে। সে তো প্রেমের প্রস্তাব নিয়েই শ্রীরাম/লক্ষ্মণের কাছে গিয়েছিল। প্রেমের প্রস্তাব শুধু প্রত্যাখ্যান করেই কি বিষয়টিকে সেখানেই মিটিয়ে ফেলা যেত না! পঞ্চবটীতে অবস্থানকালে রাক্ষ'সী শূর্পনখা শ্রীরামের রূপ দেখে মোহিত হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাম জানান যে তিনি বিবাহিত এবং সীতা তাঁর স্ত্রী। কৌতুকবশত রাম তাকে লক্ষ্মণের কাছে পাঠান। লক্ষ্মণও নিজেকে রামের অনুগত দাস হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে পুনরায় রামের কাছে ফেরত পাঠান। পরপর প্রত্যাখ্যাত হয়ে শূর্পনখা প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। সে মনে করে যে, সীতার কারণেই রাম তাকে গ্রহণ করছেন না। ফলে সে সীতাকে হ'ত্যা করে ভবক্ষণ করার জন্য উদ্যত হয় এবং সীতার ওপর আক্রমণ চালায়। শূর্পনখার এই হিংস্র রূপ দেখে সীতা অত্যন্ত ভী'ত হয়ে পড়েন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও যখন শূর্পনখা যায় না, তখন শ্রীরাম লক্ষ্মণকে শূর্পনখাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে বলেন। তিনি ভ্রাতা লক্ষ্মণকে আদেশ করেন শূর্পনখার নাক, কান কে'টে ফেলতে। লক্ষ্মণ বড় ভ্রাতার আজ্ঞা মত কাজ করেন। (শূর্পনখার নাক-কান কাটা - বাল্মিকী রামায়ণ/ অরণ্যকান্ড/সপ্তদশ ...

এক দুরন্ত যাযাবর

এক দুরন্ত যাযাবর  জ্যোতির্ময় দাশ মধ্যযুগে ভেনিস দেশবাসীদের কাছে চীন বা জাপান যেমন রোমান্টিক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, আমাদের অনেকের কাছেই ভেনিস শহর তেমনই রোমান্টিক। আপনি যদি সেখানে পৌঁছেও যান, মনে হবে আপনি যেন এক স্বপ্নের দেশে উপস্থিত হয়েছেন। সূর্যালোকে উদ্ভাসিত প্রাসাদের বর্ণালী পাথরের গম্বুজ গুলো, পাতলা কাঠের মধ্যে ভঙ্গুর পাথরের খোদাই করা খিলানগুলো মনে হয় যেন কাপড়ের উপরে সৃষ্টি শিল্পের কাজ। আপনার নৌকা রিয়াদতো সেতুর নিচে দিয়ে যাবে যে সেতুর তলা দিয়ে শার্লক প্রায়ই যাতায়াত করতেন, ক্রমশ পথে পড়বে এক প্রাসাদ যেটি ডেসডিমোনা নামে খ্যাত। আর এক নিস্তব্ধ মাটির কাছে একটি সাইনবোর্ড চোখে পড়বে যাতে লেখা আছে মার্কোপোলোর বসতবাড়ি। ওহো মার্কোপোলো সচকিত হয়ে আপনি উপলব্ধি করবেন তিনি কোন রূপকথার চরিত্র নয় ভেনিসের এই প্রসিদ্ধ বণিক, এই জীবিত ব্যক্তি এক দুরন্ত যাযাবর, যার তুলনা পাওয়া যায় সারা বিশ্বে। তার অত্যন্ত রমনীয় ভ্রমন কাহিনীটি থেকে এশিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ পড়তে পাই। শতাব্দীর ভেনিস, জলপথে বাণিজ্যকরীদের কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে মার্কোপোলো যিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য...

সময়

সময় দেবপ্রসাদ জানা বড় অসহ্য লাগছে বিছানাটা  বিশেষ করে ভোর বেলার বিছানা যখন জানালা দিয়ে আলোরকনা গুলো - পরমাণু হয়ে, না না তারও প্রায় হাজার ভাগের একভাগ। ঘুমন্ত চোখের ওপর এসে পড়ে - মনে হয় এই বুঝি সময় চলে গেলো,  আরো একটাদিন, আরো কিছু সময় চলে গেলো। ভেতরে, শরীরের ভেতরে উৎকণ্ঠা। অসহ্য লাগে মখমলের নরম বিছানা। শরীরের লোম গুলোর সাথে শত্রুতা বাড়ছে, সাদা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ,  মাথার ওপরটা ফাঁকা হয়ে আসছে, একটা দুটো অতিরিক্ত বেগুনি রঙের কোষ, ফর্সা চামড়ার ওপর উঁকি দিচ্ছে, ভয় ভীষণ ভয় পাচ্ছি। চোখে পর্দায় সাদা প্রলেপ, অতিরিক্ত পলক পড়ছে,  যে দাঁত গুলো এতদিন মটর ভাজা - অনায়াসে চিবিয়ে দিত, কোনোটা কালো, কোনোটা অর্ধেক, আবার কোনোটা, জমি ধরে রাখতে পারেনি। ভেতরে পিত্ত থলিও ভীষণ কষ্ট দিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে। কোমরের শক্তি কমে গেছে ভীষণ কষ্ট দেয় বেশিক্ষণ বসতে পারে না। চোখের সামনে গঙ্গার ধারের আগুন দেখতে পাচ্ছে। সময় এসে গেলো বিদায় নেওয়ার।

রাম কেন

রাম কেন? দেব লোপ্রসাদ জানা বলো দেখি রাম কেন দশরথের মুখাগ্নি করেনি? বেশি দূরে নয় তো চিত্রকুট তবু কেন আসেনি? নগরে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল বটে। নদী ধারেধারে পথ ছিল অতি নিকটে। বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও, তারে কেন ডাকেনি? বহু বছর আগের কথা কহিব এক্ষণে রামায়ণ কাব্য নয়, মহা কাব্য মানে। কিবা দোষ ছিল তার কে করে তার বিচার কহিব সম্পূর্ণ কথা কহিব স্বজ্ঞানে। অন্তরীক্ষে যুদ্ধকালে দশরথ রাজা, বিপাকে পড়িলে  জটায়ু পক্ষী তবে পিষ্ঠে বহন করি,  তারে উদ্ধারিলে। মুগ্ধ রাজা দশরথ বলে কহ মনোরথ। কি পাইলে হবে খুশি, কহ পক্ষী,  কহ মন খুলে । হাসিল বিরাট পক্ষী, কহিল আনন্দ নয়নে। সব বর তুলে রাখো, নেবো পরের দর্শনে। তারপরে আরো কিছুদিন দিনে দিনে বেড়েছে ঋণ  চার পুত্রের জন্ম হলো, দশরথের অঙ্গণে। জটায়ুপক্ষী এলো দশরথের আমন্ত্রণে। পুত্র দেখে খুশি হয়ে করে আনমনে। প্রথম পুত্র দাও ওহে রাজন। প্রতিজ্ঞা আছে তো  স্মরণ। যুদ্ধ শেষে করেছিলে অধমের সনে। রাজা দশরথ ভাবে কথা দিয়েছিনু। কথা না রাখলে হই আমি শুদ্রাণু। লয়ে যাও পক্ষিবর ছেড়ে থাকা কষ্টকর বুকে প্রস্তর রাখি রাম তোমার দিনু। সেই ক্ষণে নারদ মুনি কহিলেন তবে অন্তর...

রথ টানতে দুর্গা আসেন

—• রথ টানলে দুর্গা আসে •—   আষাঢ় মাসের শেষ নির্মল আলোক।  কৈলাস পর্বতে দেখি, অদ্ভুত ব্যস্ততা।  উৎসবের আয়োজনে, ব্যস্ত দেবলোক। মর্ত্য থেকে ভেসে আসে আনন্দ বারতা।  রথের চাকা যে আজ গড়াবে এবার।  জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রা ভগিনী। মর্ত্য অভিমুখে সবে হইবেন বার। রথে চড়ে সেজেগুজে, কঙ্কন কিঙ্কিনী। জানেন দেবতা সব, বুঝে বিচক্ষণ। ভাইবোন সুশোভন, অকলঙ্ক শশী। বাদ্য অলঙ্কার সহ, সুখ আস্বাদন। দিব্য ভাব ললনায়, তারা রাশি রাশি। অধরে অরুণ হাসি, নয়নে প্রভাতী। ভাবভরে মাতোয়ারা, কমল কানন। হিমাদ্রী শিখর পরে, অপরূপ জ্যোতি। কৈলাসের এক কোণে করে বিচরণ। মা দুর্গা আদর করে, পুত্রপুত্রি সনে। সুভদ্রা মায়ের বুকে, মাথা রেখে বলে। জগন্নাথ বলরাম না বসে আসনে। বড়ই দুষ্টুমি করে, মার আঁচল ধরে। যেন কেউ দেখতেই না পায় এখানে। দূর হতে সেই দৃশ্য, দেখেন শঙ্কর। মৃদু হেসে মহাদেব, আছে কি স্মরণে কাল যে রথযাত্রা, হওনি তৎপর। এগিয়ে এলেন "শিব, সহাস্যে বদনে। বললে, এখন কেন, তৈরি হতে বাকি। সময় চলে যে সদা, আপনার মনে। দিনক্ষণ গ্রহ তারা, ধীরস্থির নাকি। মা দুর্গা মুচকি হেসে, বললে এখন।  বলো দেখি কী করব, দু'জনের সাথে। আঁ...