Posts

স্বর্গ সভা

স্থান— স্বর্গসভা। কালভৈরব, যমরাজ ও যুধিষ্ঠির বসিয়া আছেন। নারদ— নারায়ণ! নারায়ণ! প্রভু, মর্ত্য হইতে এমন খবর আনিয়াছি—শুনিলে আপনারও ভ্রূদ্বয় নাচিয়া উঠিবে! কালভৈরব— উপহাস না করিয়া বলিয়া ফেল। নারদ— এক মহা সনাতনী নেত্রী রবীন্দ্র সরোবর হইতে কুকুর তাড়াইবার হুমকি দিয়াছেন! যমরাজ— কেন? কি হইল? নারদ—  কুকুর কেন পটি করিবে—ইহাতেই উনি চটিয়াছেন! কালভৈরব—  তোমার কথা আমি ঠিক বুঝিতে পারিলাম না। মহা সনাতনী নেত্রী কি পটি না করিয়াই বাঁচিয়া রহিয়াছেন? নারদ—  সে খবর যমরাজই জানেন! আপাতত সরোবরের চারিধার পটিমুক্ত করিবার চিন্তা। ভবিষ্যতে রাস্তাঘাটও তালিকায় আসিতে পারে! কালভৈরব—  আমার বাহন লইয়া এইরূপ অবজ্ঞা? আমার বাহনের অপরাধ—পটি? নারদ—  হাঁ প্রভু। মনুষ্যকুল প্লাস্টিক, বোতল, আবর্জনা ফেলিলে উহা পরিষ্কার করিয়া লইতে পারিবেন। কিন্তু, কুকুর পটি করিলেই উনি বেজায় রাগ করেন! যুধিষ্ঠির— আমি তো স্বর্গের দরজায়ও কুকুরটিকে ত্যাগ করি নাই। আর মর্ত্যে কুকুরের পটি দেখিয়াই ধর্মের ধ্বজাধারীদের এত রাগ! কালভৈরব—  ইহারা আমার বাহনকে তাড়াইয়া সনাতন ধর্ম রক্ষা করিবে? নারদ—  শাস্ত্রে হয়তো...

খান্ডব বন

🔥🌳 মহাভারতে এমন এক বন ছিল, যেটি স্বয়ং অগ্নিদেব দহন করতে চেয়েছিলেন… কিন্তু ইন্দ্র বারবার সেই বনকে রক্ষা করছিলেন কেন? 🌳🔥 সেই বনের নাম ছিল—খাণ্ডব বন। কাহিনিটি সেই সময়ের, যখন অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণ যমুনার তীরে খাণ্ডব বনের কাছে অবস্থান করছিলেন। তখন তাঁদের সামনে এক তেজস্বী ব্রাহ্মণের বেশে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, তাঁর প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে এবং এমন খাদ্য তিনি চান, যা তাঁর ক্ষুধা সম্পূর্ণরূপে নিবৃত্ত করতে পারে। শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন—তিনি আসলে কী ধরনের খাদ্য চান? তখন সেই ব্রাহ্মণ তাঁর প্রকৃত রূপ প্রকাশ করলেন। তিনি কোনো সাধারণ ব্রাহ্মণ ছিলেন না—তিনি ছিলেন স্বয়ং অগ্নিদেব। 🔥 অগ্নিদেব জানালেন, রাজা শ্বেতকি দীর্ঘকাল ধরে এমন এক যজ্ঞ করেছিলেন, যেখানে অবিরাম বিপুল পরিমাণ ঘি আহুতি দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত ঘি গ্রহণের ফলে অগ্নিদেবের শক্তি প্রভাবিত হয়েছিল এবং নিজের স্বাভাবিক শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর খাণ্ডব বন দহন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্যত্র। যখনই অগ্নিদেব খাণ্ডব বন দহন করার চেষ্টা করতেন, তখনই ইন্দ্র প্রবল বর্ষণ করে তাঁর আগুন নিভিয়ে দিতে...

দ্বারকা

সমুদ্রের বুকে স্বপ্ননগরী দ্বারকা মথুরার আকাশে তখন যুদ্ধের কালো মেঘ। মগধরাজ জরাসন্ধ একের পর এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে চলেছেন যদুবংশের রাজধানী মথুরা। প্রতিবারই শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের নেতৃত্বে যদুবংশীয়রা শত্রুর মোকাবিলা করছেন। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। নগরীর ঘরে ঘরে আতঙ্ক, রাজপথে উদ্বেগ, আর প্রতিটি ভোরে মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—আজ কি আবার যুদ্ধের দামামা বাজবে? শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারছিলেন, শুধু শত্রুকে পরাজিত করলেই হবে না। যদুবংশের মানুষকে এমন এক নিরাপদ আশ্রয় দিতে হবে, যেখানে তারা যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে দূরে থেকে নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে পারবে। এমন একটি নগরী, যা হবে দুর্ভেদ্য, সমৃদ্ধ এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। একদিন রাজসভায় তিনি বলরাম ও যদুবংশের প্রবীণদের সামনে নিজের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করলেন। “মথুরা আমাদের জন্মভূমি, আমাদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নগরীর প্রতিটি পথ, প্রতিটি প্রান্তর। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হলে এমন একটি আশ্রয় খুঁজতে হবে, যেখানে শত্রুর আক্রমণ সহজে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের সন্তানরা যেন যুদ্ধের শব্দে নয়, পাখ...

বিশ্বকর্মা

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পরম রূপবতী কন্যার নাম ছিল সংজ্ঞা। কোনো কোনো পুরাণে তাঁকে ‘সমজ্ঞা’ বা ‘সন্ধ্যা’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকর্মা তাঁর কন্যার বিবাহ দেন নবগ্রহের অধিপতি সূর্যদেবের সঙ্গে। কিন্তু তখন সূর্যদেব ছিলেন তাঁর পূর্ণ তেজে ভাস্বর। তাঁর শরীর থেকে নির্গত উত্তাপ ও আলোকরশ্মি ছিল এতটাই প্রবল যে, তাঁর দিকে সরাসরি তাকানোও প্রায় অসম্ভব ছিল। বিয়ের পর স্বামীর গৃহে এসে সংজ্ঞা সেই অসহনীয় তেজের মুখোমুখি হলেন। স্বামীকে ভালোবাসলেও তাঁর উত্তাপ ক্রমশ সংজ্ঞার শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে তুলতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমন দিন এল, যখন সূর্যদেবের দিকে সরাসরি তাকানোও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু স্বামীকে ছেড়ে চলে যেতেও তাঁর মন সায় দিচ্ছিল না। তাই সংজ্ঞা এক আশ্চর্য উপায় অবলম্বন করলেন। নিজের শরীর থেকেই তিনি সৃষ্টি করলেন নিজের অবিকল এক ছায়া-রূপ। তার নাম দিলেন—ছায়া। সংজ্ঞা ছায়াকে নির্দেশ দিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন সে সূর্যদেবের সেবা করে, তাঁর গৃহ সামলায় এবং সবচেয়ে বড় কথা—নিজের আসল পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না করে। এরপর সংজ্ঞা চলে গেলেন দূর উত্তর কুরু দেশে। কিন্তু সেখানেও নিজের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয় ছি...

biswakorma

আদি ইঞ্জিনিয়ার কথন- বড়ো লেখা। ♥️ আজ ভাদ্র মাসের শেষ দিন, বিশ্বকর্মা পুজো। কিন্তু কে এই বিশ্বকর্মা? আজকের দিনে আমাদের চোখে বিশ্বকর্মা মানেই কারখানা, লোহার যন্ত্রপাতি, মেশিন, গ্যারেজ কিংবা দোকানের সরঞ্জাম। অথচ এই পরিচয় তাঁর প্রকৃত সত্তার একেবারেই সামান্য অংশ। বিশ্বকর্মা আসলে নির্মাণের মহাশক্তি—সৃষ্টি, পরিকল্পনা, পরিমাপ, স্থাপত্য, প্রযুক্তি ও রূপদানের যে চেতনা, তারই দেবতাত্মক প্রতীক। সেই অর্থে তিনি আমাদের আদি ইঞ্জিনিয়ার, আদি স্থপতি, আদি নির্মাতা। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, অষ্টম বসু প্রভাসের ঔরসে এবং বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধার গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম। তাঁকে সহস্র শিল্পের উদ্ভাবক, দেবতাদের স্থপতি, অলংকারনির্মাতা, শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং দেবতাদের রথের নির্মাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলার লোকবিশ্বাসে আবার তাঁর প্রাচীন নাম ত্বষ্টা ছিল—পরবর্তীকালে পিতামহ ব্রহ্মার দ্বারা ‘বিশ্বকর্মা’ উপাধিতে ভূষিত হন বলে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। প্রাচীন বৈদিক পরম্পরায় ত্বষ্টা ও বিশ্বকর্মাকে অনেক সময় একই দেবশিল্পী-তত্ত্বের দুই নাম বা রূপ হিসেবে বোঝা হয়েছে; পরবর্তী পুরাণপরম্পরায় সেই ত্বষ্টাই আবার পৃথক সত্তা হ...

memento

অঙ্কুরীশা শারদীয় সংখ্যা ১৪৩৩  তুলসী জানা স্মৃতি সম্মান ১৪৩৩ প্রাপক-   কবি ও সাহিত্যিক সুনীল মাজি  স্থান - কন্টাই টাউন রাখাল চন্দ্র বিদ্যাপীঠ ( উ:মা:) তারিখ- ২ রা অক্টোবর ২০২৬

zen-g

মায়াবী চোখ বাবরি চুল আলো ছড়ায় নীল রঙের  সব জানে জ্ঞান ভরপুর। স্বপ্ন অনেক ঘুমহীন রাতে সকাল বেলায় ঘুম আসে দশ এগার যাবে কতদূর। কথা বলার সময় নেই মোবাইল হাতে   পথে পথিক আমি তাই।  তুমি কি জানো  কতটা গভীর এই আলো।  মায়াবী চোখ  আমাকে টানে প্রতিদিন  হারাই আমি তার গহীনে  তোমার চোখে স্বপ্নের ছোঁয়া। চাঁদের আলো ছুঁয়ে যায় হৃদয় তোমার চোখে বাঁধা এক পৃথিবী হয়  তারার মেলা নেমে আসে নিচে  তোমার চোখে ভাসে এক সুখী মিছে।  তুমি কি শুনো  হৃদয়ের কথা এক নিমিষে।