Posts

মনন চিন্তন কল্পনায়

মনন চিন্তন কল্পনায় দেবপ্রসাদ জানা ভালোবাসা হোক চিরন্তন কিংবা চিরন্তনী  অনন্ত পথ পেরিয়ে সময়ের সঙ্গে লড়াই ক'রে মনন চিন্তন কল্পনায়। দায়হীন ভাঙন  দমনের দায় নেই,  আত্মকেন্দ্রিক বিলাসের বাসনা থাকেই। চৈতন্যের আকাশ অন্ধকারে  কবি সাহিত্যিক বোধনের আভাস দিয়ে  নির্বোধনের ভাবনায় শান্তসমাহিত  কিছু লোক, কিছু কবি, আর যাঁরা নিজেকে সাহিত্যিক বলে দাবি করে, যাঁরা শুধু  নিজের লেখা নিজেই পড়ে, শ্রোতাহীন মঞ্চে। শোনে না তারাও যাঁরা বসে থাকে নিজের লেখা পড়ে নিজেকে খুশি করার জন্য, হ্যাঁ আমি তাদের কথাই বলছি। আরো কিছু কবি বা লেখক মনে ভাবে তুমি যদি আমার লেখা শোনো, তবেই তোমার লেখা শুনবো, তুমি যেটা পড়বে। জ্ঞান গর্ভের শ্রদ্ধাচারে নৈতিক প্রয়াস টুকু নেই যে লেখায় পথের খোঁজ পাই না , কি মোহ মায়াজালে জর্জরিত লেখক সমাজ। অক্ষর গুলো শব্দ হয়ে বিনা ছন্দে জাহ্নবী যমুনার নীল জলে মিশে  রক্তাক্ত আগুন কবিতা শীতের রাতে  কম্বল চাপা দিয়ে কাঁপে। কবি আত্ম চিৎকার শুনে মন কাঁদে বৈদিক মন্ত্রের একাডেমি গৃহে কবিশ্রোতার এই আত্মবলিদান, প্রবুদ্ধ চৈতন্য স্তব  শুদ্ধতার স্পর্শ দীর্ঘ পথ...

বেহিসাবি রাত

তুমি বলেছিলে, রাত বেশি হবে না,  সূর্য ডোবার আগেই ফিরে আসবে,  ঘনিয়ে এলো অন্ধকার,   জোনাকিরা আলো জ্বেলে বেরিয়ে পড়েছে, বাঁশ বাগানে ঝি ঝি পোকারা গান জুড়েছে, দূরে নদীর স্রোত কানে আসছে,  হাসুহানার সুবাসে দীর্ঘনিশ্বাস গেছে মিশে। ওধারে ছাতিম ফুলের গন্ধ মাথা চাড়া দিচ্ছে। কয়েকটা বাদুড় ওড়ে গেলো ভয়ে ভয়ে,  তাল গাছ বেয়ে হুতুম পেঁচা নেমে আসবে একটু পরে। স্তব্ধ-দুপুর রাতের আগে। শেষ ঝিকিমিকি অন্তসাক্ষী ওই আকাশ।  ঝিল্লির রবে শিহরি শিহরি বিনিদ্র রাত কাটে।  তুমি বলেছিলে,  'অপলক চোখে,  উজোব হবে এ নিশি । জাগে শুকতাবা, উর্মি ছলকে ঝলকে দীঘিব ঘাটে।

ছেনাল বাতাস

ছেনাল বাতাস দেবপ্রসাদ জানা ঝরা পালকের প্রতিশব্দ জেগে রইল, এক নমনীয় হিমজা আলোর অস্ফুট চপল ইশারায়, আমোদিনী শিউলির বনে ফুল,  ঢলে ঢলে ছেনাল হাওয়ার বেলেল্লাপনা, এক্কা-দোক্কা খেলার অগোচরে আশ্চর্য হিম অন্ধকার। বেওয়ারিশ পালকের ছেনাল নৃত্য চোঁয়ানো আলোয়। হা-নগ্ন একা সে পাগলিনী-  অন্ধকারে জেগে থাকে শরীরি পিপাসা  ঘরময় বেওয়ারিশ পালকের অসতর্ক সরলিত পরকীয়া। বিলাসি বেহুল হৃদয় সেদিন প্রতারক। আলো-আঁধারি ভোরের বাগানে ছদ্মবেশী নিয়তি। কয়েক হাজার বছর আগে পরকীয়ার জন্ম, তবু আজো জীবিত, অষ্টাদশী,  একা একা শিউলি কুড়োয়।  তার কিশোরী শরীরে-  একটু একটু করে ফুটে ওঠা নম্র কুসুমকলির, অমল আভাস।  সোঁদামাটি নাভি ছুঁতে চায়, কি অপরূপ পালকের স্থাপত্য।  বিভাজিত বক্ষস্থলে আলতো আঁধারের রেখা,  প্রতিটা মিথুনমুদ্রার সোহাগী জ্যামিতি।  দলা দলা লজ্জা প্রলুব্ধ করছে।  চুপি চুপি সুখ শরীরের প্রতিটা রক্ত-নলির আনাচে-কানাচে। যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ জোছনা পোয়াতি রাতের পেট খসিয়ে- আরো একটা বেজন্মা ভোর।  উদোম, চঞ্চল মোহময় তার নরম গোলাপী অবয়ব।  যেন জ্বলন্ত দাবানলে কুয়াশিত ভোর,  অপ...

বারবারিক

মহাভারতের এক জীবন্ত চরিত্র "বারবারিক" কাহিনি- 💠 মহাভারতের এক অন্যতম শক্তিশালী এবং উপেক্ষিত চরিত্র হলেন বারবারিক। ভীমের পৌত্র এবং ঘটোৎকচের পুত্র বারবারিককে মহাভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধাদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও তিনি সরাসরি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নেননি, তবে তার কাহিনী যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 🌿🌿বারবারিকের পরিচয়🌿🌿 বারবারিক ছিলেন ঘটোৎকচ এবং মৌরবী বা আহিলাবতী'র পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং বীর যোদ্ধা ছিলেন। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে যুদ্ধবিদ্যা শেখেন। তপস্যা করে শিবের কাছ থেকে তিনি তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেন। এই তিনটি বাণের সাহায্যে তিনি একাই যেকোনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতেন। এই বাণগুলো এমন ছিল যে, প্রথম বাণ দিয়ে তিনি যাদের ধ্বংস করতে চান তাদের চিহ্নিত করতে পারতেন, দ্বিতীয় বাণ দিয়ে যাদের রক্ষা করতে চান তাদের চিহ্নিত করতেন, এবং তৃতীয় বাণটি দিয়ে চিহ্নিত করা সমস্ত শত্রুদের ধ্বংস করে আবার তার তূণীরে ফিরে আসতো। 🌿🌿কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বারবারিক🌿🌿 কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন বারবারিক যুদ্ধ দেখতে আসেন। তার মা-কে তিনি প্রতিশ্...

হোমিওপ্যাথি

🎍অ্যাপিস মেল মৌমাছির নির্যাস থেকে প্রস্তুত এক অমূল্য হোমিও ঔষধ সম্পর্কে জেনে রাখুন~ 🐝 Apis Mellifica (অ্যাপিস মেল) 📚 Source: The Honey Bee ⚕️ Nature: Acute, inflammatory, edematous & allergic conditions --- 🌿 ১–১০ : Skin & Swelling (চামড়া ও ফুলে যাওয়া) 1️⃣ ত্বকে হঠাৎ ফোলা, চুলকানি ও জ্বালাভাব — Sudden swelling, burning & itching of skin 2️⃣ ফোলা জায়গা লালচে ও গরম — Swollen, red and hot to touch 3️⃣ ঠান্ডা লাগলে চুলকানি বেড়ে যায় — Worse from cold exposure 4️⃣ গরম লাগলে স্বস্তি পায় — Better from warmth or hot application 5️⃣ দংশন বা অ্যালার্জির পরে ফুলে যাওয়া — Swelling after insect sting or allergy 6️⃣ শরীরে হঠাৎ চুলকানো দানা — Urticaria or hives with burning pain 7️⃣ চোখ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যায় — Oedema of eyelids, lips, or face 8️⃣ গলায় ফোলাভাবে কথা বা গিলতে কষ্ট — Throat oedema causing difficulty in swallowing 9️⃣ ত্বকে পানিভর্তি ফোস্কা — Vesicular eruptions filled with watery fluid 🔟 ত্বকে জ্বালা কিন্তু স্পর্শে ব্যথা — Burning pain with extreme tenderness to touch ---...

গুরু কুল

২০২৫-এ বসে আমরা অনেকেই জানি না— ভারতকে জয়ের জন্য যুদ্ধই যথেষ্ট ছিল না। ইংরেজরা জানত— 👉 যে জাতির শিক্ষা তাদের নিজের হাতে থাকে, সেই জাতিকে হারানো যায় না। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে ভারতের গুরুকুল পরম্পরাকে ধ্বংস করে দিল। কীভাবে? --- 🔥 ১) দান ও জমি কেড়ে নেওয়া (Permanent Settlement, ১৭৯৩) গুরুকুল চলত মন্দির, মঠ, সমাজ ও জমিদারদের দানে। ইংরেজরা কর ব্যবস্থা পাল্টে দিল— মঠ-গুরুকুলের জমি বাজেয়াপ্ত, দান বন্ধ, আয় কমে গেল। অর্থ নেই → গুরুকুল টিকল না। (Reference: Studies on Permanent Settlement) --- 🔥 ২) স্থানীয় শিক্ষাকে “অকার্যকর” বলে অপমান ইংরেজ অফিসাররা লিখল— “Indian knowledge is useless.” এভাবে মানুষের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিল যে নিজেদের শিক্ষা নাকি আধুনিক নয়। (Reference: Macaulay’s Education Notes) --- 🔥 ৩) Macaulay Minute 1835 — চূড়ান্ত আঘাত থমাস ম্যাকলে ঘোষণা করল— “আমরা এমন এক শ্রেণি তৈরি করব, যারা রক্তে ভারতীয় কিন্তু ভাবনায় ইংরেজ।” সরকারি অর্থ, চাকরি, আদালত — সবকিছুতে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে দিল। গুরুকুল হলো “অকার্যকর”, আর ইংরেজি হলো “ভবিষ্যৎ”। (Reference: Macaulay Minute, 18...

স্কুটি

স্কুটি দেবপ্রসাদ জানা পাঁচদিনের ছুটি কাটিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরতেই দেখি, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বামী।  চোখে মুখে অদ্ভুত হাসি।  ভেতরে ঢুকতেই চমকে গেলাম— ছোট্ট গ্যারাজে ঝকঝকে নতুন এক গাড়ি। চোখের চাহনিতেই প্রশ্ন করতেই স্বামী গাড়ির চাবি আমার হাতে দিয়ে বললেন— "আগামীকাল থেকে কলেজে যাবে এই গাড়িতে, প্রফেসর ম্যাডাম!" আমি হতবাক!  আনন্দে কথা আটকে গেল,  শুধু বিস্মিত হয়ে বললাম— "ওহ মাই গড!" অতি উচ্ছ্বাসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলাম।  সত্যিই ওঁর উপহার দেওয়ার ধরন সবসময়ই হঠাৎ,  বিনা আড়ম্বরে।  নিজের জন্য এখনো পুরোনো ইন্ডিগো রেখেছেন,  অথচ আমার জন্য নতুন গাড়ি কিনে এনেছেন।  বিয়ের ছ’ বছরে অসংখ্য উপহার দিয়েছেন,  গুনে শেষ করা যায় না। কিন্তু গাড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ খেয়াল হল, যেখানে আমার প্রিয় স্কুটি দাঁড়িয়ে থাকার কথা,  সেই জায়গাটা ফাঁকা। আমি চমকে উঠে বললাম— "আমার স্কুটি কোথায়?" স্বামী নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন— "ওটা বিক্রি করে দিয়েছি।  এখন ওটার আর কী দরকার?  গাড়ি আছে তো।" কথাটা শুনেই বুকটা কেঁপে উঠল।  আমি চিৎকার করে...