অনুকবিতা

পরের বউ রসগোল্লা
নিজের বউ উচ্ছে।
মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে 
জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে।
আদালতে মক্ষীরানি
আইন নিয়ে দরাদরি
দেখো যেন বীণাপাণি
বাজেটে তাই ছড়াছড়ি।
কার হবে দেশ জয়
লড়াই তার মন্দ নয়।
কাণ্ড দেখে লাগে ভয়
দেশের টাকা হচ্ছে ক্ষয়।
আজ চাই ভারত মায়ের
সুভাষ সমান সন্তান।
লক্ষ জোয়ান লক্ষ শহীদ 
সহস্রাবাদ্দে অম্লান।
অহংকার তোর যার তরে
আর কতদিন এ চরাচরে।

মহামুনি মহাজন যে পথে করে গমন
সে পথ ধরে চলি, সেই মত কথা বলি
মহাজ্ঞানে পূর্ণ মন, থাকে যেন আমরণ।
বিষয় আশয় ফেলি আজ, মহৎ হতে চলি।

আজ গগনে চাঁদ এসেছে
আজ বিহানে জোছনা।
আজ আঙিনায় ফুল হেসেছে 
আজ নয়নে বেদনা।
বাংলায়-অমৃতরাশি শব্দের ভাণ্ডার।
রক্ত ঢেলে, রক্ষা করো বাঙলা ভাষার।
সকালবেলা হয়নি সকাল
সকাল হলো দুপুর।
ভোরেরবেলা হয় যে রাত
ভালোবাসা ভরপুর।
সকাল সকাল কুহু গানে
ডেকে ডেকে বসন্ত আনে
১০
মন মেতেছে আজ তোর ঢঙে
মাতিয়ে নে মন ফাগুন রঙে।
১১
ওরে পুরবাসি ছাড়ো বেড,
আসছে ধেয়ে আলফ্রেড।
১২
বাহা-রে জননী যিনি
কন্যা প্রসবে ডরে তিনি
ভ্রূণ বধেন সদা এড়াইয়া দায়।
১৩
অন্ধকারে খোলা, দরজার খিল।
ছাব্বিশ হাজারে, চাকরি বাতিল।
১৪
যারা দিলো ঘুষে টাকা
তারা হলো দোষী।
যারা নিলো হাত ভরে
তাদের মুখে হাসি!
১৫
গর্জে উঠবে যেদিন তোমার, 
প্রতিবাদী হাতিয়ার।
দেখবে বিশ্ব অপলক চোখে,
তোমার মশির ধার।
১৬
আর কত মারবি ওরে
হিন্দু নাকি ধরে ধরে।
লোকাবি যদি তোদের ঘরে
মারবো গিয়ে ধরে ধরে।
১৭
মধ্যরাতে প্রতিশোধ
তবু শত্রুর নাই বোধ।
১৮
সে এক ছেলে দুরন্ত 
কিশোর কবি সুকান্ত
১৯
হৃদয়ে যার বুলবুল
শতগুণে নজরুল।
২০
শিল্প গেলো, শিক্ষা গেলো, 
চাকরি গেলো শেষে।
সব দোষীরা ঘোরে ফেরে
দেখো সাধু বেশে।
২১
আঁধার কেটে ভোর হবে
তবুও মানুষ তেমন রবে
২২
টেক অফেই বিপর্যয় 
কোটি টাকা কথা কয়।
২৩
ঘরে ঘরে প্রতিবাদ
দুয়ারে তবু এলো প্রসাদ
২৪
কলম তুমি কও না কথা
এত অত্যাচারে।
তুমিও বুঝি লুকিয়ে গেলে
লাল সবুজের ঘরে।
২৫
বাছাই হবে ছেঁকে ছেঁকে 
আধার প্যান ভোটারে।
পালাবি কোথায় ছদ্মবেশী
কাঁটা তারের বেড়ারে।
২৬
দশ থেকে হল এক লক্ষ দশ হাজার
দেখতে হবে কত বেড়েছে মূল্য তার
২৭
স্বাধীনতা স্বাধীনতা 
আশি বছরের বুড়ি।
এখনো রাতে পায় না 
খেতে বহু নরনারী।
২৮
আগুন জ্বলছে বাজার দরে 
ছাড় দিচ্ছে রাজ কর এ।
২৯
আগমনীর সুর বাজে
আকাশে বাতাসে।
গাছে গাছে নানা রঙ 
রঙ নেই কাশে।
৩০
নতুন কাপড় নতুন জামা 
ঘরে ঘরে নতুন সব।
ভুলে গেছি বিচার চাইতে
আমরা যে জ্যান্ত শব।
৩১
আগুন জ্বলছে দেশে দেশে
কি এমন হলো?
কালো মেঘ আসছে ভেসে
বাংলা বুঝি গেলো।
৩২
বরের সাথে ঝগড়া করে
মা আসছে বাপের ঘরে
কেন রে মা ঝগড়া করিস
পোড়া দেশে আসার তরে।
৩৩
কাশ ফুল দুলে দুলে
বলছে ভারি আনন্দ।
মা এলো আলো করে
কাটিয়ে নিরানন্দ।
৩৪
কেটে গেলো চারটে দিন
রয়ে গেলো বহু ঋণ।
উৎসবের ফাঁদে পড়ে
প্রতিবাদ হলো ক্ষীণ।
৩৫
বন্যায় লোক মরে 
মক্ষীরানি নাচ করে।
চলে দেখো কার্নিভাল
দিদিমনি দিচ্ছে তাল।
৩৬
ঘরে ঘরে রক্তবীজ
বইছে রক্ত নদী।
আয়রে মা অস্ত্র নিয়ে
রক্ত খাবি যদি।
৩৭
প্রণয়ীর ঠোঁটে ধারালো শব্দের মত।
কত কথা রেখে যায় গভীর ক্ষত।
৩৮
পাড়ায় পাড়ায় ভুয়ো ভোটার 
তাই তো এলো এস আই আর।
৩৯
হয়তো চাঁদ নিশিরাতে
মুখ লুকিয়ে মেঘের পিছে।
তাই বলে কি জোছনা আজ
আসবে নাকো মোদের কাছে?
৪০
রাবণের সাহস কি
সীতা মাকে ধরে।
অভিশাপে রাবণের
মাথা চৌচির করে।
৪১
অন্ধকার ঘেঁটে ঘেঁটে 
এক ফালি চাঁদ আসে।
আহা কি মিষ্টি সে হাসি
সুখের সমুদ্রে ভাসে।
৪২
হুলুস থুলুস দেশ জুড়ে
হুমায়ূন কবীর।
বাবর নামে মসজিদ হবে
ভাবনা গভীর।
৪৩
রাত কেটে ভোর হবে
অমৃত আসবে ধেয়ে।
রাতের আঁধার তখন
দেখবে চেয়ে চেয়ে।
৪৪
গান্ধারীর মনের ব্যথা
একশ ছেলে মরল যেথা
অভিশাপের চরম কোপ
একা কৃষ্ণ নিজে নিলো।
৪৫
আগুন লেগেছে অন্দরে
চেলারা সব তাণ্ডব করে
৪৬
সে ছিল এক দেশের রানী
পালালো নিয়ে ফাইলখানি
৪৭
কি ছিল তার কি জানি
ফাইল চুরি করল রানী
৪৮
ভাতের নেই ঠিকানা কিছু
ভাতা-র ছড়াছড়ি।
বড় চোর ছাড় পেয়ে যায়
খুচরো তে কড়াকড়ি।
৪৯
আবার এলো মিলন মেলা।
আসতে হবে সকালবেলা।
কৃষ্ণপদ-এর তিন তলা।
কলম সৈনিক কবিতামেলা।
৫০

ভাতের নেই ঠিকানা কিছু
ভাতা-র ছড়াছড়ি।
বড় চোর ছাড় পেয়ে যায়
খুচরো তে কড়াকড়ি।
৫১

দোষে গুণে ভরা জীবন
শুধুই গুণে ভরা মরণ।
৫২

ফাগুন হলো আগুন শেষে
বসন্ত এলো মলিন বেশে।
৫৩

ও গালে কামড়ালো কে
মশা না মৌমাছি।
ওদের কেন সুযোগ দিলে 
আমি যখন আছি।
৫৪
যে হৃদয় নিয়ে গর্ব ছিল
সে হৃদয় আর নাই।
নিষ্ঠুর প্রেম মেরেছে তাকে
হারিয়েছে রোশনাই।
৫৫
আকাশ আমার শত্রু আজ
বাতাস করেছে রাগ।
মেঘের আড়ালে হারিয়েছি মন
খুঁজে চলি পূর্বরাগ।
 ৫৬
কানে আসে না তার কোনো খবর
চোখ দেখতে চায় না তার মুখ
তবু হৃদয় অনবরত কাঁদে 
এতেই নাকি তার বড় সুখ।
৫৭
বছরের পর বছর দেখে গেছি জানালার পাশে 
তোমার এলিয়ে পড়া চুল।
দেখেনি কখনো তোমার সেই অভূতপূর্ব মুখ
ক্ষীণ হয়ে আসা দৃষ্টির ভুল।
৫৮
মৃত ছাড়া জীবন যন্ত্রণার ঔষধ 
আছে কি কোথাও?
খুলে যায় যদি কোনোদিন সুখের বাঁধন 



Comments

Popular posts from this blog

কলকাতার নামকরণ

রবীন্দ্রনাথের প্রতি সুকান্ত

অশ্বত্থামা