ছেনাল বাতাস


ছেনাল বাতাস
দেবপ্রসাদ জানা

ঝরা পালকের প্রতিশব্দ জেগে রইল,
এক নমনীয় হিমজা আলোর অস্ফুট চপল ইশারায়, আমোদিনী শিউলির বনে ফুল, 
ঢলে ঢলে ছেনাল হাওয়ার বেলেল্লাপনা,
এক্কা-দোক্কা খেলার অগোচরে আশ্চর্য হিম অন্ধকার। বেওয়ারিশ পালকের ছেনাল নৃত্য চোঁয়ানো আলোয়।
হা-নগ্ন একা সে পাগলিনী- 
অন্ধকারে জেগে থাকে শরীরি পিপাসা 
ঘরময় বেওয়ারিশ পালকের অসতর্ক সরলিত পরকীয়া।
বিলাসি বেহুল হৃদয় সেদিন প্রতারক।
আলো-আঁধারি ভোরের বাগানে ছদ্মবেশী নিয়তি।
কয়েক হাজার বছর আগে পরকীয়ার জন্ম,
তবু আজো জীবিত, অষ্টাদশী, 
একা একা শিউলি কুড়োয়। 
তার কিশোরী শরীরে- 
একটু একটু করে ফুটে ওঠা নম্র কুসুমকলির,
অমল আভাস। 
সোঁদামাটি নাভি ছুঁতে চায়,
কি অপরূপ পালকের স্থাপত্য। 
বিভাজিত বক্ষস্থলে আলতো আঁধারের রেখা, 
প্রতিটা মিথুনমুদ্রার সোহাগী জ্যামিতি। 
দলা দলা লজ্জা প্রলুব্ধ করছে। 
চুপি চুপি সুখ শরীরের প্রতিটা রক্ত-নলির আনাচে-কানাচে।
যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ জোছনা পোয়াতি রাতের পেট খসিয়ে-
আরো একটা বেজন্মা ভোর। 
উদোম, চঞ্চল মোহময় তার নরম গোলাপী অবয়ব। 
যেন জ্বলন্ত দাবানলে কুয়াশিত ভোর, 
অপ্রত্যাশিত কুসুম আলোর অবকাশে 
অবলীলায়িত লীলায় তার নীলাভ শীৎকার 
ছাদের চিলে কোঠায়।
ছেনাল বাতাসে ছাতিমের গন্ধ অশরীর ছায়া।

Comments