বন্দেমাতরম
বন্ধ দুয়ারে
দেবপ্রসাদ জানা
বন্দেমাতরম ধ্বনি,
সমাজ মাধ্যমে শুনি।
কি করে হলো পদ্মমুখী
যারা বলে নাহি মানি,
গাহে তারা প্রমাদ গুণি।
কভু না করিল সুখী।
করিতে মায়ের গান
যেন যায় তার প্রাণ
কাটাকাটি লেখনে তার।
স্বাধীন ভারতে বসে
বিভাগের অঙ্ক কষে।
তারা আর পাবে না পার।
লুকাইয়া ইতিহাস
সদা করে ক্রীতদাস
হিন্দু ভায়ের উপর।
অত্যাচার করে যারা
ইতিহাসের বই ভরা।
তাদের করে সমাদর।
ধর্মের পরাগ মেখে
গণতন্ত্র মুখোশ ঢেকে
ধর্ম নিরপেক্ষ কথা।
যে ধর্মের তরে শেষ।
টুকরো করিল দেশ।
না জুড়ায় বুকের ব্যথা।
আনন্দমঠ লিখে
বন্দেমাতরম শিখে
বিপ্লবে গড়িলো পুরাণ।
গৃহপূর্ণ,আছে ধন
যাইবে তুর্ণ, যৌবন
গাহে মহা রণের গান ।
আজ যেন মহা দুখ
যদি না ভুঞ্জিনু সুখ,
কি কাজ জীবনে?
গলে মদ লও ঢেলে
না ফুরায় রাত্রি কালে
সুখে গাঢ় প্রমোদভবনে।
খাদ্য লও বাছা বাছা,
দাড়ি দেখে কও চাচা,
বাঙালির অমূল্য রতন।
সহস্র পাদুকা স্পর্শে,
পাদুকার মতাদর্শে
কত যে করিল যতন।
পেটে খায় পিঠে সয়,
রামধনু রঙ কয়।
রামে নেই মতি।
অদ্ভুত যে চরিত্র সব
অনুপ্রেরণার কলরব।
না হইলো গতি।
বন্দে মাতা সুরধুনি,
কাগজে মহিমা শুনি
মদ মাংসে পুণ্য।
স্কুলের চিলে ঘরে
গোপনে ক্রিয়া করে
সভ্যতায় শূন্য।
বোতলবাহিনি বাহে
কনক সুন্দরী চাহে
করি ঢক ঢক নাদ।
লোহিতবরণি বামা,
গায়ে দিয়ে সবুজ জামা।
সেজেছে হার্মাদ।
ছিপির কিরীটি শিরে,
সর্বদা কামিনী ঘিরে
কি যে করিতে চায়।
যেই পায় সেই ধন্য
আর বাকি নগণ্য।
আকাঙ্ক্ষিত শয্যায়।
কেজি কেজি স্বর্ণ রাখা
গৃহ তলে চার চাকা।
বাক্স বাহনে সজনী,
কারো ঘরে বন্দি টাকা
কারো ঘর পুরো ফাঁকা
না ফুরায় রজনী।
নয়নের প্রীতিকর
শোভে নানা তরুবর
সব যেন কালো ছায়া।
অধরে ধরিয়া হাসি
অন্তরে ব্যঞ্জন বাসি
কুরে কুরে খায় কায়া।
কেহ কেহ পদে পদে
মজে নানা বিপদে
সবই কর্মভোগ।
পনের বছর ধরে
খায় সব কুরে কুরে।
যেন কুষ্ঠরোগ।
এ হেন অত্যাচার
না করে স্বীকার
শত্রু দুরাশয়।
সিংহাসনে বিষবানী
বসিল যবে চটিরানি
পাইলো প্রশ্রয়।
নীলবাস নীলত্রাস
শুভ্র বসন রাজহাঁস
ফাঁকা সে কলসি।
আল্লা বলে হাত খুলে
মন্ত্র বলে ভরা ভুলে
মুখে কৃত্রিম হাসি।
লন্ডন করিল দেশ
ধীরে ধীরে করে শেষ
মর্কটের অবতার।
জ্বলন্ত বিষের বাটি
হুঙ্কার গর্জন খাঁটি
ধিক ধিক ধিক্কার।
দোয়ারে সরকার যার
সেবাশ্রয়ে সেবা কার।
ছেড়ে গেলো গ্রহ সব
নিয়মের জালে বাঁধা
ভুলিস না ওরে গাধা
করিস নারে কলরব।
Comments
Post a Comment