Posts

Showing posts from August, 2026

মহাভারতে রামায়ণ

মহাভারতের বনপর্বের এক অংশে ঋষি মার্কেন্ডয় যুধিষ্ঠিরকে ত্রেতাযুগে শ্রীরামের লীলা প্রসঙ্গে বহু কথা শোনান। এই কারণেই মহাভারতের বনপর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে রামায়ণের কিছু কাহিনীর উল্লেখ আছে। ঋষি মার্কেন্ডেয় যুধিষ্ঠিরকে বললেন, সীতাহরণের পর রাবণ মাতা সীতাকে লঙ্কার অশোক বটিকায় রেখেছিল। সেখানে বহু ভয়ঙ্কর রাক্ষসী দ্বারা মা সীতা পরিবেষ্টিত থাকতেন। এইসব রাক্ষসীরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করত যে তারা মা সীতাকে একদিন খেয়ে ফেলবে। তারা মা সীতাকে ভয়ও দেখাতো। কিন্তু মা সীতার এসবে কোনো ভয় উৎপন্ন হতো না মনের মধ্যে। একদিন মা সীতা কাঁদতে কাঁদতে সেই রাক্ষসীদের বললেন, তোমরা আমাকে খেয়েই ফেলো; শ্রীরামের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমি এমনই মৃতপ্রায়!  এইসব রাক্ষসীদের মধ্যে ত্রিজটা নামের এক রাক্ষসী ছিলো; সে ছিল ধর্ম প্রাণ এবং সত্যবাদী। রাক্ষসী হলেও সে ছিলো নারায়ণের পূজারী। তিনি মাতা সীতাকে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ বিরহে কাঁদতে দেখে খুবই কষ্ট পেলো এবং নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে সে মা সীতার কাছে এসে বলল, রাবণ কখনওই মা সীতাকে স্পর্শ করতে পারবে না; কারণ রাবণ অভিশপ্ত! রাবণ একবার নলকুবেরর স্ত্রী রম্ভাকে স্পর্শ করেছিলো, নলকুবের ক...

ধৃষ্টদ্যুম্ন

🔴ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে দ্রোণ এবং পাঞ্চালরাজ প্রষতের পুত্র দ্রুপদ একসাথে বিদ্যাচর্চা করতেন। শৈশবে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আবেগের বশে রাজপুত্র দ্রুপদ দ্রোণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি যখন পাঞ্চালের রাজা হবেন, তখন তাঁর রাজ্য, সম্পদ ও সুখের অর্ধেক দ্রোণকে ভাগ করে দেবেন। পরবর্তীকালে দ্রুপদ পাঞ্চালরাজ হিসেবে সিংহাসনে বসেন, অন্যদিকে দ্রোণ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন। এমনকি তাঁর পুত্র অশ্বত্থামাকে দুধের বদলে চালের জল গুলে খাওয়াতে হতো। বাধ্য হয়ে দ্রোণ বাল্যবন্ধুর কাছে সাহায্য চাইতে পাঞ্চাল রাজসভায় যান। কিন্তু ঐশ্বর্যের অহংকারে মত্ত দ্রুপদ দ্রোণকে চরম অপমান করে বলেন: "রাজায় রাজায় বন্ধুত্ব হয়, রাজা আর ভিখারির মধ্যে কখনো বন্ধুত্ব হতে পারে না।" দ্রুপদ দ্রোণকে ভিক্ষুক হিসেবে কিছু দান করতে চাইলে, চরম অপমানিত হয়ে দ্রোণ রাজসভা ত্যাগ করেন এবং শপথ নেন যে তিনি এই অপমানের প্রতিশোধ নেবেন। পরবর্তীকালে দ্রোণ হস্তিনাপুরে কৌরব ও পাঞ্চবদের অবস্ত্রগুরু নিযুক্ত হন। শিক্ষা শেষে গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি শিষ্যদের কাছে পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে বন্দী করে আনার নির্দেশ দেন। পাণ্ডবদ...

সুর্পনক্ষা

অনেকে মনে করেন, রাক্ষ'সী শূর্পনখার সাথে এ ভারী অন্যায় হয়েছে। সে তো প্রেমের প্রস্তাব নিয়েই শ্রীরাম/লক্ষ্মণের কাছে গিয়েছিল। প্রেমের প্রস্তাব শুধু প্রত্যাখ্যান করেই কি বিষয়টিকে সেখানেই মিটিয়ে ফেলা যেত না! পঞ্চবটীতে অবস্থানকালে রাক্ষ'সী শূর্পনখা শ্রীরামের রূপ দেখে মোহিত হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাম জানান যে তিনি বিবাহিত এবং সীতা তাঁর স্ত্রী। কৌতুকবশত রাম তাকে লক্ষ্মণের কাছে পাঠান। লক্ষ্মণও নিজেকে রামের অনুগত দাস হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে পুনরায় রামের কাছে ফেরত পাঠান। পরপর প্রত্যাখ্যাত হয়ে শূর্পনখা প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। সে মনে করে যে, সীতার কারণেই রাম তাকে গ্রহণ করছেন না। ফলে সে সীতাকে হ'ত্যা করে ভবক্ষণ করার জন্য উদ্যত হয় এবং সীতার ওপর আক্রমণ চালায়। শূর্পনখার এই হিংস্র রূপ দেখে সীতা অত্যন্ত ভী'ত হয়ে পড়েন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও যখন শূর্পনখা যায় না, তখন শ্রীরাম লক্ষ্মণকে শূর্পনখাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে বলেন। তিনি ভ্রাতা লক্ষ্মণকে আদেশ করেন শূর্পনখার নাক, কান কে'টে ফেলতে। লক্ষ্মণ বড় ভ্রাতার আজ্ঞা মত কাজ করেন। (শূর্পনখার নাক-কান কাটা - বাল্মিকী রামায়ণ/ অরণ্যকান্ড/সপ্তদশ ...