বস্তির ছেলেটা

বস্তির ছেলেটা 
দেবপ্রসাদ জানা

বস্তির ছেলেটা এখন রাতের গভীরে কাঁদে।
গভীর অন্ধকারে এক চিলতে আলোর খোঁজে 
হৃদয়ের গভীরে লুকানো ব্যথারা, কথাতে কথা খুঁজছে;
পাষাণ চাপা বুক, উন্মুক্ত হতেই চাইছে অব্যক্ত যন্ত্রণা !
হাজারো গল্পের কালো ছায়া বস্তির ছেলেটার।
মানকোচুর ভেতরে মুখ চুলকানোর রস।
তার মুখ বেয়ে পড়ে।
অগ্নি সাক্ষী করা জীবন সাথীর বিধ্বস্ত অন্তর--
প্রতারণায় করেছে ধ্বংস।
তবু ছেলেটা চলে, জীবনের সাথেই 
মদ গাঁজা হেরোইন কিংবা চোলাই 
ছুঁতে পারেনি কখনো তবু চরিত্রহীন কুৎসিত মন
বাকি সব গুণ বা অ-গুণ সবই আছে।
ছেলেটা বিশ্বস্ততার - অনু অংশ।
তবু অসভ্য, ভীষণ রাগ, অত্যাচারী 
সে নির্দ্বিধায় বাবা মায়ের অপমান সহ্য করে।
সে একান্তে কাঁদে একান্তে একনিষ্ঠে কাজ করে
ভালোবাসা চায়, বিভেদে সে সংজ্ঞাও মেলে না;
স্বপ্নের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে বোধের তালা খোলে না !
কাউকে পরোয়া করেনি সে, রেল লাইনের ধার থেকে - 
স্বপ্নের অট্টালিকায় অকল্পনীয় সংসার।
মহাভারত বা রামায়ণ অস্ত্র দিয়ে হয়নি -
হয়েছে বাক্যবাণে -
দ্রৌপদীর সেই উক্তি "অন্ধের ছেলে অন্ধ"
মন্থরার কুযুক্তি, সুর্পনক্ষার কু মন্তব্য সবই 
বস্তির ছেলেটা জানে। 
গত জন্ম থাকুক বা না থাকুক 
গত জন্মের কর্মের ফল 
লোকে ঠকায়, কেড়ে নেয় সব, অধিকার জমায় 
লোকের বাড়ির বাসন মাজা বস্তির ছেলেটা 
ভুবনের মাঝে নবীনের চাওয়া, সেই আহ্লাদ;
অনায়াসে হাসি মুখে সাদরে অভ্যর্থনা করে
সব পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া পর্যন্ত, 
যত স্বপ্ন সাধ শেষ হওয়ার আগেও বোঝে না
আস্ত পৃথিবীটাই জ্বলন্ত ফাঁদ!

Comments

Popular posts from this blog

দাসত্ব

কলহ

দীনবন্ধু মিত্র