লক্ষ্মণা


দুর্যোধনের কন্যা ছিলেন লক্ষ্মণা। 
তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী 
এবং গুণবতী। 
ভগবান ‎শ্রীকৃষ্ণ ও জাম্ববতীর পুত্র ছিলেন সাম্ব। 
তিনি লক্ষ্মণাকে পছন্দ করতেন। 

এদিকে ‎দুর্যোধন লক্ষ্মণার স্বয়ংবরের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সাম্ব বীরের মতো স্বয়ংবরের ‎মাঝখানে উপস্থিত হয়ে লক্ষ্মণাকে বলপূর্বক হরণ করে নিয়ে গেলেন।
‎এই ঘটনা দেখে কৌরবরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। 
দুর্যোধন, কর্ণ এবং আরও ছয়জন মহারথী ‎সাম্বকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। 
সাম্ব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের পুত্র ছিলেন, 
তাই বীরত্বে ‎তিনি কোনো অংশেই কম ছিলেন না। 
তিনি একাই সেই ছয়জন মহারথীকে নাজেহাল করে দিয়েছিলেন। ‎
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে কোনোভাবে তাঁকে বন্দী করলেন এবং লক্ষ্মণাকে তাঁর থেকে
‎আলাদা করে দিলেন।
‎এই পুরো ঘটনার কথা দেবর্ষি নারদ দ্বারকায় গিয়ে যাদবদের জানালেন। শুনে তাঁরা প্রচণ্ড ‎রেগে গেলেন এবং কৌরবদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন। ঠিক সেই সময় বলরামজি ‎সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যাদবদের শান্ত করে বোঝালেন যে, এভাবে হুট করে যুদ্ধ শুরু ‎করা উচিত নয়। তিনি নিজেই হস্তিনাপুরে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করবেন।
‎এরপর বলরামজি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে হস্তিনাপুরের উপকণ্ঠে উপস্থিত হলেন এবং উদ্ধবজির ‎মাধ্যমে কৌরবদের কাছে বার্তা পাঠালেন। বলরামজির আগমনের কথা জানতে পেরে কৌরবরা তাঁকে ‎সাদর অভ্যর্থনা জানালেন।
‎তখন বলরামজি কৌরবদের আদেশ দিলেন— “তোমরা ছয়জন মহারথী মিলে ছলনা করে আমাদের সাম্বকে
‎পরাজিত ও বন্দী করেছ। অবিলম্বে তাকে তার পত্নীসহ মুক্তি দাও।”
‎একথা শুনে কৌরবরা অপমানিত বোধ করলেন এবং দম্ভভরে বলরামজিকে বললেন— “এই যাদব বংশ
‎আমাদের ছত্রছায়ায় বেঁচে আছে। আমরাই তাদের সুরক্ষা দিই। আর এখন তাদের এত স্পর্ধা ‎যে, পায়ের জুতো মাথায় ওঠার চেষ্টা করছে!”
‎নিজের বংশকে জুতোর সাথে তুলনা করা হচ্ছে শুনে বলরামজি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি ‎তাঁর প্রধান অস্ত্র ‘হল’ (লাঙ্গল) দিয়ে ভূমিতে এমন সজোরে আঘাত করলেন যে, পুরো ‎হস্তিনাপুরে ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল। প্রজারা ভয়ে দিকবিদিকে ছুটতে লাগল। শুধু তাই
‎নয়, হস্তিনাপুরের ভূমিতে বিশাল ফাটল দেখা দিল এবং তা বাকি পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ‎হয়ে পড়ল।
‎এরপর বলরামজি তাঁর লাঙ্গল দিয়ে টেনে পুরো হস্তিনাপুরকে যমুনায় ডুবিয়ে দিতে উদ্যত ‎হলেন। কৌরবরা তখন বুঝতে পারল যে, তারা ভুল ব্যক্তির সাথে বিবাদে জড়িয়েছে। তারা ‎দ্রুত সাম্ব ও লক্ষ্মণাকে নিয়ে এসে বলরামজির চরণে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করল।
‎এরপর অত্যন্ত ধুমধাম করে দুজনের বিবাহ সম্পন্ন হলো এবং প্রচুর হাতি, ঘোড়া, অলঙ্কার ‎ও দাস-দাসীসহ তাঁদের বলরামজির তত্ত্বাবধানে দ্বারকার উদ্দেশ্যে বিদায় জানানো হলো।
‎প্রচলিত বিশ্বাস এই যে, বলরামজি হস্তিনাপুরকে লাঙ্গল দিয়ে টেনে নিয়েছিলেন বলেই আজও ‎দিল্লির যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলটি ঢালু এবং যমুনায় বন্যা এলে তা খুব দ্রুত প্লাবিত ‎হয়।

Comments

Popular posts from this blog

দাসত্ব

কলহ

দীনবন্ধু মিত্র