মৃত্যু
মৃত্যু ও মৃত্যুর উৎপত্তি
মৃত্যু কিন্তু মৃত্যু হতে চায়নি কখনো।
তবু নিয়তি তাঁর নাম দিয়েছে মৃত্যু।
নিয়তি কে? স্বয়ং কমলযোনি ব্রহ্মা।
যিনি আমাদের আগামীর বাহক।
পুত্রশোকাকূল অকম্পন নৃপতির শোক দেখে,
দেবর্ষি নারদ তাঁকে ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন------
পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রজাকূল সৃষ্টি করে বেশ প্রসন্নই ছিলেন #ব্রহ্মা।
সকলের নিয়তিতে সুখ লিখছেন আর মেতে আছেন শুধু সৃষ্টিতে।
বিনাশ, সংহার এই শব্দ গুলো তাঁর কাছে তখন অপরিচিত।
কিন্তু মাতা বসুধা ভারাক্রান্ত ক্লিষ্ট বদনে যেদিন সামনে এসে দাঁড়ালেন, সত্য দর্শন হল ব্রহ্মার।
অসহায় ব্রহ্মা নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।
তাঁর ভয়ঙ্কর তেজে আকাশ হতে অগ্নি নির্গত হয়ে ধরাকূলের সমস্ত প্রাণী, জড়কে বিনষ্ট করতে শুরু করল।
পৃথিবী যখন প্রায় ভষ্মিভূত স্বয়ং মহাদেব প্রজাকূলের রক্ষা হেতু ব্রহ্মা কে ক্রোধ সম্বরণ করার অনুরোধ জানালেন।
তখন সেই অগ্নিতেজ ব্রহ্মা নিজের মধ্যে সমাহিত করে সৃষ্টি করলেন এক নারীর। কৃষ্ণ, লোহিত, পিঙ্গল ত্রিবিধ রং মিশ্রিত সে নারী, রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু ও বিবিধ ভূষণে সজ্জিত হয়ে ব্রহ্মা ও মহেশ্বরের দক্ষিণে এসে দাঁড়াতেই ব্রহ্মা তাকে বললেন----" #হে মৃত্যু, তুমি আমার ক্রাধ ও সংহার বুদ্ধি থেকে সৃষ্ট হলে। তাই তোমার কাজ হল জীব ও জড় বস্তুকে সংহার করা।"
মৃত্যু ব্রহ্মার কথা শুনে আঁতকে উঠলেন। তার রক্ত চক্ষু হতে বিন্দু বিন্দু জল নির্গত হতেই, ব্রহ্মা তা মাটিতে পতিত হওয়ার আগেই নিজের করতলে ধারণ করলেন।
মৃত্যু হাতজোড় করে প্রশ্ন করল," হে পিতা আপনি কেন এ পাপিয়সীকে সৃষ্টি করলেন? আমি যাদের প্রিয় পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, পথই, পত্নীকে সংহার করব, তারা আমাকে ঘৃণা করবে। আমার অনিষ্ট চিন্তা করবে। আমি তাদের প্রিয়তম মানুষের প্রাণ সংহার করতে অপারগ।
ব্রহ্মা বললেন, কিন্তু তোমার সৃষ্টি কেবল সংহারের নিমিত্তে। তোমাকে তোমার কর্ম করতেই হবে। লোকের হিতসাধনের জন্যই লোকবিনাশ প্রয়োজন।
তিনি হাতের মুঠো খুলে সঞ্চিত জলবিন্দু দেখিয়ে বললেন। একাজে আমি তোমাকে নিয়োজিত করছি, তোমার অধর্মের ভয় নেই। লোকপাল, যম, ব্যাধিসকল, দেবগণ একাজে তোমাকে সহায়তা করবে। তারপর অশ্রুবিন্দু দেখিয়ে বললেন, এই অশ্রু প্রাণীগণের আত্মসম্ভূত ব্যাধি রূপে প্রাণ সংহার করবে। আর তোমার প্রার্থনা মতো "লোভ, ক্রোধ, অসূয়া, ঈর্ষা, দ্রোহী, মোহ, নির্লজ্জতা এই সকল ইন্দ্রিয়বৃত্তি, প্রাণী সকলের দেহ ভেদ করবে। তুমি শুধু কাম আর রোষ ত্যাগ করে সংহারে ব্রতী হও।
#highlight
#মৃত্যু কিন্তু মৃত্যু হতে চায়নি, তবু নিয়তি তাঁর নাম দিয়েছে মৃত্যু। নিয়তি কে? স্বয়ং কমলযোনি ব্রহ্মা।যিনি আমাদের আগামীর বাহক।
পুত্রশোকাকূল অকম্পন নৃপতির শোক দেখে, দেবর্ষি নারদ তাঁকে মৃত্যুর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন------
পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রজাকূল সৃষ্টি করে বেশ প্রসন্নই ছিলেন ব্রহ্মা। সকলের নিয়তিতে সুখ লিখছেন আর মেতে আছেন শুধু সৃষ্টিতে। বিনাশ, সংহার এই শব্দ গুলো তাঁর কাছে তখন অপরিচিত।
কিন্তু মাতা বসুধা ভারাক্রান্ত ক্লিষ্ট বদনে যেদিন সামনে এসে দাঁড়ালেন, সত্য দর্শন হল ব্রহ্মার। অসহায় ব্রহ্মা নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন। তাঁর ভয়ঙ্কর তেজে আকাশ হতে অগ্নি নির্গত হয়ে ধরাকূলের সমস্ত প্রাণী, জ্ড়কে বিনষ্ট করতে শুরু করল।
পৃথিবী যখন প্রায় ভষ্মিভূত স্বয়ং মহাদেব প্রজাকূলের রক্ষা হেতু ব্রহ্মা কে ক্রোধ সম্বরণ করার অনুরোধ জানালেন।
তখন সেই অগ্নিতেজ ব্রহ্মা নিজের মধ্যে সমাহিত করে সৃষ্টি করলেন এক নারীর। কৃষ্ণ, লোহিত, পিঙ্গল ত্রিবিধ রং মিশ্রিত সে নারী, রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু ও বিবিধ ভূষণে সজ্জিত হয়ে ব্রহ্মা ও মহেশ্বরের দক্ষিণে এসে দাঁড়াতেই ব্রহ্মা তাকে বললেন----" হে মৃত্যু, তুমি আমার ক্রাধ ও সংহার বুদ্ধি থেকে সৃষ্ট হলে। তাই তোমার কাজ হল জীব ও জড় বস্তুকে সংহার করা।"
মৃত্যু ব্রহ্মার কথা শুনে আঁতকে উঠলেন। তার রক্ত চক্ষু হতে বিন্দু বিন্দু জল নির্গত হতেই, ব্রহ্মা তা মাটিতে পতিত হওয়ার আগেই নিজের করতলে ধারণ করলেন।
মৃত্যু হাতজোড় করে প্রশ্ন করল," হে পিতা াপনি কেন এ পাপিয়সীকে সৃষ্টি করলেন? আমি যাদের প্রিয় পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, পতি, পত্নীকে সংহার করব, তারা আমাকে ঘৃণা করবে। আমার অনিষ্ট চিন্তা করবে। আমি তাদের প্রিয়তম মানুষের প্রাণ সংহার করতে অপারগ।
ব্রহ্মা বললেন, কিন্তু তোমার সৃষ্টি কেবল সংহারের নিমিত্তে। তোমাকে তোমার কর্ম করতেই হবে। লোকের হিতসাধনের জন্যই লোকবিনাশ প্রয়োজন।
তিনি হাতের মুঠো খুলে সঞ্চিত জলবিন্দু দেখিয়ে বললেন। একাজে আমি তোমাকে নিয়োজিত করছি, তোমার অধর্মের ভয় নেই। লোকপাল, যম, ব্যাধিসকল, দেবগণ একাজে তোমাকে সহায়তা করবে। তারপর অশ্রুবিন্দু দেখিয়ে বললেন, এই অশ্রু প্রাণীগণের আত্মসম্ভূত ব্যাধি রূপে প্রাণ সংহার করবে। আর তোমার প্রার্থনা মতো "লোভ, ক্রোধ, অসূয়া, ঈর্ষা, দ্রোহী, মোহ, নির্লজ্জতা এই সকল ইন্দ্রিয়বৃত্তি, প্রাণী সকলের দেহ ভেদ করবে। তুমি শুধু কাম আর রোষ ত্যাগ করে সংহারে ব্রতী হও।
Comments
Post a Comment