যমুনা তীরে
💫🕊🍂"যমুনাতীরে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের মধুর বাল্যলীলা ♦:-দ্বাপর যুগের এক অপরূপ সকাল। বৃন্দাবনের আকাশে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। যশোদা মাতা ও রোহিণী মাতা পরম স্নেহে দুই ভাই—শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। আজ দুই ভাই তাঁদের সখাদের সাথে গভীর বনে গো-চারণে (গরু চরাতে) যাবেন।যাওয়ার আগে মায়েরা তাঁদের সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। শ্যামবর্ণ কৃষ্ণের পরনে জড়ানো হলো উজ্জ্বল হলুদ ধুতি (পীতাম্বর), গলায় দুলিয়ে দেওয়া হলো সুগন্ধি বুনো ফুলের মালা, আর মাথায় গোঁজা হলো তাঁর প্রিয় ময়ূরের পালক। অন্যদিকে, গৌরবর্ণ বলরামকে সাজানো হলো নীল রঙের বসনে ও সুন্দর অলঙ্কারে। বনে যাওয়ার জন্য তাঁদের হাতে দেওয়া হলো রাখাল লাঠি, বাঁশি আর মহিষের শিং দিয়ে তৈরি শিঙা (শিং দিয়ে তৈরি এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র)।
♦মায়েরা পরম যত্নে দুই ভাইয়ের পোটলাতে সুস্বাদু মাখন ও মিষ্টি খাবার বেঁধে দিলেন। এরপর শ্রীদাম, সুদাম, সুবল ইত্যাদি গোপবালকদের সাথে নিয়ে কৃষ্ণ-বলরাম তাঁদের বিশাল গরুর পাল নিয়ে বনের দিকে রওনা হলেন।হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌঁছালেন যমুনার তীরের এক মনোরম উপত্যকায়। চারপাশে ঘন সবুজ ঘাস, পাহাড়ি ঝরনা থেকে ঝরে পড়া শীতল জল আর জলাশয়ে ফুটে থাকা অজস্র পদ্মফুল। গাভী ও বাছুরগুলো মনের আনন্দে কচি ঘাস খেতে শুরু করল। প্রকৃতির এই শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে গাছে গাছে ময়ূর নাচতে লাগল, আর রাজহাঁসেরা যমুনার জলে খেলা করতে শুরু করল।
♦ঠিক সেই মুহূর্তে বলরাম তাঁর হাতের সাদা শিঙাটি মুখে তুলে নিলেন। তিনি জোরে শিঙায় ফুঁ দিতেই এক গম্ভীর ও মধুর ধ্বনি পুরো বনে ছড়িয়ে পড়ল। এই শিঙার আওয়াজ ছিল আসলে এক সংকেত—যার অর্থ হলো সব সখা এবং গাভীদের এক জায়গায় জড়ো হওয়ার আহ্বান।শিঙার আওয়াজ শুনে বনের দূর-দূরান্তে চরে বেড়ানো গরুগুলো কান খাড়া করে কাননের দিকে ছুটে আসতে লাগল। ঠিক তখনই পরম দয়ালু শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একটি শ্বেত (সাদা) গাভীকে পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরলেন। কৃষ্ণের হাতের ছোঁয়ায় সেই গাভীটি সমস্ত চঞ্চলতা ভুলে চোখ বুজে পরম শান্তিতে দাঁড়িয়ে রইল। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সখারাও লাঠি ও লাঙল কাঁধে নিয়ে দুই ভাইয়ের এই অপূর্ব রূপ দেখে আনন্দে মেতে উঠল।
💫📜কাহিনীর মূল শিক্ষা♦:-এই সুন্দর কাহিনীর মাধ্যমে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, ভগবান কোনো রাজপ্রাসাদে বা ঐশ্বর্যের মধ্যে আবদ্ধ নন। তিনি ভক্তের ভালোবাসার জন্য সাধারণ রাখাল বালক সেজে বনে বনে ঘুরে বেড়াতেও দ্বিধা করেন না। বৃন্দাবনের এই লীলা আসলে ঈশ্বর ও প্রকৃতির মধ্যকার এক নিঃস্বার্থ ও পরম ভালোবাসার প্রতীক।
Comments
Post a Comment