বাবা

বাবা
দেবপ্রসাদ জানা

অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সামনে আমি দেখি।
বৃদ্ধ বাবার, আরো একটু বয়স হয়েছে নাকি।
আমিও একটু যুবক হলাম
একদিন আরো বড় হলাম।
বাবার হাতের গড়া আমি, আমি বড় সুখী।

অনন্ত বসন্তে আমি অনন্ত যৌবনে।
সূর্য ওঠার সঙ্গে বাড়ে সন্ধ্যার দর্শনে।
যখন আমি শিশু ছিলাম 
মায়ের হাতে ভাত খেতাম
অফিস থেকে বাবা এলে, খুশি আলিঙ্গনে।

জন্ম আমার তার তেজে, মুক্ত ধরাতলে।
সিক্ত করি শিশুকালে, যৌবন জ্বালি অনলে
মেরেছে কখনো ক্রোধ ব'সে।
হেসেছে কখনো আদর রসে।
প্রাণপাত করেছে সদাই বড় হবো বলে।

চিনেছি পৃথিবী চিনেছি লোক তার কাঁধে চেপে।
ছেঁড়া ধুতি রিপু করা, শীতে থর থর কেঁপে।
আমি বেটা লক্ষ্মীছাড়া।
আদর তার বড় বেয়াড়া।
হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে ভাঙেনি কোনো চাপে।

একটা লজেন্স খায়নি কিনে পেটের ক্ষিদে মেরে।
কি হয়েছে বল না আমায়, আনমনা দেখে মোরে।
দাবি সব মানতে পারে।
হাসি মুখে লড়াই করে।
নাকে মুখে খেয়ে দেয়ে, নিত্য অফিস করে।

কানের শক্তি হারিয়ে গেছে টাইফয়েডের জ্বরে।
চোখের ওপর সাদা ছানি চলে ধীরে ধীরে।
আজকে বাবা অষ্ট আশি 
চোখে ছিল স্বপ্ন রাশি।
যা দিয়েছে অনায়াসে আমায় আপন করে।

Comments

Popular posts from this blog

দাসত্ব

কলহ

বাতিল বাতিল