আমি তো সেই


আমিই তো সেই
দেবপ্রসাদ জানা

চিনেছ কি আমি কে ? কোথা হতে আসি।
নক্ষত্র বিচ্ছিন্ন গ্রহ আমি পৃথির জলরাশি।

বিলুপ্ত হৃদয় নিয়ে করেছি প্রেমের বাসনা।
রহস্যময় আমি অন্ধকার ঘন অপূর্ণ বেদনা।

ঘুমন্ত ঈশ্বরের নাভি হতে জন্ম নিয়েছি আজ।
আঁধার মেঘে ঢাকা রশ্মির বুকে করেছি বিরাজ।

অনন্ত সমুদ্রের নিচে ডুবে থাকা অশান্ত পৃথি।
বরাহ আমি সমুদ্রের নিচে হতে তুলে আনি পৃথি।

জীবকণ্ঠে, আমি কণ্ঠস্বর আমিই নতুন শব্দ।
ষোড়শী কন্যার অধর আমি, আবৃত্তির পদ্য।

আমি বাক্য, শব্দ আমি, আমিই তো গীতছন্দ-
কখনো খুব ভালো, কখনো কখনো মহামন্দ।

আমিই যে কথ্যভাষা, আমিই সাহিত্য বিজ্ঞান।
আমি তো সেই মহাসিন্ধু, আমিই তো মহাপ্রাণ।

বৃক্ষতলে ছায়া আমি, নিশীথ চাঁদের জোছনা।
কৌমূদীমধুর হাসি আমি, মনে কামুক বাসনা।

শরতের বাঁকা চাঁদ আমি, স্রোতস্বিনী নদীবাঁধ।
শীতের আগুন আমি- পরকীয়া প্রেমের ফাঁদ।

সিংহের গর্জন আমি, ভীষণ ভীষণ হুঙ্কার।
বিষাদ বাসনা আমি, আকাঙ্ক্ষা কামনার।

কুরুক্ষেত্র আমি, আমিই তো পঞ্চপাণ্ডব।
অর্জুন আমি, কখনো কর্ণ, কখনো কৌরব।

গদাধারী ভীম আমি, সহস্র হস্তীর শক্তি।
চক্রবূহে অভিমন্যু, পাইনি এখনো মুক্তি।

দধিচির হাড়ে গড়া, ইন্দ্রের মহাবজ্র আমি।
রাক্ষস বধের মহামন্ত্র, আমিই অন্তর যামি।

ঝর্ণা কলমে আমি লিখে যাই নানা বর্ণ।
ঋষি কণ্ঠে ওঙ্কার আমি, রঙহীন বিবর্ণ।

মাদলের তাল আমি, আমিই তো ঝঙ্কার।
আমিই রাগিণী ছয়, ছন্দ ছন্দের ডঙ্কার।

কামিনীর রাগ আমি, অনুরাগের সোহাগ।
অমৃতের ভাণ্ডখানি আমিই যে করি ভাগ।

ভ্রমরের গুঞ্জন আমি, কোকিল কন্ঠ কুহু।
গ্রহণের কালে আমি, তথা হয়ে যাই রাহু।

যুগান্তরে বসন্তের পলাশ, রক্ত মাখা ফুল।
আমিই তো কুমারের হাতে মৃতিকার পুতুল।

আমিই তো রজনী ডাকি মিলন প্রণয়ে।
আমিই কষ্ট, আমিই কান্না, দুখির হৃদয়ে।

আমিই যে প্রথম প্রেমে বিচ্ছেদ বেদনা।
আমি যে গভীর মনের উদ্বেগ বাসনা।

প্রখর উত্তাপে আমিই তো, ঘুরি ঘরে ঘরে।
আমি যে স্নিগ্ধ ছায়া বনস্থলী, বিশ্ব-মনোহরে।

সবুজ আমি, নীল আমি, মায়াজালে ঘেরা-
মেঘলা আকাশে আমি, বজ্রপাতে ভরা।

বাসুকী নাগ আমি, পৃথিবী ধরেছি শিরে।
বীরদর্প চুর্ণ করি আমি, যমুনার তীরে।

ক্ষুধা তৃষ্ণা সুখো নিদ্রা না লই শরীরে।
দেখি পরমানুরাশি, অণু হয় ধীরে ধীরে।

ঘুমহীন ক্লান্ত বিহ্বল স্রোত আমি অবিরত।
নক্ষত্রের সৌন্দর্যে আমি, উষ্ণ লাল ক্ষত।

বিস্তীর্ণ প্রান্তরে আমি একা তমাল বৃক্ষ।
অন্ধকার গুহায় রত্নের রক্ষক আমি যক্ষ।

আমি এই পৃথিবীর সাত সমুদ্রের নীল।
দূর আকাশ থেকে উড়ে আসা শিকারী চিল।

অনন্ত বসন্ত দূরন্ত আমি, কুমারীর যৌবন।
আমিই শক্তি মুক্তি ভক্তির কোমল কানন।

মৃত্যু নয় আমি, নই আমি মহাগদাপ্রভা যম। পরলোকপতি আমি, মৃত্যুদানে করি পরিশ্রম।

যেখানে অশান্তি সেখানে শান্তি আনি ডেকে।
অহঙ্কার চূর্ণ করি একপদ ভূমি পরে রেখে।

এইতো সেই আমি, দুপুরের সূর্য মহাবলবান।
নীল আকাশের বুকে আমি একমুঠো প্রাণ।

কে আমি কোথা থাকি কোথা মোর নিবাস।
যম আমি, মৃত্যু আমি, প্রাণের আমিই প্রকাশ।


Comments

Popular posts from this blog

মহাঋষি শুক্রাচার্য্য

কলকাতার নামকরণ

শকুনি পাশা