Posts

মৃত্যু

মৃত্যু ও  মৃত্যুর উৎপত্তি মৃত্যু কিন্তু মৃত্যু হতে চায়নি কখনো। তবু নিয়তি তাঁর নাম দিয়েছে মৃত্যু।  নিয়তি কে? স্বয়ং কমলযোনি ব্রহ্মা। যিনি আমাদের আগামীর বাহক। পুত্রশোকাকূল অকম্পন নৃপতির শোক দেখে,  দেবর্ষি নারদ তাঁকে  ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন------ পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রজাকূল সৃষ্টি করে বেশ প্রসন্নই ছিলেন #ব্রহ্মা।  সকলের নিয়তিতে সুখ লিখছেন আর মেতে আছেন শুধু সৃষ্টিতে।  বিনাশ, সংহার এই শব্দ গুলো তাঁর কাছে তখন অপরিচিত।  কিন্তু মাতা বসুধা ভারাক্রান্ত ক্লিষ্ট বদনে যেদিন সামনে এসে দাঁড়ালেন, সত্য দর্শন হল ব্রহ্মার।  অসহায় ব্রহ্মা নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।  তাঁর ভয়ঙ্কর তেজে আকাশ হতে অগ্নি নির্গত হয়ে ধরাকূলের সমস্ত প্রাণী, জড়কে বিনষ্ট করতে শুরু করল। পৃথিবী যখন প্রায় ভষ্মিভূত স্বয়ং মহাদেব প্রজাকূলের রক্ষা হেতু ব্রহ্মা কে ক্রোধ সম্বরণ করার অনুরোধ জানালেন। তখন সেই অগ্নিতেজ ব্রহ্মা নিজের মধ্যে সমাহিত করে সৃষ্টি করলেন এক নারীর।  কৃষ্ণ, লোহিত, পিঙ্গল ত্রিবিধ রং  মিশ্রিত সে নারী, রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু ও বিবিধ ভূষণে সজ্জিত হয়ে ব্রহ্মা ও মহেশ্বরের দক...

লক্ষ্মণা

দুর্যোধন তনয়া লক্ষ্মণা।  অত্যন্ত সুন্দরী  গুণবতী।  ভগবান ‎শ্রীকৃষ্ণ ও জাম্ববতীর পুত্র ছিলেন সাম্ব।  তিনি লক্ষ্মণাকে পছন্দ করতেন।  এদিকে ‎দুর্যোধন লক্ষ্মণার স্বয়ংবরের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সাম্ব বীরের মতো স্বয়ংবরের ‎মাঝখানে উপস্থিত হয়ে লক্ষ্মণাকে বলপূর্বক হরণ করে নিয়ে গেলেন। ‎ ‎এই ঘটনা দেখে কৌরবরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন।  দুর্যোধন, কর্ণ এবং আরও ছয়জন মহারথী ‎সাম্বকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়লেন।  সাম্ব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের পুত্র ছিলেন,  তাই বীরত্বে ‎তিনি কোনো অংশেই কম ছিলেন না।  তিনি একাই সেই ছয়জন মহারথীকে নাজেহাল করে দিয়েছিলেন। ‎ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে কোনোভাবে তাঁকে বন্দী করলেন এবং লক্ষ্মণাকে তাঁর থেকে ‎আলাদা করে দিলেন। ‎ ‎এই পুরো ঘটনার কথা দেবর্ষি নারদ দ্বারকায় গিয়ে যাদবদের জানালেন। শুনে তাঁরা প্রচণ্ড ‎রেগে গেলেন এবং কৌরবদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন। ঠিক সেই সময় বলরামজি ‎সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যাদবদের শান্ত করে বোঝালেন যে, এভাবে হুট করে যুদ্ধ শুরু ‎করা উচিত নয়। তিনি নিজেই হস্তিনাপুরে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করবেন। ‎ ‎এরপর বলরামজি ...

সীতার বিলাপ

সীতার বিলাপ মহাকাব্যে বনপর্বে ঋষি মার্কেন্ডয়। শ্রীরামের লীলাপ্রীতি অতি সুধাময়। ত্রেতাযুগে  যুধিষ্ঠিরে করিল বর্ণন। ধর্ম ভয়হীন এক, পাপিষ্ঠ রাবণ। দশানন জানকীরে করিল হরণ। মহাভারতের কথা কহিব এখন। তাহাতে বিশ্বাস যদি করো হে রাজন। সুস্থ শিষ্ঠ ভাবে কই, ওহে প্রাণধন। সাধুবেশে ভিক্ষা মেগে, হৃদয় রঞ্জন। সীতাকে হরণ ক'রে, দুষ্ট দশানন। লঙ্কার অশোক বনে রাখিল তাহাকে। রাক্ষসীরা খাবে তাই, কহিল সীতাকে। ভয়ঙ্কর রাক্ষসীর কড়া পাহারায়। শ্রীরামে বিচ্ছিন্ন হয়ে, আমি মৃতপ্রায়। মেরে ফেলো খেয়ে ফেলো কহিল জননী। নির্বাসিত পতি মোর, তবু ছিনু রানি। কি ছার আমার এই অসার জীবন। প্রাণত্যাগ করি যদি, কি হবে এখন। পিতৃ ঘরে ছিনু আমি পিতার দুলালী। স্বামী ঘরে রাজরানী, স্বামী মহাবলি। রাহুগ্রস্ত পরিবার, হলো দেশান্তরী। নির্বাসিত মোর স্বামী, হয় বনচারী। প্রজ্বলিত দুখানল দুই চক্ষে ঝরে। হাসি মুখে  স্বামী সঙ্গ, ধরি তার করে। শশধরে যথা রাহু, করেছেন গ্রাস। গ্রহণ লাগিল মোর, এমনি প্রকাশ। সাধু বেশে দুরাচারী, হরণ করিল। দৈত্য দানবের মাঝে আমারে ফেলিল। কি জানি কি ভেবে মোরে রাখিল এখানে। প্রৌঢ় অপরাধ করে, ক্ষমি কি কারণে। নানা ছদ্মবেশ ধরে,...

ধৃষ্টদ্যুম্ন

ধৃষ্টদ্যুম্ন ঋষিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে  দ্রোণ ও পাঞ্চালরাজ প্রষতের পুত্র। একসাথে বিদ্যাচর্চা, বন্ধুত্বের প্রেমে। আবেগে দ্রুপদ কহে আমি রাজপুত্র। প্রতিশ্রুতি দিনু আজ, তোমার আদরে। রাজা হয়ে, সম্পদ ও সুখের অর্ধেক  ভাগ করে দিবো যেন, রইলো বিচারে। দ্রোণকে একথা কহে, শুনিল প্রত্যেক। কতই সোহাগ করে বসি দুজনায়। সমুজ্জ্বল শান্তিময়, ঋষির আলয়ে। ম্রিয়মাণ রবি ছবি, ভুবন জাগায়। অস্ত্র, বিদ্যা ধর্মশিক্ষা, সকল বিষয়ে। মনের মধুর জ্যোতি, উছলে নয়নে। শিক্ষা শেষ হলে পরে, বিদায় চাহিয়া। বিলোচন ছল ছল করে সেইক্ষণে। অরণ্য পুরিল বুঝি, কাতরে কাঁদিয়া। দ্রুপদ হইলো রাজা, বসে সিংহাসনে। অন্যদিকে দ্রোণ হেথা, চরম দারিদ্র্যে। তাঁর পুত্র অশ্বত্থামা, চায় মুখ পানে। দুধের বদলে তারে, ফেন দেয় ভদ্রে। আননে বচন নাই, নয়নে পলক। দুঃখের সাগর যেন, উছলে ক্ষুধায়। যতই সান্ত্বনা করে, মন্দ বলে লোক। কাতর হয়েছে প্রাণ, মনের ব্যথায়। অস্ত্র যার কথা শোনে, বিদ্যা শিক্ষা প্রাণ। তাঁর ঘরে চাল নাই, নাই কোনো ঘর। পথে পথে দোরে দোরে, ভিক্ষা মেগে খান। অশান্ত নীরব দ্রোণ, ভাবিল বিস্তর। বাধ্য হয়ে দ্রোণ যায়, পাঞ্চাল সভায়। বাল্যবন্ধ...

সুর্পনক্ষা

রাক্ষসী শূর্পনখা আহা রে পুরুষবর বহে স্নিগ্ধ সমীরণ। কে গো এই বনবাসি, জটাজুট কেশ রাশি ওহো, এই হৃদিরাজ্যে প্রেম করে আগমন। চন্দ্রপ্রভা চোখের পলকে, ঝরে পড়ে শশী। মজেছি তোমার ধ্যানে, আমি প্রেম অভিলাষী। তোমার চোখের দীপ্তি, অভিনব শান্তিরসে তব। নীরবে এই হরিণী কহে, তোরে ভালোবাসি। যতদিন প্রাণ রবে দেহে। তোমারই হয়ে রব। সবুজে তরুণ ঊষা, আনন্দে অধীর প্রাণ। রূপে মন ভরে রাখো, নিরখি কমলবনে। শূর্পনখার হৃদয় লাগে যে, রাম প্রেম বাণ। একাকী বনের মাঝে সুর্পনখা আনমনে। রাক্ষসী রূপের বাধা, দূর করে শূর্পনখা। অতীব সুন্দরী, শূর্পনখা, নারী রূপে জাগে।  অধরে প্রেমের হাসি, মিলনে মধুর সখা। প্রেমিকারহণে চলে যুবতী প্রেমপূর্ণরাগে।  ত্রিলোক বিজয়ী লঙ্কেশ্বর তাঁর আদরিণী। বলিহারি মদনের বাণ, অনল জ্বলিয়ে। বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে চলে যে বিনোদিনী  বনবাসী, কোথা হতে এলে ঘোর সমুদয়ে।  শান্ত স্নিগ্ধ তৃপ্তিময় প্রভা ভুলায় নয়ন। পদত্রাণহীন, এই ঘোর অরণ্য গভীরে। কি নাম তোমার বনবাসী, জ্বলন্ত তপন। তোমার তাপে মোর, প্রেম জাগে অন্তরে। এত রূপ ছিল কোন কুলে কার বংশধর। কথা হতে আসিয়াছ, কি নাম বলো উদাস। শ্রীরামের হাসি মুখ, যেন দ...

এক দুরন্ত যাযাবর

এক দুরন্ত যাযাবর  জ্যোতির্ময় দাশ মধ্যযুগে ভেনিস দেশবাসীদের কাছে চীন বা জাপান যেমন রোমান্টিক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, আমাদের অনেকের কাছেই ভেনিস শহর তেমনই রোমান্টিক। আপনি যদি সেখানে পৌঁছেও যান, মনে হবে আপনি যেন এক স্বপ্নের দেশে উপস্থিত হয়েছেন। সূর্যালোকে উদ্ভাসিত প্রাসাদের বর্ণালী পাথরের গম্বুজ গুলো, পাতলা কাঠের মধ্যে ভঙ্গুর পাথরের খোদাই করা খিলানগুলো মনে হয় যেন কাপড়ের উপরে সৃষ্টি শিল্পের কাজ। আপনার নৌকা রিয়াদতো সেতুর নিচে দিয়ে যাবে যে সেতুর তলা দিয়ে শার্লক প্রায়ই যাতায়াত করতেন, ক্রমশ পথে পড়বে এক প্রাসাদ যেটি ডেসডিমোনা নামে খ্যাত। আর এক নিস্তব্ধ মাটির কাছে একটি সাইনবোর্ড চোখে পড়বে যাতে লেখা আছে মার্কোপোলোর বসতবাড়ি। ওহো মার্কোপোলো সচকিত হয়ে আপনি উপলব্ধি করবেন তিনি কোন রূপকথার চরিত্র নয় ভেনিসের এই প্রসিদ্ধ বণিক, এই জীবিত ব্যক্তি এক দুরন্ত যাযাবর, যার তুলনা পাওয়া যায় সারা বিশ্বে। তার অত্যন্ত রমনীয় ভ্রমন কাহিনীটি থেকে এশিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ পড়তে পাই। শতাব্দীর ভেনিস, জলপথে বাণিজ্যকরীদের কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে মার্কোপোলো যিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য...

সময়

সময় দেবপ্রসাদ জানা বড় অসহ্য লাগছে বিছানাটা  বিশেষ করে ভোর বেলার বিছানা যখন জানালা দিয়ে আলোরকনা গুলো - পরমাণু হয়ে, না না তারও প্রায় হাজার ভাগের একভাগ। ঘুমন্ত চোখের ওপর এসে পড়ে - মনে হয় এই বুঝি সময় চলে গেলো,  আরো একটাদিন, আরো কিছু সময় চলে গেলো। ভেতরে, শরীরের ভেতরে উৎকণ্ঠা। অসহ্য লাগে মখমলের নরম বিছানা। শরীরের লোম গুলোর সাথে শত্রুতা বাড়ছে, সাদা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ,  মাথার ওপরটা ফাঁকা হয়ে আসছে, একটা দুটো অতিরিক্ত বেগুনি রঙের কোষ, ফর্সা চামড়ার ওপর উঁকি দিচ্ছে, ভয় ভীষণ ভয় পাচ্ছি। চোখে পর্দায় সাদা প্রলেপ, অতিরিক্ত পলক পড়ছে,  যে দাঁত গুলো এতদিন মটর ভাজা - অনায়াসে চিবিয়ে দিত, কোনোটা কালো, কোনোটা অর্ধেক, আবার কোনোটা, জমি ধরে রাখতে পারেনি। ভেতরে পিত্ত থলিও ভীষণ কষ্ট দিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে। কোমরের শক্তি কমে গেছে ভীষণ কষ্ট দেয় বেশিক্ষণ বসতে পারে না। চোখের সামনে গঙ্গার ধারের আগুন দেখতে পাচ্ছে। সময় এসে গেলো বিদায় নেওয়ার।