হুংকার

হুংকার 
দেবপ্রসাদ জানা

প্রতিধ্বনি হলো বুঝি, আকাশে বাতাসে।
শব্দের হুঙ্কারে ওই, ক্ষয় ধেয়ে আসে।
জীবকণ্ঠে যাই আসি, আমি কণ্ঠস্বর।
আমি বাক্য, আমি ভাষা, সুর পরস্পর।
সাহিত্য বিজ্ঞান আমি, মহীর ভিতর।
পবিত্র ফুলেল আভা বিশ্ব-মনোহর।
সিংহের কণ্ঠেতে আমি গর্জন হুঙ্কার।
ঋষির কণ্ঠেতে বাজি, নশ্বর ওঙ্কার, 
গায়ক কণ্ঠেতে আমি সুরের ঝঙ্কার।
রাগ রাগিণী আমিই, সাত সুরকার।
গুণ গুণ রব তুলে, ভ্রমিছে ভ্রমর।
কোকিল কুহরে বাজি, বৃক্ষের উপর।
কলহংস নাদ ওঠে, সরসী ভিতর।
অবিনশ্বর জীবনে, আমিই কিঙ্কর ।
আমি হাসি আমি কান্না, স্বররূপে আসি।
কখনো চিৎকার করি, মেঘ পরে ভাসি।
বজ্রের গর্জন আমি, ঝড়ের বাতাস।
আমিই ফুলের গায়, সুন্দর সুবাস।
ব্রহ্মা আমি বিষ্ণু আমি, আমি মহাদেব।
ত্রিলোকের মৃত্যু আমি, আমি যমদেব।
নরক প্রহরী আমি, আমিই বিধান।
আত্মা আমি দেহ আমি সকলের প্রাণ।
আমার আস্তিনে রাখা তোমাদের পাপ।
ক্রমশ বাড়ছে মোর, দেহের উত্তাপ।
আমিই বিষাদ বানী, আমিই ঝংকার।
আমিই বিপদ ডাকি, করিয়া হুংকার।





Comments

Popular posts from this blog

কলকাতার নামকরণ

রবীন্দ্রনাথের প্রতি সুকান্ত

অশ্বত্থামা