কয়েকটি কবিতা

আত্মহত্যা

সেই হাজার বছর ধরে
অবদমনের অবসন্নতায় খুঁজেছি
আত্মহননের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া।
সোনালী আলোয় আলোকিত পৃথিবী 
রাতে রূপালী জোছনা।
আকাশ জুড়ে নীল রঙ সবুজ বাতাস 
রংবেরঙের নানা জাতির ফুল,
মাঠ জুড়ে সোনার ফসল, 
কত রকমের পাখির কুজন।
তবু রাতের 
            জীবন্ত শিউলি 
দুঃখে আত্মহত্যা করে।
ভোরের আকাশ তাকে আর চায় না।
আশ্চর্য?  শিউলির এই মরে যাওয়া 
কেউ লক্ষ্যই করে না
কোন অপরাধে আত্মহত্যা করে সে, 
অন্ধকারের ভালোবাসা সহে না আর -

অন্তঃসত্ত্বা 

চেতনায় উদ্ভাসিত হল 
কাক চিল চড়ুই ইত্যাদি পাখি 
গরু ভেড়া কুকুর ইত্যাদি পশু 
আম জাম কাঁঠাল ইত্যদি বৃক্ষ।
মানুষের মুখ মনে পড়ল না কেন?

আরেকটি মৃত্যু।

এক আকাশে কত উড়ান
না জানি কত ছবি 
বেলা গড়িয়ে রাত বাড়লে 
হারিয়ে যায় কালের স্রোতে।

একদিন কাছের ছায়া
অজান্তেই হারিয়ে যায়।

আহ্লাদি হলুদ ফুল, 
দুপুর গিলে খায় 
রাতের গায়ে কালির আঁচড় দিয়ে
অমাবস্যা থমকে দাঁড়ায় গলিতে
কানে-কানে, চুপিসারে বলে
                                          গোপন কথা --
থমথমে গলি 
পা রাখে হেঁশেলে ... 
পরনিন্দার আঁতুড় ঘরে।

হাতের চাঁদ

হাতে করে চাঁদ এনেছো
         রেখে দাও বারান্দায়।
ঘরের ভিতর সূর্য আছে
         সে যেন টের না পায়।
উত্তাপে তার শূন্য পেট
          শুধুই খেতে চায়।
খবর পেলে চাঁদ এনেছো
          খাবে অবহেলায়।



Comments

Popular posts from this blog

কলকাতার নামকরণ

অশ্বত্থামা

রবীন্দ্রনাথের প্রতি সুকান্ত