Posts

Showing posts from 2025

বেহিসাবি রাত

তুমি বলেছিলে, রাত বেশি হবে না,  সূর্য ডোবার আগেই ফিরে আসবে,  ঘনিয়ে এলো অন্ধকার,   জোনাকিরা আলো জ্বেলে বেরিয়ে পড়েছে, বাঁশ বাগানে ঝি ঝি পোকারা গান জুড়েছে, দূরে নদীর স্রোত কানে আসছে,  হাসুহানার সুবাসে দীর্ঘনিশ্বাস গেছে মিশে। ওধারে ছাতিম ফুলের গন্ধ মাথা চাড়া দিচ্ছে। কয়েকটা বাদুড় ওড়ে গেলো ভয়ে ভয়ে,  তাল গাছ বেয়ে হুতুম পেঁচা নেমে আসবে একটু পরে। স্তব্ধ-দুপুর রাতের আগে। শেষ ঝিকিমিকি অন্তসাক্ষী ওই আকাশ।  ঝিল্লির রবে শিহরি শিহরি বিনিদ্র রাত কাটে।  তুমি বলেছিলে,  'অপলক চোখে,  উজোব হবে এ নিশি । জাগে শুকতাবা, উর্মি ছলকে ঝলকে দীঘিব ঘাটে।

ছেনাল বাতাস

ছেনাল বাতাস দেবপ্রসাদ জানা ঝরা পালকের প্রতিশব্দ জেগে রইল, এক নমনীয় হিমজা আলোর অস্ফুট চপল ইশারায়, আমোদিনী শিউলির বনে ফুল,  ঢলে ঢলে ছেনাল হাওয়ার বেলেল্লাপনা, এক্কা-দোক্কা খেলার অগোচরে আশ্চর্য হিম অন্ধকার। বেওয়ারিশ পালকের ছেনাল নৃত্য চোঁয়ানো আলোয়। হা-নগ্ন একা সে পাগলিনী-  অন্ধকারে জেগে থাকে শরীরি পিপাসা  ঘরময় বেওয়ারিশ পালকের অসতর্ক সরলিত পরকীয়া। বিলাসি বেহুল হৃদয় সেদিন প্রতারক। আলো-আঁধারি ভোরের বাগানে ছদ্মবেশী নিয়তি। কয়েক হাজার বছর আগে পরকীয়ার জন্ম, তবু আজো জীবিত, অষ্টাদশী,  একা একা শিউলি কুড়োয়।  তার কিশোরী শরীরে-  একটু একটু করে ফুটে ওঠা নম্র কুসুমকলির, অমল আভাস।  সোঁদামাটি নাভি ছুঁতে চায়, কি অপরূপ পালকের স্থাপত্য।  বিভাজিত বক্ষস্থলে আলতো আঁধারের রেখা,  প্রতিটা মিথুনমুদ্রার সোহাগী জ্যামিতি।  দলা দলা লজ্জা প্রলুব্ধ করছে।  চুপি চুপি সুখ শরীরের প্রতিটা রক্ত-নলির আনাচে-কানাচে। যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ জোছনা পোয়াতি রাতের পেট খসিয়ে- আরো একটা বেজন্মা ভোর।  উদোম, চঞ্চল মোহময় তার নরম গোলাপী অবয়ব।  যেন জ্বলন্ত দাবানলে কুয়াশিত ভোর,  অপ...

বারবারিক

মহাভারতের এক জীবন্ত চরিত্র "বারবারিক" কাহিনি- 💠 মহাভারতের এক অন্যতম শক্তিশালী এবং উপেক্ষিত চরিত্র হলেন বারবারিক। ভীমের পৌত্র এবং ঘটোৎকচের পুত্র বারবারিককে মহাভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধাদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও তিনি সরাসরি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নেননি, তবে তার কাহিনী যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 🌿🌿বারবারিকের পরিচয়🌿🌿 বারবারিক ছিলেন ঘটোৎকচ এবং মৌরবী বা আহিলাবতী'র পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং বীর যোদ্ধা ছিলেন। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে যুদ্ধবিদ্যা শেখেন। তপস্যা করে শিবের কাছ থেকে তিনি তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেন। এই তিনটি বাণের সাহায্যে তিনি একাই যেকোনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতেন। এই বাণগুলো এমন ছিল যে, প্রথম বাণ দিয়ে তিনি যাদের ধ্বংস করতে চান তাদের চিহ্নিত করতে পারতেন, দ্বিতীয় বাণ দিয়ে যাদের রক্ষা করতে চান তাদের চিহ্নিত করতেন, এবং তৃতীয় বাণটি দিয়ে চিহ্নিত করা সমস্ত শত্রুদের ধ্বংস করে আবার তার তূণীরে ফিরে আসতো। 🌿🌿কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বারবারিক🌿🌿 কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন বারবারিক যুদ্ধ দেখতে আসেন। তার মা-কে তিনি প্রতিশ্...

হোমিওপ্যাথি

🎍অ্যাপিস মেল মৌমাছির নির্যাস থেকে প্রস্তুত এক অমূল্য হোমিও ঔষধ সম্পর্কে জেনে রাখুন~ 🐝 Apis Mellifica (অ্যাপিস মেল) 📚 Source: The Honey Bee ⚕️ Nature: Acute, inflammatory, edematous & allergic conditions --- 🌿 ১–১০ : Skin & Swelling (চামড়া ও ফুলে যাওয়া) 1️⃣ ত্বকে হঠাৎ ফোলা, চুলকানি ও জ্বালাভাব — Sudden swelling, burning & itching of skin 2️⃣ ফোলা জায়গা লালচে ও গরম — Swollen, red and hot to touch 3️⃣ ঠান্ডা লাগলে চুলকানি বেড়ে যায় — Worse from cold exposure 4️⃣ গরম লাগলে স্বস্তি পায় — Better from warmth or hot application 5️⃣ দংশন বা অ্যালার্জির পরে ফুলে যাওয়া — Swelling after insect sting or allergy 6️⃣ শরীরে হঠাৎ চুলকানো দানা — Urticaria or hives with burning pain 7️⃣ চোখ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যায় — Oedema of eyelids, lips, or face 8️⃣ গলায় ফোলাভাবে কথা বা গিলতে কষ্ট — Throat oedema causing difficulty in swallowing 9️⃣ ত্বকে পানিভর্তি ফোস্কা — Vesicular eruptions filled with watery fluid 🔟 ত্বকে জ্বালা কিন্তু স্পর্শে ব্যথা — Burning pain with extreme tenderness to touch ---...

গুরু কুল

২০২৫-এ বসে আমরা অনেকেই জানি না— ভারতকে জয়ের জন্য যুদ্ধই যথেষ্ট ছিল না। ইংরেজরা জানত— 👉 যে জাতির শিক্ষা তাদের নিজের হাতে থাকে, সেই জাতিকে হারানো যায় না। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে ভারতের গুরুকুল পরম্পরাকে ধ্বংস করে দিল। কীভাবে? --- 🔥 ১) দান ও জমি কেড়ে নেওয়া (Permanent Settlement, ১৭৯৩) গুরুকুল চলত মন্দির, মঠ, সমাজ ও জমিদারদের দানে। ইংরেজরা কর ব্যবস্থা পাল্টে দিল— মঠ-গুরুকুলের জমি বাজেয়াপ্ত, দান বন্ধ, আয় কমে গেল। অর্থ নেই → গুরুকুল টিকল না। (Reference: Studies on Permanent Settlement) --- 🔥 ২) স্থানীয় শিক্ষাকে “অকার্যকর” বলে অপমান ইংরেজ অফিসাররা লিখল— “Indian knowledge is useless.” এভাবে মানুষের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিল যে নিজেদের শিক্ষা নাকি আধুনিক নয়। (Reference: Macaulay’s Education Notes) --- 🔥 ৩) Macaulay Minute 1835 — চূড়ান্ত আঘাত থমাস ম্যাকলে ঘোষণা করল— “আমরা এমন এক শ্রেণি তৈরি করব, যারা রক্তে ভারতীয় কিন্তু ভাবনায় ইংরেজ।” সরকারি অর্থ, চাকরি, আদালত — সবকিছুতে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে দিল। গুরুকুল হলো “অকার্যকর”, আর ইংরেজি হলো “ভবিষ্যৎ”। (Reference: Macaulay Minute, 18...

স্কুটি

স্কুটি দেবপ্রসাদ জানা পাঁচদিনের ছুটি কাটিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরতেই দেখি, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বামী।  চোখে মুখে অদ্ভুত হাসি।  ভেতরে ঢুকতেই চমকে গেলাম— ছোট্ট গ্যারাজে ঝকঝকে নতুন এক গাড়ি। চোখের চাহনিতেই প্রশ্ন করতেই স্বামী গাড়ির চাবি আমার হাতে দিয়ে বললেন— "আগামীকাল থেকে কলেজে যাবে এই গাড়িতে, প্রফেসর ম্যাডাম!" আমি হতবাক!  আনন্দে কথা আটকে গেল,  শুধু বিস্মিত হয়ে বললাম— "ওহ মাই গড!" অতি উচ্ছ্বাসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলাম।  সত্যিই ওঁর উপহার দেওয়ার ধরন সবসময়ই হঠাৎ,  বিনা আড়ম্বরে।  নিজের জন্য এখনো পুরোনো ইন্ডিগো রেখেছেন,  অথচ আমার জন্য নতুন গাড়ি কিনে এনেছেন।  বিয়ের ছ’ বছরে অসংখ্য উপহার দিয়েছেন,  গুনে শেষ করা যায় না। কিন্তু গাড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ খেয়াল হল, যেখানে আমার প্রিয় স্কুটি দাঁড়িয়ে থাকার কথা,  সেই জায়গাটা ফাঁকা। আমি চমকে উঠে বললাম— "আমার স্কুটি কোথায়?" স্বামী নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন— "ওটা বিক্রি করে দিয়েছি।  এখন ওটার আর কী দরকার?  গাড়ি আছে তো।" কথাটা শুনেই বুকটা কেঁপে উঠল।  আমি চিৎকার করে...

ভয়ঙ্কর

কি ভয়ঙ্কর  দেবপ্রসাদ জানা স্কুলে স্কুলে কচি কচি বাচ্চা  আর তাদের মধ্য বয়স্ক মা । দাঁতে ছোপ পড়েছে, গালের চামড়া কুঁচকে গেছে। বেমানান কুর্তি আর পায়জামা,  বুকের সামনের বেমানান নকশা।  কতক গুলি আধা বয়সী মা, তাদের বিজ্ঞ আলাপচারিতা। এদের খুব তাড়া, তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে বাচ্চা গুলো কে। লড়াই চলছে কার আগে কে যাবে? কে কত নম্বর পেলো? তার বাচ্চা কেন পেলো না। সকালে মাস্টার  ভয়ঙ্কর এক নারী প্রজন্মের অপেক্ষায় আমরা । উচ্চ শিক্ষা, আর  জীবনে কিছু করার উদ্যম নেশা। বিয়েহীন। ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে,  এরা এমন এক সংকট তৈরী করেছে ।  আগামী কয়েক বছরে লাখ লাখ মেয়ে- অবিবাহিতা থেকে যাবে,  যৌবনের চাহিদা, আবেগ, ভালোবাসা হারাবে।  স্বামীর মন জয় করার পরিবর্তে-স্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বী। সংসারে দরকষাকষি।  আর স্বামীও তাদের আনুগত্য, কোমলত্ব, নারীত্ব  না পেয়ে অসহ্য হয়ে উঠবে আরো বেশি।  তখন সংসার টিকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।  এরা যে পুরুষে বিবর্তিত।  দেহটা নারীর বৈশিষ্ট্য হলেও, মানসিকতা পুরুষের।  স্বামী তাকে দৈহিক ভাবে নারী পেলেও  সে মেন্টাল ভাবে প...

কয়েকটি কবিতা

১ আত্মহত্যা সেই হাজার বছর ধরে অবদমনের অবসন্নতায় খুঁজেছি আত্মহননের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া। সোনালী আলোয় আলোকিত পৃথিবী  রাতে রূপালী জোছনা। আকাশ জুড়ে নীল রঙ সবুজ বাতাস  রংবেরঙের নানা জাতির ফুল, মাঠ জুড়ে সোনার ফসল,  কত রকমের পাখির কুজন। তবু রাতের জীবন্ত শিউলি  দুঃখে আত্মহত্যা করে। ভোরের আকাশ তাকে আর চায় না। আশ্চর্য?  শিউলির এই মরে যাওয়া  কেউ লক্ষ্যই করে না কোন অপরাধে আত্মহত্যা করে সে,  অন্ধকারের ভালোবাসা সহে না আর - ২ অন্তঃসত্ত্বা  চেতনায় উদ্ভাসিত হল  কাক চিল চড়ুই ইত্যাদি পাখি  গরু ভেড়া কুকুর ইত্যাদি পশু  আম জাম কাঁঠাল ইত্যদি বৃক্ষ। মানুষের মুখ মনে পড়ল না কেন? আরেকটি মৃত্যু।

বসন্ত

এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। আমি বললাম, — “তুমি চাইলে আমি তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাব।” সে অবাক হয়ে তাকাল, — “আপনি জানেন আমি কে?” — “জানি, কিন্তু তাতে কী আসে যায়? আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” সে হেসে বলল, — “আপনার মাথা ঠিক আছে? আমি তো এক পতিতা।” — “তোমার অতীত আমি মুছে ফেলতে পারবো না, কিন্তু তোমার আগামী আমি লিখতে চাই।” সে নিরব হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বলল, — “আপনি কেন এমন করছেন?” — “কারণ তোমার চোখে এখনো ভরসা আছে। সেই ভরসাটাই আমার ভালো লেগেছে।” — “কিন্তু আপনি আমাকে চিনেন না।” — “চিনবো, সময় নিয়ে। বিয়ের পরই শুরু হবে সেই চেনা।” — “আপনার পরিবার কি মানবে?” — “আমার তো পরিবারই নেই, আমি একাই।” তার চোখে জল এসে গেল। — “তাহলে কিভাবে আমাকে এখান থেকে বের করবেন?” — “ওটা আমি দেখব। শুধু বলো, তুমি কি আমার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবে?” দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে মেয়েটা বলল, — “বিশ্বাস করতে ভয় লাগে… তবুও মনে হয় আপনার কথা সত্য।” আমি বললাম, — “তাহলে চল।” তারপর আমি ওই জায়গার মালিককে টাকা দিয়ে মেয়েটিকে মুক্ত করলাম। তারপর আমরা সরাসরি কাজির অফিসে গিয়ে বিয়ে করলাম। সেই মেয়েটির নাম ছিল আয়েশা, আর আমি হাসিব। --- 🔹 ১০ বছর পর... এক সাক্ষা...

আয়না

‘ আয়না দেবপ্রসাদ জানা আয়না তুমি “কাঁদছো?” কেন কাঁদছো? কই আমি তো কাঁদছি না। তোমার কণ্ঠ জুড়ে ভাঙা সুর - তোমার হাতের চিঠিটা আমি পড়েছি,  ভালোবাসার ইতিহাসে যে সব চিঠি আসে  তা এমনই হয়,  মনটা অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেল।  “বলতে পারো, কি হয়েছে তোমার?” একটা ভরসা,  নিঃশব্দে হারিয়ে গেলে ব্যথা পাওয়ার কি আছে? একটু চুপ থেকে ভাবো  “বাড়ির কথা মনে পড়ছে তোমার? তোমার মা তোমার বাবা কত কষ্ট করে  এখানে পাঠিয়েছে, কত ভরসা নিয়ে একটা মেয়ে তোমার জীবনে সব? কেঁদোনা আয়না, ও তোমার যোগ্য নয়, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? আমি অবাক হচ্ছি - মাত্র সাত মাসের হোয়াটস অ্যাপ নন্দন চত্বরে ক দিনের স্পর্শ উষ্ণতার দেয়া নেয়া,  হালকা ওষ্ঠের ছোঁয়া, জীবন বদলে দিলে? একটু হালকা হাসি, “চাইলেই কি পাওয়া যায় না?  তুমি তো স্বাধীন।” এক মিনিটে বিশ্ব ঘুরতে পারো ঘুরে আসো, জগৎ তোমার অধীনে। কি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছো? “তোমার প্রেমিকা তোমার ছিল না,  সে তো অন্যের ঘরের ঘরণী। তোমাকে বিক্রি করে, তার ভিত মজবুত করেছে, কেন কাঁদছো আয়না? বরং এত দিন যে কারাগারে ছিল - মুক্তি পেয়েছ। কথাগুলো শুনে বুকট...

জীবন

জীবন দেবপ্রসাদ জানা নিজের রক্ত খেয়ে দেখেছি,  ঠোঁটের চামড়াও চিবিয়ে দেখেছি,  মানুষের মাংস নাকি দারুণ সুস্বাদু? আমার কিন্তু তেমন লাগেনি। নাকি নিজের রক্ত ভালো লাগে না? অন্যের রক্ত বেশ ভালো লাগে, মাংসও। সময়ের সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, জীবনের বহু মুহুর্ত কেটে যায়, চড়াই-উৎরাই এ - প্রশ্বাসে ভালোবাসা, নিশ্বাসে প্রেম। সব যেন অঙ্ক, ভালোবাসা ঘোরে রাস্তায়, প্রেম আস্তাকুঁড়ের, দেনাপাওনা, জটিল বড় জটিল,  অন্তরঙ্গতায় রোদ-ছায়া। স্মৃতির মণিকোঠায় অধরা স্বপ্ন,  প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূণ্য, কারো গায়ে কাদা কারো গায়ে ফুল, অন্যের রক্ত সুস্বাদু কোলাহল হীন আকাশে, ঝড়ের পূর্বাভাষ। জনশূন্য, জীবনের এই রঙ্গমঞ্চে সব চলমান, ধাবমান অদৃশ্য সুতোর টানে নেচে চলেছি। ঋতু আসে, চলে যায় সময়ের হাত ধরে, আসা-যাওয়ার খেলা চলে চিরন্তন, পরিবর্তন হয়, সময় শেষে পর্দা পড়ে  নিদ্রা আসে হঠাৎ। অসময়ের বোধন, কি পেলাম জীবনে? অঙ্ক কষে দেখি সব শূণ্য।

কমরেড

প্রিয় কমরেড। দেবপ্রসাদ জানা  লাল রঙের কাপড়ে আঁকা কাস্তে হাতুড়ির  সাদা রং কালো হয়েছে অনেকদিন। কাস্তের কাজ হারিয়েছে- হাতুড়ির ঘায়ে চুরমার সংঘবদ্ধ সৈনিক। শিশুকাল ফিরে আসবে না কোনোদিন। সব ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যায় প্রাণ আবার কি ফিরে আসবে ? পৃথিবীতে এক রক্ত, লাল। রক্তেরও নানা জাতি। কালো হয়ে যাচ্ছে পথ, অন্ধ হয়ে যাচ্ছে সৈনিক। যদি আবার ফিরে আসে এক জাতির রক্ত অরুণোদয় আকাশে ওড়ে লাল পতাকা কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানায় পাতা চাদরের রং হয় লাল তবেই রক্তিম অভিনন্দন  জানাবো আরো একবার।

ক্লান্ত চাঁদ

ক্লান্ত চাঁদ দেবপ্রসাদ জানা  পরিশ্রমী আকাশের বুকে ক্লান্ত চাঁদ হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ-প্রেমের  অপূর্ব আরক্ত বাসনা  শিউলির বুক চিরে পড়ে  সদ্যজাত শিশির । ম্রিয়মাণ সূর্যের অরুণোদয় আঁচলে   উদ্বেল কাশ কখনো কাঁদে কখনো হাসে।  চোরকাঁটা বিঁধে বিঁধে যায় এলোমেলো বাতাসে। আশ্বিন- কার্তিকে ঝোড়ো বাতাস মন্থা। চারিদিকে শূন্য করে মায়ের প্রত্যাবর্তন। কুয়াশাহীন বাতাসে, ঝরিছে শিশির; - প্রেমিকের মন নারীর অপরূপ- ভঙ্গিমা খুঁজে পাবে নক্ষত্রের কপাট খুলে যেখানে রব না আমি, রবে না হৃদয়ে হতাশা,  কুয়াশার গর্ভ বাসনা, সেই ভালোবাসা  অমৃতের খোঁজে ক্লান্ত চাঁদ আজ যেন চাতক।

স্বামী

🥀বিয়ে টা জোর করে দেয়া হয়। পরিবারের চাপে ও বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে কাউকে বুঝতে দেইনি আমি ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করছি।😌😌 বিয়ের দিন রাতে আমার স্বামী যখন রুমে আসে ভয়ে আমি কাঁদতে থাকি। এই দৃশ্য দেখে সে ভাবে হয়তো পরিবারের জন্য। তখন সে সান্ত্বনা দেয়। আমার স্বামী দেখতে মো-টা কা-লো এটা দেখে আরও মন ভেঙে যায়। কলেজের সবার ক্রাশ, স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী, এমন নাম পেয়ে আসা মেয়েটার কপালে এরকম একজন জুটবে কখনো কল্পনাও করিনি। ভয় কাটিয়ে উঠে তাকে স্পষ্ট বলে দেই আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা টাও যেনো না করে। অবাক হলাম সে কিছু না বলে চুপচাপ ফ্লোরে শুয়ে পড়লো। কেমন যেনো একটা খারাপ লাগা কাজ করলো। রাত প্রায় ৩টা বাজে তখন ঘুম আসছিলো না। হঠাৎ শুনতে পাই হাল্কা কান্নার শব্দ। বুঝতে বাকি রইলো না সে কাঁদছে। তখন প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। পুরুষ হয়ে আবার নেকা কান্না কাঁদবে কেন। জিজ্ঞেস করলাম সমস্যা কি দেখি একদম চুপ হয়ে গেছে। আবার জিজ্ঞেস করলাম উত্তর নাই। নিজেই নিচে গিয়ে সামনাসামনি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম কান্না করার কি আছে?- "আমি কখনো রিলেশন করার কথা চিন্তাও করিনাই কারণ আমি জানি আমাকে কেউ পছন্দ করবেনা। পরিবার থেকে বার বার ...

দেবী অনুসুয়া

দেবী অনুসুয়া কোটি বছর আগে, অত্রি ঋষির পত্নী অনুসুয়া সেই সময় ছিল অনেক বড় বৈজ্ঞানিক, তিনি ছিলেন সতী, মহাসতী, তার সুখ্যাতি যখন ব্রম্ভান্ড বিকশিত হচ্ছে, সেই সময় তিন দেবতা ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর ঠিক করলেন অনুসুয়া কতখানি সতী দেখা দরকার, তাঁরা অত্রি ঋষির কুটিরে গেলেন ভিক্ষুকের বেশে, যখন অত্রি ঋষি ছিলেন না, অনুসুয়াকে তাঁরা খেতে চাইলেন, অনুসুয়া তাদের খেতে দিতে অন্নব্যঞ্জন নিয়ে আসলেন, কিন্তু তাঁরা তা খেলেন না বললেন তারা তার স্তন পান করবেন, তাতে অনুসুয়া লজ্জা পেলেন বটে, কিন্তু তৎক্ষনাৎ মন পরিবর্তন করে, বললেন আসুন, তাঁদের কুটিরে থাকা একটি বেদির ওপর দাঁড়াতে বললেন, তাঁরা সেখানে দাঁড়াতেই তারা ছয় মাসের শিশুতে পরিণত হলো, কথা মত তাদের স্তন পান করালেন অনুসুয়া, সৃষ্টি থেমে রইল। সেই তিন দেবতা শিশু, তাঁরা খেলা করছে অনুসূয়ার কোলে, সময় চক্র থেমে গেছে, দিনরাত বলে কিছু নেই। যাঁরা ব্রম্ভাণ্ড শাসন করে, তারাই যে আজ শিশু। ঘূর্ণন থেমে গেছে, সূর্য থেমে গেছে, সৃষ্টি থেমে গেছে, বায়ু থেমে গেছে। এদিকে তিন স্ত্রী তিনজন দেবতার খোঁজ পেয়ে সতী অনুসুয়ার কাছে উপস্থিত হলেন, সেখানে তাদের শিশু অবস্থা দেখে দেবী অ...

বদল

বদল দেবপ্রসাদ জানা বদলে যাচ্ছে সব,  লজ্জাহীন হচ্ছে পৃথিবী, উলঙ্গ হচ্ছে সব। তাদের কাপড়ে ঢাকা দেহ বড় হচ্ছে  অল্প অল্প করে ছিনিয়ে নিচ্ছে পৃথিবীর গায়ের আবরণ সবুজ মাঠ হলুদ হচ্ছে, অবলা প্রাণী শূন্য হচ্ছে,  পৃথিবীর সৌন্দর্য্য নারী, তারও আবরণে স্বল্পতা  হাত পা পেট উন্মুক্ত, মেকি আস্তরণ মুখমণ্ডলে  অসুস্থ হচ্ছে পৃথিবী,  ওষুধ চাই  সময়ের চেয়ে বড় কোন ওষুধ পৃথিবীতে নেই।  ক্ষত, ব্যথা, অভিমান, অভিশাপ, রাগ নি:সঙ্গতা সব সময়ের সাথে মিলিয়ে যাবে।

অখণ্ড উৎসব

অখণ্ড উৎসব দেবপ্রসাদ জানা  গভীর ঘুমেও বেঁচে থাকে মন দেশে যখন চলছে খরা ভাতের থালা যখন শূন্য  জলে, ভরা পেটে বাচ্চা নিয়ে মাছের  প্রসব বেদনায় আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নএ কাটছে গভীর রাত। বেদনার ভিড়ে সময় হাতড়াই  হাতড়াই ফেলে আসা ক্লান্ত সময়  পেছন ফিরে তাকিয়ে থাকি - সব যেন নদী, শুধু স্রোত সেই বটতলার মাঠে কারো পায়ের শব্দ নেই। নির্জন বিকেলে শিশির জমে, ডুবে যায় ঝরে পড়া দুপাশের কাশফুল  শিউলি ফুলের গায়ে অজানা রোগ বড়ো মায়া লাগে গোধূলির আলোয়,  অপরাধী মনে হয়, ঘাসের ওপর পড়ে  মরে শিউলি দলিতের মৃত্যু !  শোষকের হাত ভেঙে, গুড়িয়ে দিতে চায় মন । অরণ্যের সম্পর্ক চারদিকে  হিংসা বিদ্বেষ খুন জখম রাহাজানি  প্রতিদিন বিভক্ত মানুষ।  নিহত মানবিকতা  উপেক্ষা বুকে নিয়ে, বাঁচে জীবন -  তবু সংগ্রাম বাঁচার লড়াই রক্তে ও মজ্জায় 

ফোন

ফোন নবেন্দুর নতুন কেনা ফোনটা বেজে উঠলো,  - হ্যালো  ওপারে একটা মহিলার গলা,  হ্যালো আমি কি নবেন্দুর সঙ্গে কথা বলছি? - হ্যাঁ বলছি। - আমি রিনা বলছি। - কে রিনা ?  - ভুলে গেলে আমাকে ? - রিনা বলে কাউকে আমি চিনি, এমন মনে পড়ছে না। একটা রেফারেন্স দিন, তবেই তো চিনব। - কি অদ্ভুত তাই না নবেন্দু? ভালোবাসার এই প্রতিদান। - আচ্ছা মুস্কিল তো! মনে পড়ছে না, কে রিনা। - রিনা বলে কত জনের সঙ্গে তোমার প্রেম ছিল? - প্রেম! - হ্যাঁ প্রেম, আমি তখন সবে নাইন, তুমি বারো তে। পড়ানোর নাম করে, আমাকে - - কে বলোতো তুমি? কেন আমাকে এই পঁয়তাল্লিশএ - আমার বউ বাচ্চা রয়েছে, কি চাও তুমি? - এই তুমি আমাকে চিনেছ। আপনি থেকে তুমিতে নেমেছ। - তুমি বললেই কি চিনেছি? সত্যিই আমার তোমাকে মনে পড়ছে না।  -  মনে পড়বে কি করে? প্রেম তো তোমার কম হয়নি? প্রেম তো নয়, শুধু শরীর, কচি কচি মেয়েদের শরীরটাই সব তোমার কাছে, একবার তাকে খাওয়া হলে ব্যস প্রেম শেষ, আমাকেও তুমি শেষ করেছো এই ভাবেই, সেই রাতের পর তুমি আর ঘুরে তাকাও নি আমার দিকে, বন্ধুর বাড়ি ঘুরতে এসে, তার বোনকে এই ভাবে, তোমার জন্যে আমার কত অপমান সহ্য করতে হয়েছ...

রাধা

রাধা দেবপ্রসাদ রাজা বিশ্বভানু রানি কীর্তির কোনো সন্তান নাই। ভারি কষ্ট মনে, প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন সন্তানের জন্য, কিন্তু ঈশ্বর তার কথা শোনেন না। একদিন রানি কীর্তি যমুনায় স্নান করতে যান, দেখেন একটি পদ্ম ফুল স্রোতের বিপরীতে আসছে তার ভেতর দিয়ে আলোর জ্যোতি বেরোচ্ছে, রানি ফুলের কাছে গেলেন, আলোয় আলোকিত হলো সেই ভোর সূর্যদেব নদীর বুক থেকে উঠে এলেন, ফুলের পাপড়ি খুলে গেলো, ভেতরে এক ছোট্ট কন্যা শিশু যেন সেই আলোর সাথে খেলা করছে, রানি দেখে প্রফুল্লিত হলেন, হাতে তুলে নিলেন সেই কন্যাকে, আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছুটলেন রাজবাড়ীর দিকে, রাজা বিশ্বভানুকে সব বললেন, শুনে রাজা বললেন আমাদের প্রার্থনা ঈশ্বর শুনেছেন, আমাদের ঘরে লক্ষী এসেছে, সকলে আনন্দ করতে লাগলেন, রাজ পুরোহিত এলেন ভাগ্য গণনা হলো, কিন্তু একি হলো শিশু যে চোখ খুলছে না, রাজ বৈদ্য এলেন, অনেক চেষ্টা করেও কন্যার চোখ খুললো না, রাজা বললেন থাক এই শিশু আমার কন্যা তা যাই হোক, নাম রাখলেন রাধা, ধীরে ধীরে মাস গেলো, এক দুই করে এগারো মাস কেটে গেলো তবু কন্যা চোখ খুললো না। ওদিকে মথুরার কংশ, এক এক করে বোনের বাচ্চাদের মেরে ফেলতে লাগলো, কারণ বন্ধু বসুদ...

সম্পাদকীয়

'হাতে পায়ে শৃঙ্খলিত বিষণ্ণ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে সব। ভাত হীন ভাতের থালা হাতে অর্ধনগ্ন মেয়েটা কে দেখে চালের দোকানের পশুটার  লালসার জিব বেরিয়ে পড়েছে বারো হাত।  বঞ্চনার সাথে জড়িয়ে উদ্বাত্ম জীবনে একান্ত বেদনাবোধ মধ্যবিত্তের সংকট, খুব বাস্তব আত্মিক বিচ্ছিন্নতা, 'যে জীবন মানুষের সাথে সমস্যাদীর্ণ আর্থিক ছবি পরিস্ফুট। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে সহায় সম্বলহীন মানুষের মর্মস্পর্শী বৃত্তান্ত সন্নিবিষ্ট হয়েছে ' অঙ্গীকার' এর নিজস্ব অনুভবে। বেঁচে থাকার চাবি হারানো মানুষের দুঃসহ জীবনযাপন, অস্বচ্ছলতার প্রশ্নও এসেছে অবধারিতভাবে আত্মসংলগ্ন ভূমির জন্য মানুষের অন্তর্গত মায়াটান অপ্রতিরোধ্য। এর বাইরে ডাল-ভাত রুটি-রুজির জীবনে যে প্রভাব যে সংকট ঘনীভূত হয়েছিল তাও প্রতীয়মান হয়েছে ছত্রে ছত্রে। দেশতো শুধুমাত্র সম্প্রদায়গত বিভাজন নয়, মানুষের স্বাধীনতা এবং মানবিক চেতনারও বিভাজন। আমরা সেই সময়ের ছবি ইতিহাসের পাতায় সেভাবে পাব না। যতখানি দেখতে পাব সাহিত্যের আলোয় আমাদের 'অঙ্গীকার' এ নিরাভরণ দীপ্তিতে। চলছে সত্যকে আড়াল করার নির্মম প্রয়াস। ফলে মানবিক বিষয়গুলি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয় জানে আসল...

ফটো

১৮২৬ সালে নিজের ছাদ থেকে একটা ফোটো তুলতে নিপসের লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। ভাবা যায়!!  তার কিছুদিন পরে, ১৮৩৯ সাল। ফিলাডেলফিয়ার অ্যামেচার রসায়নবিদ তথা ফটোগ্রাফার রবার্ট কর্নেলিয়াস নিজের বাড়ির মুদি দোকানের পিছনে একটা ক্যামেরা বসিয়ে, তার ঢাকনা খুলে ছবি তোলার প্ল্যান করলেন। কিন্তু কি মুশকিল! সে সময় বাড়িতে কেউ নেই। অগত্যা ঢাকনা খুলেই ক্যামেরার সামনে ঠায় এক মিনিট পাথরের মতো বসে থাকলেন তিনি। তারপর লেন্স বন্ধ করে ছবি ডেভেলপ করে দেখলেন দিব্যি এসেছে তার ছবি। দাগেরোটাইপ সেই ছবির পিছনে তিনি লিখলেন “The first light Picture ever taken. 1839.” পৃথিবীর প্রথম সেলফি।  এই দাগেরোটাইপ ছবির আবিষ্কার করেন ফরাসি দেশের জে এম দেগারে। এই পদ্ধতিতে রুপোর প্রলেপ দেওয়া পাতের উপর ছবি তোলা হত। তাই রুপো খসে গেলে ছবিও নষ্ট হয়ে যেত। ক্যালোটাইপ পদ্ধতির আবিষ্কারক ট্যালবটের সে সমস্যা ছিল না। তাঁর নেগেটিভ থেকে ইচ্ছেমতো পজিটিভ বানানো যেত। তখন ছবি তোলা রীতিমতো এক ঘটনা ছিল। একটুও নড়লেই ছবি খারাপ হয়ে যাবে। তাই স্ট্যান্ড থাকত, যাতে গলা মাথা সব আটকে ছবি তোলা হত। এক একটা ছবি তুলতে আধ ঘণ্টা লাগত। বাংলায় ছবি তোলার প্রচলন মোটাম...

সম্মাননা

অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা  তুলসী জানা স্মৃতি পুরষ্কার ২০২৫ প্রাপক: কবি   হে সাহিত্য সাধক "এ জীবন দান যাঁর  তাঁরে খুঁজি বারবার" ওই বুঝি তাঁর শান্ত পদ ধ্বনি বাজে। সাহিত্য যাঁর হৃদয়ে বসত করত দিবানিশি, বই যাঁর প্রাণ, জীবনের শেষ দিনটিতেও সঙ্গী ছিল মলাট বন্দী অমৃতের ভান্ডার, সেই সাহিত্য পিপাসু তুলসী জানা মহাশয়া, উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা অঞ্চলের এক উজ্জ্বল নাম।  বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে আপনার দৃপ্ত বিচরণ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আপনার কাব্যশৈলীর সৃজনশীলতার সেবাধর্ম  আমাদের ঋদ্ধ করে। 'অঙ্কুরীশা শারদ সংখ্যা২০২৫ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই পঞ্চম বর্ষে  আপনার অক্ষর সেবা সাধনাকে আমরা সম্মান জানাই। আপনার অসামান্য কলমদক্ষতার হাত ধরে বাংলা সাহিত্য এগিয়ে যাবে, এই  দৃঢ় প্রত্যয় রেখে আপনার এই সৃজনশীল হাতে তুলে দিলাম সেই সাহিত্য প্রেমীর নামাঙ্কিত এই পুরষ্কার।  সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে আপনার দায়বদ্ধতা এবং একাগ্রতার স্বীকৃতিকে সম্মান জানাতে পেরে  আমরা খুশি। আপনার সুস্থতা এবং দীর্ঘ কলমজীবন কামনা করি। অভিনন্দন সহ- বিদ্যুৎ দাস  দেবপ্রসাদ জানা  ...

হেম চন্দ্র কানুগো জাতীয় পতাকার জনক

তিনি বাংলার প্রথম বোমার কারিগর, ভারতের প্রথম পতাকা এঁকেছিলেন তিনিই, কিন্তু আজ সেই মানুষটাই ইতিহাসে উপেক্ষিত। বিস্মৃতি সরিয়ে ফিরে দেখা ❝অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য❞ হেমচন্দ্র কানুনগো.. ত্রিবর্ন রঞ্জিত পতাকা, গেরুয়া, সাদা, সবুজ। ভারতের জাতীয় পতাকা। কিন্তু এই ত্রিবর্ণ পতাকার প্রথম রূপ দিয়েছিলেন এক বাঙালি। কে মনে রেখেছেন হেমচন্দ্র কানুনগো কে? কেউ না। কেউ জানলই না মানুষটাকে। আসল নাম হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। বিপ্লবী ভারতবর্ষের প্রথম জাতীয় পতাকার স্কেচ তৈরি করেন বিদেশের মাটি থেকে। সালটা ১৯০৭।জার্মানির স্টুয়ার্টগার্টে সেই পতাকা তুলে ধরেছিলেন ভিকাজী রুস্তম মাদাম কামা,একজন ভারতপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামী পার্সি মহিলা। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে বিশ্ব সোশালিস্ট কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয় তাতে মাদাম ভিকাজি কামার সাথে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। হেমচন্দ্র চিত্রশিল্পী ছিলেন বলে, কথিত আছে মাদাম কামার অনুরোধে লাল,গেরুয়া ও সবুজ রঙের তেরঙ্গা পতাকা তৈরি করেন এবং ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট প্রবাসী ভারতীয়দের সম্মেলনে মাদাম কামা সেই পতাকা উত্তোলন করে সারা বিশ্বে নজর কাড়েন। পতাকার মধ্যেও ছিল বি...

রামকৃষ্ণ

দক্ষিণেশ্বর সভায় শ্রীরামকৃষ্ণদেব তাঁকে ‘হেডমাস্টার’, ‘ইংলিশম্যান’ ইত্যাদি নানা নামে পরিচয় করিয়ে দিতেন। কখনও তাঁকে বলতেন, ‘মাস্টার’। উপেক্ষিত ও বিলম্বিত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের খরচেই ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’ ছেপেছিলেন মাস্টারমশাই                  ✍️শংকর জমিদার, আইসিএস জজ, বিসিএস মুনশেফ সায়েব, উকিল, ব্যারিস্টার, ডাক্তার— কারা ভারতীয় মধ্যবিত্তের মুখ রক্ষা করলেন মানবসেবায়, এর উত্তর দিতে গেলে মনে পড়ে যায় এই শ্রেষ্ঠ সম্মান যাঁরা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের নাম মাস্টারমশায়। এই শিক্ষকেরাই জাতীয় জীবনের নানা পর্যায়ে মধ্যবিত্ত ভারতীয়ের নিরন্তর সেবা করেছেন। এঁদের কেউ ‘মাস্টারদা’ নামে শাসকের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে ফাঁসির মঞ্চে আরোহণ করেছেন, কেউ মন্দিরের অখ্যাত পুরোহিতের বাক্যসুধার দিনলিপি লিখে তাঁকে বিশ্ববন্দিত করেছেন, সেই সঙ্গে বিদেশিনি দিদি নিবেদিতা ও বিদেশিনি এন্টালির দিদিমণি মাদার টেরেজাকে যদি ধরেন, তা হলে মানতেই হবে, এঁরাই আমাদের মুকুটমণি। উৎসাহীরা এই তালিকায় যোগ করে দেন আর একজন মাস্টারকে, যাঁকে স্বয়ং বিদ্যাসাগর পদত্যাগপত্র পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন। এই ...

7

অসলার সেই পরিস্থিতিটা বদলে দিলেন। তিনি ফুলের ব্যবস্থা করার থেকে শুরু করে হাসপাতালের দেওয়ালের রং হালকা আভাযুক্ত রঙে পরিবর্তিত করলেন। এবার তিনি রোগীদের দিকে ফিরলেন। তিনি তাদের খুব কম ওষুধ  দিতেন। কিন্তু প্রবল ভাবে আশাবাদী আশ্বাসের কথা বলতেন ।  যেটাতে মানসিক চাপ মুক্ত করত।এই সাইকোসোমাটিক চিকিৎসার ( এই সংজ্ঞা বর্তমানে বলা   হয়, সেসময়ে বই সংজ্ঞা কেউ কল্পনা করতে পারেনি।) ওষুধ দিতেন। তিনি একবার লিখেছিলেন লর্ডস বয়ং স্টে অ্যানে ডি বিউ প্রেতে, এই অলৌকিক পরিস্থিতি সত্যিই নির্ণায়ক ভাবে বাস্তবে পরিণত হয়। আমরা চিকিৎসকেরা একই ক্ষমতা বা শক্তি প্রতিদিন ব্যবহার করতাম। তা মৃতদের জাগিয়ে তুলতে পারত না, তা কোন নতুন চক্ষু বসিয়ে দিত না, বা একটা ভাঙ্গা হাড় কে জুড়ে দিত না। কিন্তু সুস্থ হয়ে ওঠার বিশ্বাস ও সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে তা পরিস্থিতি বিশেষে গুরুত্ব পূর্ণ হয়ে উঠত। মোস্ট্রেলের এক ডাক্তার তাঁর স্মৃতির কারণে বলেছিলেন, ম্যাকগিল এর চিরস্থায়ী দুরারোগ্য রোগীদের শয্যা খালি হতে শুরু করে, দুর্ঘটনার পরিবর্তে সুস্থ হয়। নতুন রোগীরাও অল্প সময়ে সুস্থ হয়। এই ধরণের শক্তিশালী চিকিৎসার নিদর্শ...

রক্ত

রক্ত দেবপ্রসাদ জানা আমি যখন জন্মেছিলাম- আমার একটা যমজ ভাই  আমার সঙ্গেই জন্মেছিল, যদিও  তাকে আমি দেখিনি কোনোদিন আমার বাবা বা আমার মা তাকে কোনোদিন প্রতিপালন করেনি, তাই বরাবর সে আমার ওপর আক্রোশ দেখিয়েছে, আমি তাকে চিৎকার করতে দেখেছি, আমি আমার রক্ত কে তার সামনে দুর্বল হতে দেখেছি - কাঁদতে দেখেছি!  চিৎকার করতে দেখেছি!  সে মহাক্রোশে আমার ওপর ঝাঁপ দিয়ে পড়েছে  দেহের প্রতিটা পাঁজরের তার হাহাকার দেখেছি..... দিন রাত্রির নিদারুণ রসিকতা দেখেছি! হাসপাতালে, পথে, ছাদের কার্নিশে- তোমাদের মিথ্যা সহানুভূতিও দেখেছি!  কতবার পড়েছি, ভেঙেছি, টুকরো হয়েছি - তবুও নিজের জন্য হারিনি!  হারিনি, আমি দম বন্ধ হওয়া পৃথিবীতে। লড়াই করেছি তার সাথে,  তার ক্ষতি কোনোদিন করিনি, করতে পারিনি। আমি জানি সে একদিন আমাকে হারিয়ে  শ্রেষ্ঠ হবে, জিতে নেবে সব। আমি তোমাদের মিথ্যা  সহানুভূতির কাছে- মিথ্যা ফাঁদের জালে - আজো আমি ছুটছি, লড়ছি,  স্বপ্ন দেখছি......বাঁচার স্বপ্ন, বেঁচে জেতার স্বপ্ন, হাহাকারহীন এক মুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন....! সে স্বপ্ন দেখে না, ক্ষিদে তৃষ্ণা তার নেই,  স...

নারী ও শেক্স

মেয়েদের যোনি পথের ২ থেকে ৩ ইঞ্চি গভীরে নারীদের জি -স্পট এর অস্তিত্ব। লিঙ্গ ছোট ও বড় এখানে কোন সমস্যাই নয়।মুলত এই স্পট ঘিরেই নারীদের পূর্ণ উত্তেজনা। যৌনতা কোন পাপ নয় , এটা একটি শারীরিক উত্তেজনা মাত্র। মনের ক্ষুধা, পেটের ক্ষুধা ও শরীরের ক্ষুধা এক হয়ে মিলিত হয় যৌন ক্ষুধায়। নারীর শরীরের এই জি - স্পটের আবিষ্কারক হচ্ছেন নারী চিকিৎসক গ্রাফেনবার্গ। নারীর যোনির ভেতরে দুই থেকে তিন ইঞ্চি গভীরের এই অংশ থেকেই নারীর কামরস নির্গত হয়।গ্রাফেনবার্গ আরও বলেছেন, রাত ১১ টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত নারীর এই জি - স্পট সবচেয়ে বেশি উত্তেজক অবস্থায় থাকে।ওই জায়গার স্পর্শ পায় একমাত্র হাতের আঙ্গুল। নারীর এই জি - স্পটকে নিউরোলোজিস্টরা নারীদের সুখানুভূতির অনন্য কারণ বলেছেন।এই জি স্পটের সন্ধান পেলে আপনিই হবেন সেই নারীর ক্যাসানোভা ও ডন জুয়ান। জি - স্পট এর অস্তিত্ব ও নারীর বীর্যপাতের প্রমাণ না মিললেও ১৯৪০ সাল থেকেই এই জি স্পট নিয়ে গবেষণা করছে যৌন বিজ্ঞানীরা। মহিলাদের উত্তেজনার জন্য সাধারণ ক্লিটোরাল উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়।ক্লিটোরাল স্টিম্যুলেশন নারীদের ভগাঙ্কুরের মুখে ঘর্ষণ ও ভেতরের ঘর্ষণ থেকেও হতে পারে। নারী...

শর্মিষ্ঠা নাটক

শর্মিষ্ঠা নাটক প্রথমাঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক হিমালয় পর্বত- দূরে ইন্দ্রপুরী অমরাবতী (দুইজন দৈত্য  যুদ্ধবেশে।) দৈত্য-১।  বলশালী দৈত্যরাজ পর্ব্বতপ্রদেশে তাঁর আদেশানুসারে ইন্দ্রপুরী দ্বারে  বাস কচ্যি বহুদিন গুপ্তচর বেশে । দিবারাত্র চোখ রাখি দেবতা নগরে। দৈত্য -২। ক্ষণকাল স্বচ্ছন্দে না থাকি, ভয়ে ভয়ে। দেবতারা যে কখন, কি করে, হঠাৎ। সহসা যদি নির্গত হয়, সৈন্য লয়ে। সংবাদ তার দিতে হবে তৎক্ষণাৎ। দৈত্য -১।  দৈত্যভূমি যে নিতান্ত রম্য রমণীয়। স্থানে স্থানে তরুশাখা বিহঙ্গমগণ । মধু-স্বরে গান করে; হই পুলকীয়। বিবিধ বনকুসুম বিকশিত বন। দৈত্য -২। শুধুই কি এই? আছে পুষ্প পারিজাত। মৃদু মন্দ পুষ্প ঘ্রাণ, পবন সঞ্চার। মধুর মধুর সুরে, কেটে যায় রাত। সঙ্গীত কর্ণকুহরে, শীতল বিহার। দৈত্য -১। কোথাও ভীষণ হিম হিংস্র সিংহ-নাদ,  কোথা ব্যাঘ্র মহিষাদি, ভয়ঙ্কর শব্দ,  পর্বতনিঃসৃতা নদী, প্রস্তরে বিবাদ। উচ্ছ্বাস ধ্বনি বাতাস করিতেছে জব্দ। দৈত্য -২। কি আশ্চর্য্য! এ স্থানের গুণে অবনত। স্বর্গের সুখে স্বজন, মুক্ত পরিবেশে। তবু কেন পাহারায়, থাকি অবিরত। অহো! কার কার যেন পদশব্দ ভাসে। দৈত্য -১। হ্যাঁ তাই তো কার...

মেরুদণ্ড

মেরুদণ্ডটা যদি তোমার স্পর্শে- খাড়া হয়ে ঝলসে ওঠে, শিল্প যাক, শিক্ষা যাক, চাকরি যদি যায় যাক। তৃণের মূল এখন বহু গভীরে  আমি মৃত্যুবরণের অঙ্গীকারে বদ্ধ হলাম,  এখন আমি দেখতে পাচ্ছি। বধ্য সবার এখন আমি মরণজয়ী তাইতো স্বাধীন ইচ্ছে দিয়ে আকাশটাকে সাজিয়ে নিলাম নষ্ট তারা ঝেড়ে ঝুড়ে নতুন তারার দীপান্বিতায় ঘুম্স্তা ঘুমায় নিশুতরাতের দরজা ভেঙে বাইরে এলাম এখন আমার সকাল হলো। পাথর চাপা আত্মাগুলো স্মৃতিস্তম্ভ শহীদ বেদীর বারণ ভেঙে স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণে আগুন ছড়ায় বলিভিয়ায় ভারতবর্ষে পাকিস্থানে গুয়েতেমালায় আফ্রিকাতে তোমার আগুন ছড়িয়ে দিয়ে ব্রিজ বেঁধে যাই ভাইয়ের চোখে বোনের চোখে আলোকিত চোখ রেখেছি ভালোবাসার মন্ত্র কাঁপে চোখের তারায় আধার মাণিক! ঘৃণায় পাষাণ স্মৃতির দিঘি-ঘটছে দ্রুত হাওয়ার বদল শব্দে ফোটে রক্ত কমল: ভালোবাসাই তোমার ভাষা! তোমার ভাষা কণ্ঠ জুড়ে গানের মতন শক্তিশালী এখন আমি মাইকোভস্কি এখন আমি পল রোবসন এখন আমার অনন্তকাল আকাশ জুড়ে উদ্ভাসিত। লেনিন সামনে দাড়িত পেছ তাড় বুঝে হী মল

রবীন্দ্র নজরুল

:- কে, নজরুল? বোসো। কখন এলে? - এই তো। স্তিমিত কন্ঠে বললেন নজরুল। :- তা গলাটা এরকম শোনাচ্ছে কেন? (রবীন্দ্রনাথ ঈষৎ বিস্মিত। নজরুল খুবই হুল্লোড়বাজ রগুড়ে মানুষ। আজ তো গলা শোনাই যাচ্ছে না!) কী ব্যাপার, কারোর শরীর-টরীর খারাপ নাকি! - আমার ছেলেটা কাল চলে গেল, গুরুদেব। ফুঁপিয়ে উঠলেন কাজী নজরুল। :- সে কী! চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ। ঊনসত্তর বছর বয়স তাঁর। এখন কি শুধু খারাপ খবর পাওয়ার জন্যেই বেঁচে থাকা? রবীন্দ্রনাথ মাঝে-মাঝেই একথা ভাবেন। চিকিৎসাশাস্ত্র একেবারেই অনুন্নত। বাঙালী পুরুষের গড় আয়ু মেরেকেটে চল্লিশ। নিজের অদ্ভুত ভালো স্বাস্থ্যের জন্য নিজেরই বিড়ম্বনা লাগে। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী হয়েছিল? - বসন্ত। স্মল পক্স। :- কত বয়স হয়েছিল। তিন, না? - চার। আবার দীর্ঘক্ষণের নীরবতা। বাঙালীর দুই প্রাণের কবি। শব্দের দুই জাদুকর। আজ দুজনেই নীরব। একটু পরে রবীন্দ্রনাথই আবার নীরবতা ভাঙলেন, তোমার ছেলেটি বড় গুণের ছিল শুনেছিলাম। কী যেন নাম রেখেছিলে? - ভালো নাম অরিন্দম খালিদ। সবাই ডাকতাম বুলবুল বলে। :- হ্যাঁ, বুলবুল, বুলবুল। নিজের মনেই দুবার নামটা আওড়ালেন রবীন্দ্রনাথ। শুনেছিলাম তার নাকি অদ্ভুত স্মৃতিশ...