রাধা
রাধা
দেবপ্রসাদ
ওদিকে মথুরার কংশ, এক এক করে বোনের বাচ্চাদের মেরে ফেলতে লাগলো, কারণ বন্ধু বসুদেবের সঙ্গে বোন দেবকীর কত আনন্দ করে বিয়ে দিলেন, কিন্তু বোন দেবকীকে নিয়ে বসুদেবের ঘরে পৌঁছে দেবার সময় আকাশবানী হলো, দেবকীর অষ্টম গর্ভে যে সন্তান হবে, সেই তার মৃত্যুর কারণ হবে, কংশ রেগে ভয় পেয়ে দেবকী সহ বসুদেবকে বন্দী করলেন, দেবকীর অষ্টম গর্ভ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, যে সন্তান হলো তাকেই আছাড় মেরে হত্যা করলেন, কিন্তু অষ্টম গর্ভে তো ভগবান কৃষ্ণ জন্ম নিলেন, আকাশে মেঘ জমলো, উঠলো ঝড়, অন্ধকার হলো, ঘোর অন্ধকার, আর মুষল ধারে বৃষ্টি, উত্তাল হলো নদী, ভেঙে পড়ল গাছ, অস্থির হলো পৃথিবী, কারাগারের দরজা খুলে গেলো, আকাশবাণী হলো, কৃষ্ণকে গোকুলে রেখে আসার, সেখানে মা যশোদার কোলে একটি শিশু আছে, শিশুটি কে নিয়ে, কৃষ্ণকে সেখানে রেখে আসতে, কথা মতো কাজ হলো, নদী পথ করে দিলো, পঞ্চমূখী নাগ ছত্র হয়ে বৃষ্টির থেকে বাঁচলেন, ঘুমন্ত নগর, ঘুমন্ত কাকপক্ষী, গাছপালা সব, দেবকীর কোল থেকে কৃষ্ণ এলেন, যশোদার কোল আলো করে, ভোর হলো, ভগবানের শিশু রূপ দেখতে সূর্য ও আজ শীঘ্র উঠে পড়েছেন, আনন্দে নন্দ সকলকে আমন্ত্রণ করলেন, রাজা বিশ্বভাণু ও তার অর্ধাঙ্গিনী এলেন শিশু রাধাকে কোলে করে, পূজা হলো নারায়ণের, কত লোক যে খেলো, গান বাজনা উৎসব, চারিদিক ঝলমল করছে, কিন্তু রানি কীর্তির কোলে রাধা কিছুতেই থাকতে চাইছে না, সবে মাত্র এগার মাস, চোখ সে খোলেনি, সেই অবস্থাতেই দোলনায় রাখা কৃষ্ণের সামনে হাজির হলে, চোখ খুলে গেলো, কি অদ্ভুত, চোখ খুলে তিনি পৃথিবীতে প্রথম কৃষ্ণ কেই দেখলেন, তাদের মিলনক্ষন, কৃষ্ণকে কত অভিযোগ করলে, যেন বলছেন এত দেরি কেন প্রভু, আমি যে অপেক্ষায় ছিলাম তুমি ভুলে গেছো?
Comments
Post a Comment