সম্পাদকীয়
'হাতে পায়ে শৃঙ্খলিত বিষণ্ণ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে সব। ভাত হীন ভাতের থালা হাতে অর্ধনগ্ন মেয়েটা কে দেখে চালের দোকানের পশুটার লালসার জিব বেরিয়ে পড়েছে বারো হাত।
বঞ্চনার সাথে জড়িয়ে উদ্বাত্ম জীবনে একান্ত বেদনাবোধ মধ্যবিত্তের সংকট, খুব বাস্তব আত্মিক বিচ্ছিন্নতা, 'যে জীবন মানুষের সাথে সমস্যাদীর্ণ আর্থিক ছবি পরিস্ফুট। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে সহায় সম্বলহীন মানুষের মর্মস্পর্শী বৃত্তান্ত সন্নিবিষ্ট হয়েছে ' অঙ্গীকার' এর নিজস্ব অনুভবে। বেঁচে থাকার চাবি হারানো মানুষের দুঃসহ জীবনযাপন, অস্বচ্ছলতার প্রশ্নও এসেছে অবধারিতভাবে আত্মসংলগ্ন ভূমির জন্য মানুষের অন্তর্গত মায়াটান অপ্রতিরোধ্য। এর বাইরে ডাল-ভাত রুটি-রুজির জীবনে যে প্রভাব যে সংকট ঘনীভূত হয়েছিল তাও প্রতীয়মান হয়েছে ছত্রে ছত্রে। দেশতো শুধুমাত্র সম্প্রদায়গত বিভাজন নয়, মানুষের স্বাধীনতা এবং মানবিক চেতনারও বিভাজন। আমরা সেই সময়ের ছবি ইতিহাসের পাতায় সেভাবে পাব না। যতখানি দেখতে পাব সাহিত্যের আলোয় আমাদের 'অঙ্গীকার' এ নিরাভরণ দীপ্তিতে। চলছে সত্যকে আড়াল করার নির্মম প্রয়াস। ফলে মানবিক বিষয়গুলি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয় জানে আসল সত্য। সেখানে রক্তের অক্ষরে লেখা থাকে প্রকৃত ইতিহাস। বাংলা গল্প উপন্যাস এবং এই গল্পে আমরা সেই সময়ের প্রকৃত প্রতিবিম্ব দেখার চেষ্টা করবো। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার রঙে তা যতখানি বৈচিত্র্যময় তার চেয়েও অনেক বেশি নগ্ন বাস্তব। আত্মজৈবনিক কবিতায় কবিতায় আমরা দেখতে পাই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
'আমার মা মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, 'প্রতিটি মলাটের ভেতরে অমৃত আছে, গরল বিহীন এই অমৃত যত পান করবে তুমি অমর হয়ে যাবে। অঙ্গীকার তার উপস্থিতে জন্ম নিয়ে ছিল আমার বাড়ির চিলেকোঠায়, আজ অঙ্গীকার কথা বলতে শিখে গেছে, ছয় বছর তাকে আমরা লালন পালন করছি,
এই স্বপ্ন নিয়ে, যে অঙ্গীকার এর ভেতরে এত অমৃত জমা করেছি আমরা তিলে তিলে টা পান করে একদিন অমর হয়ে যাবো।
বাস্তবের ধূলিধূসর আর নির্মম রুক্ষতায় ভরা সময়ের প্রতিচ্ছবি উগরে দিয়েছে অঙ্গীকারের শব্দগুলি। গভীর তাৎপর্য নিয়ে এসেছে বিভিন্ন কবিতায়।
গভীর এক টান থাকে স্বদেশের প্রতি। মর্মে মর্মে উচ্চারিত হয় সেই মায়া-সুর। শব্দগুচ্ছ এক প্রাগভীর দ্যোতনায় বেজে ওঠে। লোকজগতের কাঁটাতার পেরিয়ে অমৃতময় ভূখণ্ডে ফিরে যায় নির্বাসিত মানুষ। শিকড়বিচ্যুত মানুষের যন্ত্রণাকে ঐশী অনুভবে রঞ্জিত করেছে অঙ্গীকার।
কিশোর অঙ্গীকার নিয়ে আসবে দুরন্ত উন্মাদনার মুহূর্ত। সেখানে মানবিকতার স্পর্শ আলোর রেখা হয়ে আসবে। নিস্তব্ধতার মধ্যে বেদনার্ত মন দোলায়িত হবে শত টুকরো হয়ে যাওয়া সোনালি পিরিচের জন্য।
সকল পাঠক পাঠিকার সাধের অঙ্গীকার ভালোবাসায় ভরে উঠুক।
Comments
Post a Comment