Posts

Showing posts from November, 2025

বারবারিক

মহাভারতের এক জীবন্ত চরিত্র "বারবারিক" কাহিনি- 💠 মহাভারতের এক অন্যতম শক্তিশালী এবং উপেক্ষিত চরিত্র হলেন বারবারিক। ভীমের পৌত্র এবং ঘটোৎকচের পুত্র বারবারিককে মহাভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধাদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও তিনি সরাসরি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নেননি, তবে তার কাহিনী যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 🌿🌿বারবারিকের পরিচয়🌿🌿 বারবারিক ছিলেন ঘটোৎকচ এবং মৌরবী বা আহিলাবতী'র পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং বীর যোদ্ধা ছিলেন। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে যুদ্ধবিদ্যা শেখেন। তপস্যা করে শিবের কাছ থেকে তিনি তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেন। এই তিনটি বাণের সাহায্যে তিনি একাই যেকোনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতেন। এই বাণগুলো এমন ছিল যে, প্রথম বাণ দিয়ে তিনি যাদের ধ্বংস করতে চান তাদের চিহ্নিত করতে পারতেন, দ্বিতীয় বাণ দিয়ে যাদের রক্ষা করতে চান তাদের চিহ্নিত করতেন, এবং তৃতীয় বাণটি দিয়ে চিহ্নিত করা সমস্ত শত্রুদের ধ্বংস করে আবার তার তূণীরে ফিরে আসতো। 🌿🌿কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বারবারিক🌿🌿 কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন বারবারিক যুদ্ধ দেখতে আসেন। তার মা-কে তিনি প্রতিশ্...

হোমিওপ্যাথি

🎍অ্যাপিস মেল মৌমাছির নির্যাস থেকে প্রস্তুত এক অমূল্য হোমিও ঔষধ সম্পর্কে জেনে রাখুন~ 🐝 Apis Mellifica (অ্যাপিস মেল) 📚 Source: The Honey Bee ⚕️ Nature: Acute, inflammatory, edematous & allergic conditions --- 🌿 ১–১০ : Skin & Swelling (চামড়া ও ফুলে যাওয়া) 1️⃣ ত্বকে হঠাৎ ফোলা, চুলকানি ও জ্বালাভাব — Sudden swelling, burning & itching of skin 2️⃣ ফোলা জায়গা লালচে ও গরম — Swollen, red and hot to touch 3️⃣ ঠান্ডা লাগলে চুলকানি বেড়ে যায় — Worse from cold exposure 4️⃣ গরম লাগলে স্বস্তি পায় — Better from warmth or hot application 5️⃣ দংশন বা অ্যালার্জির পরে ফুলে যাওয়া — Swelling after insect sting or allergy 6️⃣ শরীরে হঠাৎ চুলকানো দানা — Urticaria or hives with burning pain 7️⃣ চোখ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যায় — Oedema of eyelids, lips, or face 8️⃣ গলায় ফোলাভাবে কথা বা গিলতে কষ্ট — Throat oedema causing difficulty in swallowing 9️⃣ ত্বকে পানিভর্তি ফোস্কা — Vesicular eruptions filled with watery fluid 🔟 ত্বকে জ্বালা কিন্তু স্পর্শে ব্যথা — Burning pain with extreme tenderness to touch ---...

গুরু কুল

২০২৫-এ বসে আমরা অনেকেই জানি না— ভারতকে জয়ের জন্য যুদ্ধই যথেষ্ট ছিল না। ইংরেজরা জানত— 👉 যে জাতির শিক্ষা তাদের নিজের হাতে থাকে, সেই জাতিকে হারানো যায় না। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে ভারতের গুরুকুল পরম্পরাকে ধ্বংস করে দিল। কীভাবে? --- 🔥 ১) দান ও জমি কেড়ে নেওয়া (Permanent Settlement, ১৭৯৩) গুরুকুল চলত মন্দির, মঠ, সমাজ ও জমিদারদের দানে। ইংরেজরা কর ব্যবস্থা পাল্টে দিল— মঠ-গুরুকুলের জমি বাজেয়াপ্ত, দান বন্ধ, আয় কমে গেল। অর্থ নেই → গুরুকুল টিকল না। (Reference: Studies on Permanent Settlement) --- 🔥 ২) স্থানীয় শিক্ষাকে “অকার্যকর” বলে অপমান ইংরেজ অফিসাররা লিখল— “Indian knowledge is useless.” এভাবে মানুষের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিল যে নিজেদের শিক্ষা নাকি আধুনিক নয়। (Reference: Macaulay’s Education Notes) --- 🔥 ৩) Macaulay Minute 1835 — চূড়ান্ত আঘাত থমাস ম্যাকলে ঘোষণা করল— “আমরা এমন এক শ্রেণি তৈরি করব, যারা রক্তে ভারতীয় কিন্তু ভাবনায় ইংরেজ।” সরকারি অর্থ, চাকরি, আদালত — সবকিছুতে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে দিল। গুরুকুল হলো “অকার্যকর”, আর ইংরেজি হলো “ভবিষ্যৎ”। (Reference: Macaulay Minute, 18...

স্কুটি

স্কুটি দেবপ্রসাদ জানা পাঁচদিনের ছুটি কাটিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরতেই দেখি, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বামী।  চোখে মুখে অদ্ভুত হাসি।  ভেতরে ঢুকতেই চমকে গেলাম— ছোট্ট গ্যারাজে ঝকঝকে নতুন এক গাড়ি। চোখের চাহনিতেই প্রশ্ন করতেই স্বামী গাড়ির চাবি আমার হাতে দিয়ে বললেন— "আগামীকাল থেকে কলেজে যাবে এই গাড়িতে, প্রফেসর ম্যাডাম!" আমি হতবাক!  আনন্দে কথা আটকে গেল,  শুধু বিস্মিত হয়ে বললাম— "ওহ মাই গড!" অতি উচ্ছ্বাসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলাম।  সত্যিই ওঁর উপহার দেওয়ার ধরন সবসময়ই হঠাৎ,  বিনা আড়ম্বরে।  নিজের জন্য এখনো পুরোনো ইন্ডিগো রেখেছেন,  অথচ আমার জন্য নতুন গাড়ি কিনে এনেছেন।  বিয়ের ছ’ বছরে অসংখ্য উপহার দিয়েছেন,  গুনে শেষ করা যায় না। কিন্তু গাড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ খেয়াল হল, যেখানে আমার প্রিয় স্কুটি দাঁড়িয়ে থাকার কথা,  সেই জায়গাটা ফাঁকা। আমি চমকে উঠে বললাম— "আমার স্কুটি কোথায়?" স্বামী নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন— "ওটা বিক্রি করে দিয়েছি।  এখন ওটার আর কী দরকার?  গাড়ি আছে তো।" কথাটা শুনেই বুকটা কেঁপে উঠল।  আমি চিৎকার করে...

ভয়ঙ্কর

কি ভয়ঙ্কর  দেবপ্রসাদ জানা স্কুলে স্কুলে কচি কচি বাচ্চা  আর তাদের মধ্য বয়স্ক মা । দাঁতে ছোপ পড়েছে, গালের চামড়া কুঁচকে গেছে। বেমানান কুর্তি আর পায়জামা,  বুকের সামনের বেমানান নকশা।  কতক গুলি আধা বয়সী মা, তাদের বিজ্ঞ আলাপচারিতা। এদের খুব তাড়া, তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে বাচ্চা গুলো কে। লড়াই চলছে কার আগে কে যাবে? কে কত নম্বর পেলো? তার বাচ্চা কেন পেলো না। সকালে মাস্টার  ভয়ঙ্কর এক নারী প্রজন্মের অপেক্ষায় আমরা । উচ্চ শিক্ষা, আর  জীবনে কিছু করার উদ্যম নেশা। বিয়েহীন। ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে,  এরা এমন এক সংকট তৈরী করেছে ।  আগামী কয়েক বছরে লাখ লাখ মেয়ে- অবিবাহিতা থেকে যাবে,  যৌবনের চাহিদা, আবেগ, ভালোবাসা হারাবে।  স্বামীর মন জয় করার পরিবর্তে-স্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বী। সংসারে দরকষাকষি।  আর স্বামীও তাদের আনুগত্য, কোমলত্ব, নারীত্ব  না পেয়ে অসহ্য হয়ে উঠবে আরো বেশি।  তখন সংসার টিকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।  এরা যে পুরুষে বিবর্তিত।  দেহটা নারীর বৈশিষ্ট্য হলেও, মানসিকতা পুরুষের।  স্বামী তাকে দৈহিক ভাবে নারী পেলেও  সে মেন্টাল ভাবে প...

কয়েকটি কবিতা

১ আত্মহত্যা সেই হাজার বছর ধরে অবদমনের অবসন্নতায় খুঁজেছি আত্মহননের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া। সোনালী আলোয় আলোকিত পৃথিবী  রাতে রূপালী জোছনা। আকাশ জুড়ে নীল রঙ সবুজ বাতাস  রংবেরঙের নানা জাতির ফুল, মাঠ জুড়ে সোনার ফসল,  কত রকমের পাখির কুজন। তবু রাতের জীবন্ত শিউলি  দুঃখে আত্মহত্যা করে। ভোরের আকাশ তাকে আর চায় না। আশ্চর্য?  শিউলির এই মরে যাওয়া  কেউ লক্ষ্যই করে না কোন অপরাধে আত্মহত্যা করে সে,  অন্ধকারের ভালোবাসা সহে না আর - ২ অন্তঃসত্ত্বা  চেতনায় উদ্ভাসিত হল  কাক চিল চড়ুই ইত্যাদি পাখি  গরু ভেড়া কুকুর ইত্যাদি পশু  আম জাম কাঁঠাল ইত্যদি বৃক্ষ। মানুষের মুখ মনে পড়ল না কেন? আরেকটি মৃত্যু।

বসন্ত

এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। আমি বললাম, — “তুমি চাইলে আমি তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাব।” সে অবাক হয়ে তাকাল, — “আপনি জানেন আমি কে?” — “জানি, কিন্তু তাতে কী আসে যায়? আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” সে হেসে বলল, — “আপনার মাথা ঠিক আছে? আমি তো এক পতিতা।” — “তোমার অতীত আমি মুছে ফেলতে পারবো না, কিন্তু তোমার আগামী আমি লিখতে চাই।” সে নিরব হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বলল, — “আপনি কেন এমন করছেন?” — “কারণ তোমার চোখে এখনো ভরসা আছে। সেই ভরসাটাই আমার ভালো লেগেছে।” — “কিন্তু আপনি আমাকে চিনেন না।” — “চিনবো, সময় নিয়ে। বিয়ের পরই শুরু হবে সেই চেনা।” — “আপনার পরিবার কি মানবে?” — “আমার তো পরিবারই নেই, আমি একাই।” তার চোখে জল এসে গেল। — “তাহলে কিভাবে আমাকে এখান থেকে বের করবেন?” — “ওটা আমি দেখব। শুধু বলো, তুমি কি আমার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবে?” দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে মেয়েটা বলল, — “বিশ্বাস করতে ভয় লাগে… তবুও মনে হয় আপনার কথা সত্য।” আমি বললাম, — “তাহলে চল।” তারপর আমি ওই জায়গার মালিককে টাকা দিয়ে মেয়েটিকে মুক্ত করলাম। তারপর আমরা সরাসরি কাজির অফিসে গিয়ে বিয়ে করলাম। সেই মেয়েটির নাম ছিল আয়েশা, আর আমি হাসিব। --- 🔹 ১০ বছর পর... এক সাক্ষা...

আয়না

‘ আয়না দেবপ্রসাদ জানা আয়না তুমি “কাঁদছো?” কেন কাঁদছো? কই আমি তো কাঁদছি না। তোমার কণ্ঠ জুড়ে ভাঙা সুর - তোমার হাতের চিঠিটা আমি পড়েছি,  ভালোবাসার ইতিহাসে যে সব চিঠি আসে  তা এমনই হয়,  মনটা অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেল।  “বলতে পারো, কি হয়েছে তোমার?” একটা ভরসা,  নিঃশব্দে হারিয়ে গেলে ব্যথা পাওয়ার কি আছে? একটু চুপ থেকে ভাবো  “বাড়ির কথা মনে পড়ছে তোমার? তোমার মা তোমার বাবা কত কষ্ট করে  এখানে পাঠিয়েছে, কত ভরসা নিয়ে একটা মেয়ে তোমার জীবনে সব? কেঁদোনা আয়না, ও তোমার যোগ্য নয়, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? আমি অবাক হচ্ছি - মাত্র সাত মাসের হোয়াটস অ্যাপ নন্দন চত্বরে ক দিনের স্পর্শ উষ্ণতার দেয়া নেয়া,  হালকা ওষ্ঠের ছোঁয়া, জীবন বদলে দিলে? একটু হালকা হাসি, “চাইলেই কি পাওয়া যায় না?  তুমি তো স্বাধীন।” এক মিনিটে বিশ্ব ঘুরতে পারো ঘুরে আসো, জগৎ তোমার অধীনে। কি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছো? “তোমার প্রেমিকা তোমার ছিল না,  সে তো অন্যের ঘরের ঘরণী। তোমাকে বিক্রি করে, তার ভিত মজবুত করেছে, কেন কাঁদছো আয়না? বরং এত দিন যে কারাগারে ছিল - মুক্তি পেয়েছ। কথাগুলো শুনে বুকট...